মানুষ যেন আদালতে এসে ভোগান্তির শিকার না হয়

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:৩০ পিএম, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক সহ-সভাপতি (ভিপি) নুরুল হক নুর বলেন, আদালতের প্রতি আমাদের প্রত্যাশা থাকবে, এ ধরনের ন্যায়বিচারের দৃষ্টান্ত যেন অব্যাহত থাকে। মানুষ যেন আদালতে এসে ভোগান্তির শিকার না হন। মানুষ যেন ন্যায়বিচার পান।

রোববার (১৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশ শুনানি শেষে ছাত্র অধিকার পরিষদের ২০ নেতাকর্মীর জামিন মঞ্জুর করেন। এরপর আদালত প্রাঙ্গণে এসব কথা বলেন ভিপি নুরুল হক নুর।

তিনি বলেন, ‘মোদীবিরোধী আন্দোলনের সময় আমাদের ৬২ জন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছিল। তারা অনেকে চার-পাঁচ মাস এ মামলায় কারাভোগ করেছেন। তাদের মধ্যে আজ ২০ জন জামিন পেয়েছেন।’

ভিপি নুর বলেন, ‘মিছিল করা গণতান্ত্রিক অধিকার। এজন্য কোনো নাগরিককে পাঁচ-ছয় মাস জেলে রাখা যায় না। যারা কারাগারে ছিলেন তাদের অমানবিক নির্যাতন করা হয়েছে। বিশেষ করে শাহবাগ থানায় কয়েকজনকে চোখে মরিচ ভেঙে দিয়েছে। মতিঝিল থানায় কয়েকজনকে যৌনাঙ্গে শক দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়গুলো আমরা একাধিকবার বলেছি কিন্তু আলোচনায় আসেনি। অভিযুক্তদের মধ্যে অনেকে ছাত্র। তারা জেলে বসে পরীক্ষা দিচ্ছেন। অনেকের সামনে পরীক্ষা রয়েছে। বিচারক এসব বিবেচনা করে তাদের জামিন মঞ্জুর করেছেন। এজন্য আদালতকে ধন্যবাদ জানাই।’

এর আগে গণস্বাস্থ্যের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বিচারককে উদ্দেশ করে বলেন, ‘ছাত্রদের অপরাধটা কি? পুলিশ মিথ্যা বলেছে, ছাত্রদের হাতে কোনো লাঠি ছিল না। আপনাকে (বিচারক) দেখে বঙ্গবন্ধুর কথা মনে পড়ছে। বঙ্গবন্ধুর যখন এজাতীয় মামলায় নিম্ন আদালতে শাস্তি হতো তখন তিনি জেলা আদালতে আসতেন। আর আপনার মতো বিচারক বঙ্গবন্ধুকে জামিন দিয়ে দিতেন। একজন বিচারকের দায়িত্ব হচ্ছে, আমাদের কথা বলতে দেওয়া ও কথা শোনা। বিচারক আমার কথা শুনেছেন। ন্যায় কাজ করেছেন।’

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাংলাদেশ সফরের প্রতিবাদে রাজধানীতে বাংলাদেশ ছাত্র ও যুব অধিকার পরিষদের মিছিল থেকে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় গ্রেফতার ছাত্র অধিকার পরিষদের ২০ জনের জামিন আবেদন করেন তাদের আইনজীবী।বিচারক শুনানি শেষে তাদের জামিন মঞ্জুর করেন।

জামিন পাওয়া আসামিরা হলেন- মো. ইউনুস, নাজমুল হাসান, নাহিদুল তারেক, মো. নাইম, আসাদুজ্জামান, আজহারুল ইসলাম, সোহেল মৃধা, মোস্তাক আহমেদ, আজিম হোসেন, মো. রুহুল ইসলাম সোহেল, আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জিশান, মো. সোহেল আহমদ, শেখ খায়রুল কবির, সবুজ হোসেন, হোলাম তানভীর, মো. হেমায়েত, ইসমাইল হোসেন, মো. রেজাউল করিম, মুনতাজুল ইসলাম ও কাজী বাহাউদ্দীন মনির।

জানা গেছে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাংলাদেশ সফরের প্রতিবাদে গত ২৫ মার্চ দুপুর ১২টার দিকে মতিঝিল শাপলা চত্বরে ছাত্র ও যুব অধিকার পরিষদের ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিল করা হয়। এতে আরও বেশ কয়েকটি সংগঠনের কর্মীরা অংশ নেন।

পুলিশ মিছিলের গতিরোধ করতে চাইলে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে। এসময় পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়ে। মিছিলকারীরাও পুলিশ লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এ ঘটনায় পরদিন মতিঝিল থানায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করে।

জেএ/এআরএ/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]