পিপলস লিজিং পুনর্গঠনে বাংলাদেশ ব্যাংকের বক্তব্য শুনবেন হাইকোর্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:৪৬ পিএম, ২১ জুন ২০২১ | আপডেট: ০৯:৪৮ পিএম, ২১ জুন ২০২১

বেসরকারি প্রতিষ্ঠান পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেডকে পুনর্গঠন বা পুনরুজ্জীবিত করা হবে কিনা- সে বিষয়ে আদেশের জন্য আগামী ২৮ জুন দিন ঠিক করেছেন হাইকোর্ট। ওই দিন বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অবস্থান বা মতামত শুনবেন আদালত।

সোমবার (২১ জুন) পিপলস লিজিং সংশ্লিষ্ট ২০১ জন আমানতকারীর বক্তব্যের ওপর শুনানি নিয়ে হাইকোর্টের বিচারপতি মোহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের ভার্চুয়াল একক বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে আজ আমানতকারীদের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট আহসানুল করিম। অবসায়কের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার মেজবাহুর রহমান। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার তানজিব উল আলম।

ব্যারিস্টার তানজিব উল আলম জাগো নিউজকে বলেন, বর্তমানে পিপলস লিজিংয়ের কোনো পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কমিটি নেই। সেখানে অবসায়ক হিসেবে একজনকে নিয়োগ দেয়া হয়েছিল। তিনি দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এখন ওনাকে বাদ দিয়ে একটা বোর্ড (পরিচালনা পর্ষদ) গঠন করতে চান আদালত। সেই বোর্ড গঠনের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক মতামত বা অবস্থান জানতে এই আদেশ দেন। সাথে সাথে আগামী সোমবার এ বিষয়ে শুনানির জন্য রাখেন হাইকোর্ট।

ব্যারিস্টার মেজবাহুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, বর্তমানে পিপলস লিজিংয়ের কোনো পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কমিটি নেই। আদালতের নির্দেশে বাংলাদেশ ব্যাংকের উপমহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান অবসায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অবসায়ক চেষ্টা করছেন, আদালতের মাধ্যমে ঋণের টাকা ফেরত আনার। এখন পর্যন্ত মাত্র ৪০ কোটি আদায় হয়েছে। যদিও আমানতকারীরা এখনই কোনো টাকা ফেরত পাচ্ছেন না। ফলে মানবেতর জীবনযাপন করছেন অনেক আমানতকারী। এ অবস্থায় পিপলস লিজিং পুনর্গঠনের জন্য হাইকোর্টে আবেদন করেছেন আমানতকারীরা। আজ শুনানি নিয়ে এই আদেশ দেন।

উল্লেখ্য, ১৯৯৭ সালের ২৪ নভেম্বর আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে পিপলস লিজিংকে অনুমোদন দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। আর ২০১৯ সালের জুলাইয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পিপলস লিজিংকে অবসায়নের পক্ষে সম্মতি দেয় সরকার। এরপর আদালতের আদেশে নিযুক্ত হন অবসায়ক।

পিপলস লিজিং থেকে টাকা নিয়ে ফেরত না দেয়া ১২৯ জনের মধ্যে বিদেশে পলাতক প্রশান্ত কুমার (পিকে) হালদার একজন। তালিকায় তার নাম উঠে এসেছে পাঁচবার। তিনি একাই পৃথক চারটি কোম্পানি ও নিজের নামে মোট পাঁচটিতে ২৫৩ কোটি ৯৩ লাখ ৮৯ হাজার ৭৬৩ টাকা ঋণ নিয়েছেন।

এফএইচ/বিএ/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]