জাবির ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের সভাপতি নিয়োগ স্থগিত

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩:১০ পিএম, ২৬ জুলাই ২০২১
ফাইল ছবি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ নজরুল ইসলামের নিয়োগ কার্যক্রম ৩০ দিনের জন্য স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট।

এ সংক্রান্ত আবেদনের শুনানি নিয়ে সোমবার (২৬ জুলাই) হাইকোর্টের বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিমের ভার্চুয়াল বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে আবেদনের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন আব্দুল আলিম মিয়া জুয়েল। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার।

আইনজীবী আব্দুল আলিম মিয়া জুয়েল বলেন, ‘আমার মক্কেল ড. মো. শাহেদুর রশিদ ওই বিভাগের একজন সিনিয়র শিক্ষক। আইন অনুযায়ী পরবর্তী সভাপতি পদ তিনিই প্রাপ্য। কিন্তু তাকে ওভারটেক করে তার থেকে একজন জুনিয়রকে ওই বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তাই ওই নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে আসেন ড. মো. শাহেদুর রশিদ। বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিটের শুনানি নিয়ে ৩০ দিনের জন্য ওই নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত করেন হাইকোর্ট।’

গত ১৮ জুলাই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে ড. নজরুল ইসলামকে নিয়োগ দিয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. মঞ্জুরুল হাসানের নিয়োগের মেয়াদ ২৫ জুলাই শেষ হবে। এ বিভাগের জ্যেষ্ঠতম শিক্ষক অধ্যাপক ড. মো. শাহেদুর রশিদের বিরুদ্ধে একটি তদন্ত চলমান রয়েছে। এ অবস্থায় ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের তৎপরবর্তী জ্যেষ্ঠতম শিক্ষক অধ্যাপক ড. মুহম্মদ নজরুল ইসলামকে ২৬ জুলাই থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত উক্ত বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হলো। তিনি প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী সুবিধাদি ভোগ করবেন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের ৫ জুলাই ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থী আদিবা সুমাইয়া একই বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. শাহেদুর রশীদের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানিমূলক আচরণের বিরুদ্ধে উপাচার্য বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন। বিষয়টি তদন্তের জন্য যৌন নিপীড়নবিরোধী সেলের আহ্বায়কের নিকট পাঠানো হয়। এরপর থেকে তার বিরুদ্ধে ওই অভিযোগ তদন্তাধীন।

এ বিষয়ে তার আইনজীবী আব্দুল আলিম মিয়া জুয়েল বলেন, ‘আমার মক্কেলের বিরুদ্ধে যে অভিযোগে তদন্ত আজ তিন বছর ২৫ দিন ধরে চলমান আছে। এটি এখন বাতিল হয়ে গেছে। তার কারণ যৌন হয়রানি আইনে বলা আছে, এ অভিযোগের তদন্ত ৩০ দিনের মধ্যে শেষ করতে হবে। এরপর সর্বোচ্চ ৬০ দিনের সময়সীমা বেধে দেয়া আছে। অথচ আজকে তিন বছর ২৫ দিন ধরে তদন্ত দীর্ঘায়িত করা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাকে সভাপতির আসন থেকে ফেরাতেই মূলত পূর্ব পরিকল্পনা করে এটি করা হয়েছে। যা আমরা আদালতেও বলেছি।’

তদন্তের বিষয়ে জানতে চাইলে জাবির যৌন নিপীড়নবিরোধী সেলের প্রধান অধ্যাপক রাশেদা আখতার বলেন, ‘লকডাউনের কারণে তদন্ত আপাতত বন্ধ আছে। করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় আমরা কোনো কাজ করতে পারছি না। তদন্তের কাজটি যেহেতু ভার্চুয়াল করা যায় না। সেজন্য দেরি হচ্ছে। এছাড়া তদন্ত কমিটির সদস্যও বার বার পরিবর্তন হওয়াও একটি কারণ। এই তদন্ত কমিটির মধ্যে একজন পুরুষ সদস্য ছিলেন পরে তিনি পদত্যাগ করেন। এরপর আবার নতুন একজন নিয়োগ দিতে বিলম্ব হওয়ায় মূলত তদন্ত দেরি হচ্ছে।’

এফএইচ/জেডএইচ/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]