শিশুর নামে ধর্ষণ মামলা : ৬ পুলিশকে বরখাস্তের আদেশ চেম্বারে স্থগিত

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:৪৫ পিএম, ২০ জুন ২০২১ | আপডেট: ০৮:২২ পিএম, ২০ জুন ২০২১
ফাইল ছবি

বরিশালে এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে ২০২০ সালে চার শিশুর বিরুদ্ধে করা মামলার ঘটনায় বাকেরগঞ্জ থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল কালামসহ ছয় পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করে হাইকোর্টের দেয়া আদেশ চার সপ্তাহের জন্য স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালত।

একই সঙ্গে বরিশালের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. এনায়েত উল্লাহর ফৌজদারি বিচারিক ক্ষমতা প্রত্যাহার করে তাকে দেওয়ানি মামলার দায়িত্ব দেয়ার আদেশ এবং সমাজসেবা অফিসারের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশও স্থগিত করা হয়েছে।

এছাড়া ছয় বছরের শিশুকে ধর্ষণ করার অভিযোগে চার শিশুকে আটক অবৈধ ঘোষণা ও তাদের বিরুদ্ধে বরিশালের বাকেরগঞ্জ থানায় করা মামলা বাতিল করে হাইকোর্টের দেয়া রায়ও চার সপ্তাহের জন্য স্থগিত করা হয়েছে।

সেইসঙ্গে বিষয়টি আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে আগামী ১ আগস্ট শুনানির জন্য পাঠিয়েছেন চেম্বার জজ আদালত। আদেশের বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মো. মোমতাজ উদ্দিন ফকির।

রোববার (২০ জুন) আপিল বিভাগের বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের ভার্চুয়াল চেম্বার জজ আদালত শুনানি নিয়ে এ আদেশ দেন।

আদালতে আজ আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন সাবেক অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মো. মোমতাজ উদ্দিন ফকির। চার শিশুর পক্ষে শুনানিতে ছিলেন ব্যারিস্টার মো. আব্দুল হালিম। তাকে সহযোগিতা করেন অ্যাডভোকেট এস এম রেজাউল করিম, এ এম জামিউল হক ফয়সাল, শারমিন আক্তার।

এর আগে গত ১৩ জুন হাইকোর্টের দেয়া রায়ে চার শিশুকে যশোরের পুলেরহাট শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোয় বরিশালের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. এনায়েত উল্লাহর ফৌজদারি বিচারিক ক্ষমতা প্রত্যাহার করে তাকে দেওয়ানি মামলার দায়িত্ব দিতে বলা হয়।

চার শিশুর বিরুদ্ধে মামলা নেয়ার সঙ্গে যুক্ত বাকেরগঞ্জ থানার সেই সময়কার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল কালামসহ দুই পুলিশ কর্মকর্তা এবং শিশুদের গ্রেফতারের সঙ্গে যুক্ত চার পুলিশকে সাময়িক বরখাস্ত করে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়।

এছাড়া যথাযথ দায়িত্ব পালন না করায় সংশ্লিষ্ট সমাজ সেবা কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়। রায়ে শিশু আইন অনুযায়ী পুলিশের দায়িত্ব কর্তব্য নির্ধারণ করে তা গাইডলাইন আকারে প্রকাশ করতে বলা হয়। এ নিয়ে আদালত মোট সাত দফা নির্দেশনা দেন।

ছয় বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে চার শিশুকে আসামি করে গত বছর ৬ অক্টোবর মামলা করা হয়। এ মামলায় ওইদিনই চার শিশুকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এর পরদিন ৭ অক্টোবর বরিশালের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এনায়েত উল্লাহর এক আদেশে ওই চার শিশুকে যশোর পুলেরহাট শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়। এ নিয়ে একটি বেসরকারি টেলিভিশনে প্রচারিত সংবাদ নজরে আসার পর ওই বছরের ৮ অক্টোবর রাতে আদালত বসিয়ে চার শিশুকে জামিনে মুক্তি দিয়ে তাদের অভিভাবকের কাছে পৌঁছে দিতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। এরপর পরদিন সকালেই চার শিশুকে নিজ নিজ বাড়িতে অভিভাবকের কাছে পৌঁছে দেয় প্রশাসন।

পরবর্তীতে ১১ অক্টোবর চার শিশু ও তাদের অভিভাবকসহ ম্যাজিস্ট্রেট, সমাজসেবা কর্মকর্তা, পুলিশ সদস্যরা হাইকোর্টে হাজির হন। আদালত তাদের বক্তব্য শোনার পর রুল জারি করেন ও রুলের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মামলার কার্যক্রম স্থগিত করেন।

পরে ওই মামলায় চিলড্রেন চ্যারিটি ফাউন্ডেশন এবং বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট) পক্ষভুক্ত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি শেষে আজ এই রায় দেন হাইকোর্ট।

এফএইচ/এমআরআর/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]