সাবেক চেয়ারম্যানকে হেয় করতেই পত্রিকায় খবর, দাবি দুদকের

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১১:২৩ এএম, ০৩ আগস্ট ২০২১

বিদায়ের আগে দুর্নীতির ‘বহু রাঘববোয়ালকে ছেড়ে দিয়েছেন সাবেক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ’, এমন অভিযোগ বিভ্রান্তিমূলক এবং প্রকাশিত খবর বস্তুনিষ্ঠ নয় বলে দাবি করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের সাবেক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য এমন খবর পত্রিকায় প্রকাশ করা হয়েছে বলেও দাবি তাদের।

দুদক পরিচালক আবুল হাসনাত মো. আবদুল ওয়াদুদ স্বাক্ষরিত প্রতিবেদনে এমন দাবি করা হয়েছে। প্রতিবেদনটি এফিডেভিট করার পরে হাইকোর্টে দাখিল করা হবে।

দুদকের আইনজীবী খুরশিদ আলম খান বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘দুদকের পক্ষ থেকে প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। দুদকের প্রতিটি কাজ কমিশনের সকলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হয়। এখানে ইকবাল মাহমুদের একার কোনো কাজ নেই। উনাকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্যই পত্রিকায় খবর প্রকাশ করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘যেহেতু এখনও প্রতিবেদনটি এফিডেভিট আকারে সম্পূর্ণ প্রস্তুত হয়নি, তাই এখনই আদালতে জমা দেয়া হবে না। আশা করি আদালত নিয়মিত চালু হলে এটি হাইকোর্টে জমা দেয়া হবে।’

প্রতিবেদনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘একটি জাতীয় দৈনিকে ‘দুদকে অনুসন্ধান বাণিজ্য’ শিরোনামে সংবাদটি প্রকাশিত হয় গত ১৪ মার্চ। প্রতিবেদনে বলা হয় ‘বিদায়ের আগে দুর্নীতির বহু রাঘববোয়ালকে ছেড়ে দেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সাবেক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ। তাদের দায়মুক্তি আড়াল করতে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেন কিছু নিরীহ ও দুর্বল ব্যক্তিকে। সব মিলিয়ে শেষ ৫ মাসে তিনি দুই শতাধিক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে দুর্নীতির অভিযোগ থেকে অব্যাহতি (দায়মুক্তি) দেন।’

পরে গত ১৬ মার্চ প্রতিবেদনটি হাইকোর্টের একটি বেঞ্চের নজরে আনেন সংশ্লিষ্ট কোর্টের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন মানিক। শুনানি নিয়ে সংবাদে প্রকাশিত তথ্যের বিষয়ে কমিশনের অবস্থান ব্যাখ্যাসহ ২০২০ সালের ১০ অক্টোবর থেকে ১০ মার্চ পর্যন্ত সময়ে দুর্নীতি দমন কমিশন কর্তৃক কতটি সংস্থা/প্রতিষ্ঠান/কোম্পানি/ফার্ম/ব্যক্তি/স্থাপনাকে অনুসন্ধান/তদন্ত কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে তার তালিকা দাখিলের নির্দেশনা প্রদান করেন হাইকোর্ট।

দুদক যে প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে সেখানে বলা হয়েছে, ‘ওই পত্রিকায় যে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে তা সঠিক নয়। সংবাদটি বাস্তবতা বিবর্জিত এবং সংবাদে উপস্থাপিত তথ্যসমূহ বস্তুনিষ্ঠ নয়। দুর্নীতি দমন কমিশন উক্ত সংবাদের বিষয়বস্তুর সঙ্গে একমত নয়। সংবাদে যে ৫ মাস সময়কালের উল্লেখ করা হয়েছে সে সময়ে কমিশনের কার্যক্রম অন্যান্য সব সময়ের মতোই স্বাভাবিক প্রক্রিয়া অনুসরণপূর্বক যথাযথ নিয়ম, আইন ও বিধিবিধান অনুসারে সম্পন্ন করা হয়েছে। এখানে আইন বা বিধির কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি।’

১৬ মার্চের শুনানিতে দুদকের সাবেক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ শেষ পাঁচ মাসে কতজনকে দুর্নীতির অভিযোগ থেকে অব্যাহতি (দায়মুক্তি) দিয়েছেন তার তালিকা চান হাইকোর্ট। একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদন নজরে আসার পর বিচারপতি মো নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি মহি উদ্দিন শামীমের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

তাদের নাম, ঠিকানাসহ তালিকা ১১ এপ্রিলের হাইকোর্টে দাখিল করতে দুদককে বলা হয়। কিন্তু করোনা প্রাদুর্ভাবের কারণে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চ বন্ধ থাকায় তা জমা দেওয়া যায়নি।

এফএইচ/এমএইচআর/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]