সিআইডির এসআই আকসাদুদ ফের দুইদিনের রিমান্ডে

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:৪৮ পিএম, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২১
ফাইল ছবি

বিদেশগামী এক ব্যক্তিকে তুলে নিয়ে সর্বস্ব লুটে নেওয়ার অভিযোগে করা মামলায় সিআইডির ঢাকা মেট্রোপলিটন (পূর্ব) বিভাগের উপ-পরিদর্শক (বরখাস্তকৃত) আকসাদুদ জামানের ফের দুদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

বুধবার (১৫ সেপ্টম্বর) পাঁচদিনের রিমান্ড শেষে তাকে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর বিমানবন্দর থানায় ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে করা মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য তাকে ফের পাঁচদিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের এসআই মাসুদুল ইসলাম। শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম নিভানা খায়ের জেসি তার দুদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার (৯ সেপ্টম্বর) তাকে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে ডিবি পুলিশ। এরপর বিমানবন্দর থানায় ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে করা মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য তাকে ১০ দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করা হয়।

অন্যদিকে তার আইনজীবী রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিনের আবেদন করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম দেবব্রত বিশ্বাস জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে তার পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

বুধবার (৮ সেপ্টেম্বর) রংপুরের মিঠাপুকুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। আকসাদুদ জামান নামে ওই কর্মকর্তা সিআইডির ঢাকা মেট্রোপলিটন (পূর্ব) বিভাগে উপ-পরিদর্শক (এসআই) হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

লুটের ঘটনায় সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে সম্প্রতি তাকে বরখাস্ত করা হয়। ডিবি পরিচয়ে তিনি এক বিদেশগামী যাত্রীর কাছ থেকে পাঁচ হাজার ইউএস ডলার, দুই হাজার দিরহাম ও দুই হাজার টাকা, দুটি মোবাইলসহ কাপড়-চোপড় ভর্তি ব্যাগ ছিনিয়ে নেন। এ ঘটনায় গ্রেফতারদের মধ্যে একজন চাকরিচ্যুত সেনা সদস্যও রয়েছেন বলে জানিয়েছে ডিবি।

ঘটনার তদন্তে ধারাবাহিকভাবে ছয়জনকে গ্রেফতার করা হলেও ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিলেন মূলহোতা এসআই আকসাদুদ জামান। প্রায় এক বছর পর বুধবার তাকে গ্রেফতার করে ডিবি ঢাকা উত্তরা বিভাগ।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত ১৯ অক্টোবর সকাল পৌনে ৭টায় ভুক্তভোগী বিদেশগামী একজন টিকাটুলির বাসা থেকে সিএনজিযোগে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাওয়ার জন্য বের হন। সকাল সাড়ে ৭টার দিকে তিনি কাওলা ফুটওভার ব্রিজের নিচে পৌঁছালে একটি মাইক্রোবাস তার সিএনজির গতিরোধ করে। এরপর মাইক্রোবাস থেকে দুজন নেমে ডিবি পরিচয়ে ভুক্তভোগীকে তার লাগেজসহ মাইক্রোবাসে তুলে নেয়।

তাকে হ্যান্ডকাপ পরিয়ে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে সঙ্গে থাকা পাঁচ হাজার ইউএস ডলার, দুই হাজার দিরহাম, দুই হাজার টাকা, দুটি মোবাইলসহ কাপড়-চোপড় ভর্তি ব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। সকাল ৯টার দিকে রাজধানীর স্টাফ কোয়ার্টার এলাকায় ভুক্তভোগীকে রাস্তার পাশে ফেলে পালিয়ে যায় তারা। এ ঘটনায় ২০ অক্টোবর বিমানবন্দর থানায় একটি দস্যুতার মামলা করেন ভুক্তভোগী।

ডিবিপ্রধান অতিরিক্ত কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার বলেন, ‘মামলাটি তদন্তের ধারাবাহিকতায় তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মো. মোশারফ হোসেন (৪৫), মো. সেলিম মোল্লা (৪২), মো. রিপন মোড়ল (৫৫), মো. আমির হোসেন তালুকদার (৫৬), মো. বিষ্ণু মিয়া সিকদার (২৫) ও মো. হাসান রাজাকে (৩৮) গ্রেফতার করা হয়। তাদের মধ্যে হাসান রাজাসহ কয়েকজন আদালতে জবানবন্দি দেন।’

গ্রেফতার আসামিদের পর্যালোচনায় জানা যায়, ডাকাতিতে সিআইডি ডেমরা জোনে কর্মরত (বর্তমানে বরখাস্ত হওয়া) এসআই মো. আকসাদুদ জামান প্রত্যক্ষভাবে জড়িত। তদন্তের একপর্যায়ে আকসাদুদ জামানকে গ্রেফতার করা হয়।

এ কে এম হাফিজ আক্তার বলেন, ‘মামলাটি থানা পুলিশের পাশাপাশি ছায়া তদন্ত শুরু করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের বিমানবন্দর জোনাল টিম। সড়কে থাকা সিসিটিভি ফুটেজ ও তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে গোয়েন্দা পুলিশ জানতে পারে এ চক্রটির সঙ্গে সিআইডির একজন উপ-পরিদর্শক জড়িত। আকসাদুদ জামান নামে ওই উপ-পরিদর্শক সিআইডির অফিসিয়াল গাড়ি নিয়ে ডাকাতিতে নেতৃত্ব দেন।’

তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, জড়িত আরও একজন রয়েছেন, যিনি পলাতক। গ্রেফতারদের মধ্যে একজন চাকরিচ্যুত সেনাসদস্যও রয়েছেন। সম্প্রতি এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। আমরা সবগুলো বিষয়ই তদন্তে আনছি।’

এ কে এম হাফিজ আক্তার আরও বলেন, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার বরখাস্ত হওয়া এসআই আকসাদুদ জামান ঘটনার দায় স্বীকার করেছেন।’ তার নেতৃত্বেই ডাকাতি হয়েছিল বলে তিনি জানান।

জেএ/এএএইচ/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]