‘ঘটনা সত্য’ নাটকের সবাইকে বিচারের মুখোমুখি করাতে চাই : সুমন

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬:১১ পিএম, ২৭ জুলাই ২০২১

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন লোকদের বিনা পয়সায় আইনি সহায়তা দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্রীয় আইন সম্পাদক ও ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। একই সঙ্গে ‘ঘটনা সত্য’ নামক নাটকে সংশ্লিষ্ট সবাইকে বিচারের মুখোমুখি করারও মতামত ব্যক্ত করেন।

মঙ্গলবার (২৭ জুলাই) দুপুরে নিজ এলাকায় একটি চা বাগানের পাশে দাঁড়িয়ে ফেসবুক লাইভে এসে তিনি এ কথা বলেন।

শুরুতেই ব্যারিস্টার সুমন বলেন, ‘আমি একটি চা বাগানে আসছিলাম এখানে। এই চা বাগানে দেখলাম লোকজন কাজ করছেন। আমার পেছনে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন লোক কাজ করছেন।’

এ সময় একটি নাটকের কথা উল্লেখ করে সুমন বলেন, ‘আপনারা জানেন যে বাংলাদেশে একটি নাটক আছে। নাম ‘ঘটনা সত্য’। এই নাটকের মধ্যে যারা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষ এবং তাদের বাবা-মাকে অপমান করে, তাদের অনুভূতিতে আঘাত দিয়ে কথা বলা হয়েছে। বলা হয়েছে- যারা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু এটা না-কি তাদের বাবা-মায়ের পাপের ফল।’

একপর্যায়ে পাশে কাজ করতে থাকা এক নারীকে ডেকে এই আইনজীবী বলেন, ‘এই দিদির পায়ে সমস্যা। উনার পায়ের সমস্যা বলে আমাদের এখানে চা বাগানের ম্যানেজার যারা আছেন, তারা তাকে কঠিন কোনো কাজ দেন না। নরমাল, হালকা কাজ দিয়ে তাকে চেষ্টা করে যাচ্ছেন মেইন সোসাইটিতে নিয়ে আসার জন্য, যা যা সুবিধা দেয়া যায় সেই সুবিধা দিয়ে।’

এ সময় ব্যারিস্টার সুমন নারীকে জিজ্ঞেস করেন, ‘দিদি আপনাকে যে সুবিধা দেয় আপনার কেমন লাগে? ভালো লাগে আপনার? এই যে আপনাকে কঠিন কাজ দিলে কি করতে পারতেন? আপনি তো পারতেন না?’

তিনি বলেন, ‘এই বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন দিদিকে দেখে মনে হইল, যারা বাংলাদেশের নাটক বানান, সিনেমা করেন, তাদের ধরে নেয়া হয় সংস্কৃতিকর্মী। তারা সাধারণ মানুষের চেয়ে অনেক বেশি সংবেদনশীল। ‘ঘটনা সত্য’ যারা এই নাটকটি বানালেন, দুঃখ প্রকাশ করে তারা এই নাটকটি ইউটিউব থেকে সরিয়ে নিয়েছেন।’

‘কিন্তু ইউটিউব থেকে সরিয়ে নিলেও যারা দুঃখ-কষ্ট পাওয়ার তাদেরকে তো ১২টা বাজাইয়া দিয়েছেন আপনারা। যেমন আফরান নিশো এবং কার কার, নায়ক-নায়িকা দেখলাম, তাদেরকে দেখে আমার মনে হয়েছে যে, এদের মতো নাট্যকর্মীরাও যদি সংবেদনশীল না হয়, তাহলে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ আমি বলে দিচ্ছি ১২টা বেজে গেছে।’

ব্যারিস্টার সুমন আরও বলেন, ‘এই দিদিকে যদি বলেন, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন বাচ্চাকে যদি বলেন- সে তার বাবা-মায়ের পাপের ফল, এর বাবা মাকেও আপনি কিন্তু প্রতিবন্ধী বানিয়ে দিলেন। আপনার কিন্তু বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন লোকদের সামাজিকভাবে মেইন স্ট্রিমে আনার কথা, কিন্তু আপনি আনতে পারলেন না।’

ব্যারিস্টার সুমন এই পর্যায়ে এসে বলেন, ‘আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি, হয়তো ৩-৪ তারিখের দিকে ঢাকা ফিরব। আমি আইনি সহযোগিতা দিতে চাই। আমি মনে করি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ছেলে-মেয়ের বাবা-মা কেউ যদি মামলা করতে চান, আপনাদের পক্ষে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে তাদের বিরুদ্ধে আমি মামলা করতে রাজি আছি।’

তিনি বলেন, ‘আমি ব্যারিস্টার হিসেবে আপনাদের পক্ষে দাঁড়াব। আপনারা আমার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। আমি দেখতে চাই যে, কতদূর এদের নিয়ে যাওয়া যায়। কারণ এটা যদি একটা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় নিয়ে আসা না যায়।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের কথা উল্লেখ করে ব্যারিস্টার সুমন বলেন, ‘যেখানে আপনারা জানেন যে আমাদের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রীর মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল উনি অনেক কষ্ট করে যাচ্ছেন এসব বাচ্চাদের মেইন স্ট্রিমের নিয়ে আসার জন্য। এনিয়ে আমরা আন্তর্জাতিকভাবে বিভিন্ন পুরস্কারও পাওয়ার পর, আমাদের নাট্যকাররা, নাট্যকর্মীরা যদি, এ ধরনের অপমান-অপদস্থ এই বাচ্চার বাবা-মাকে করেন, তাহলে আর কোনো দিন সোনার বাংলা বানাতে পারবেন না।’

একপর্যায় এসে ব্যারিস্টার সুমন বলেন, ‘আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি ঢাকা ফিরেই, আপনারা যে কেউ আসেন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ছেলে-মেয়ের বাবা-মা যদি মামলা করতে চান, আমি আপনাদের পক্ষে বিনা পয়সায় আইনজীবী হিসেবে লড়ব। ‘ঘটনা সত্য’ এই নাটকের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের সবাইকে আদালতে বিচারের মুখোমুখি করাতে চাই।’

এফএইচ/জেডএইচ/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]