বিমানের সাবেক ১৭ সিবিএ নেতার দুর্নীতি তদন্ত নিয়ে রুল

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩:২৬ পিএম, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২১
ফাইল ছবি

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সাবেক ১৭ সিবিএ নেতার বিরুদ্ধে দুর্নীতি তদন্তের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। দুর্নীতি দমন কমিশনসহ (দুদক) সংশ্লিষ্টদের আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) সভাপতি অ্যাডভোকেট মানজিল মোরশেদ জাগো নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এইচআরপিবির এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার (১৫ সেপ্টেম্বর) হাইকোর্টের বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি এসএম মজিবুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত ভার্চুয়াল বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।

এদিন আদালতে এইচআরপিবির পক্ষে শুনানিতে ছিলেন অ্যাডভোকেট মানজিল মোরশেদ। দুদকের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ফৌজিয়া আখতার আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মাহজাবিন রাব্বানী দীপা ও আন্না খানম কলি।

মনজিল মোরশেদ জাগো নিউজকে বলেন, এর আগে চলতি বছরের ২৮ জানুয়ারি হাইকোর্টের নোটিশের পরিপ্রেক্ষিতে দুদক কী পদক্ষেপ নিয়েছে, তা জানতে চাওয়া হয়।

পরে হলফনামা আকারে দুদক জানায়, অনুসন্ধানে কিছু না পাওয়ায় ১৭ সিবিএ নেতাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। আদালত পুরো নথি তলব করেন। নথিতে দেখা যায়, ১৭ সিবিএ নেতার সম্পদের বিষয়ে ব্যাংক, বীমা, রেজিস্ট্রি অফিসসহ অন্যান্য উৎসে অনুসন্ধান হয়নি। তখন যথাযথ অনুসন্ধানের নির্দেশনা চেয়ে আবার সম্পূরক আবেদনটি করা হলে আজ আদালত ওই রুল জারি করে নির্দেশ দেন। দুদকসহ বিবাদীদের চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

২০১৪ সালের জানুয়ারিতে বিমানের তৎকালীন ১৭ সিবিএ নেতার বিরুদ্ধে দুর্নীতির বিষয় তদন্তের জন্য নোটিশ দেয় দুদক। পরে সিবিএ নেতা মো. মশিকুর রহমান, আজাহারুল ইমাম মজুমদার, আনোয়ার হোসেন, মো. ইউনুস খান, মো. মনতাসার রহমান, মো. রুবেল চৌধুরী, মো. রফিকুল আলম, মো. আতিকুর রহমান, মো. হারুনর রশিদ, আবদুল বারী, মো. ফিরোজুল ইসলাম, মো. আবদুস সোবহান, গোলাম কায়সার আহমেদ, মো. আবদুল জব্বার, মো.আবুল কালাম, আসমা খানম ও মো. আবদুল আজিজ ওই নোটিশে দুদকে হাজির হতে অস্বীকৃতি জানায়।

এ বিষয়ে দুদকের পক্ষ থেকে আর কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি মর্মে গণমাধ্যমে আসা প্রতিবেদন সংযুক্ত করে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের পক্ষে হাইকোর্টে রিট করা হয়। রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ওই বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট রুল জারি করেন। রুলে দুদকের পদক্ষেপ গ্রহণে নিষ্ক্রিয়তা কেন বে-আইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক জাগো নিউজকে বলেন, এর আগে গত ২৮ জানুয়ারি হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট ভার্চুয়াল বেঞ্চ ২০১৪ সালে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ১৭ সিবিএ নেতাকে পাঠানো দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দেয়া নোটিশের পরিপ্রেক্ষিতে কী পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে, তা দুদকের কাছে জানতে চান।

নোটিশের পর নেয়া পদক্ষেপ ৭ দিনের মধ্যে দুদকসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষের কাছে জানতে চেয়ে আদেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। তারই আলোকে শুনানির নির্ধারিত দিনে দুদকের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে অগ্রগতি দাখিল করা হয়।

এর আগে ২০১৪ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি জারি করা রুলের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত মো. মশিকুর রহমানসহ বিমানের ১৭ জন সিবিএ নেতার দুর্নীতি তদন্ত করার জন্য দুদকসহ সংশ্লিষ্টদের আদেশ দেন।

এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক জানান, ২০১৪ সালে করা একটি রিটের জারিকৃত রুলের শুনানি শেষে আদালত এই আদেশ দিয়েছেন।

আইনজীবীদের তথ্যমতে, বিমানের সিবিএ নেতাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির বিষয়ে তদন্তের জন্য ২০১৪ সালে দুদক নোটিশ দেয়। তবে তারা হাজির হতে অস্বীকার করেন।

এ বিষয়ে দুদকের পক্ষ থেকে আর কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি বলে গণমাধ্যমে আসা প্রতিবেদন সংযুক্ত করে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের পক্ষে হাইকোর্টে রিট করা হয়। রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ওই বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট রুল জারি করেন। রুলে দুদকের পদক্ষেপ গ্রহণে নিষ্ক্রিয়তা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়।

আইনজীবী মনজিল মোরশেদ জানান, ওই রুল শুনানির জন্য দিন ধার্য ছিল আদালতে। কোনো ব্যক্তিকে দুদক থেকে নোটিশ দেয়া হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সে বিষয়ে সাড়া না দিলে আইন অনুযায়ী দুদক তার বিরুদ্ধে মামলা দিতে পারে। অথচ ১৭ সিবিএ নেতার ক্ষেত্রে কোনো মামলা হয়েছে কি না, তা আদালতকে জানানো হয়নি। এ প্রেক্ষাপটে আদালত এ আদেশ দেন।

এফএইচ/এমকেআর/জিকেএস/এমকেআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]