রাজারবাগ পীরের সম্পদের তথ্য চান হাইকোর্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:৩২ পিএম, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১

রাজারবাগ দরবারের পীর দিল্লুর রহমান ও তার দরবারের সব সম্পত্তির হিসাব চেয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে, এই দরবারের পীরের অনুসারীদের বিরুদ্ধে করা (রিটে উল্লেখিত ৮টি) মামলা তদন্ত করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে মামলার বিষয়ে প্রতিবেদন দেবে সিআইডি।

সেই সঙ্গে আদালত রিট আবেদনকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও বলেছেন।

এছাড়া সম্পদ ও ব্যাংক হিসাব ৬০ দিনের মধ্যে তদন্ত করে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিলের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে, তাদের সঙ্গে কোনো জঙ্গি সংগঠনের সম্পর্ক আছে কি না সেটিও খতিয়ে দেখার জন্য পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটকে (সিটিটিসি) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রুলে পীর ও তার মুরিদদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়েছেন আদালত।

হাইকোর্ট তার রুলে এই রিটের ভুক্তভোগীদের হয়রানি, অপদস্ত করতে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ফৌজদারী মামলাকারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তাও জানতে চেয়েছেন।

স্বরাষ্ট্র সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক, অতিরিক্ত মহাপরিচালক (বিশেষ শাখা), অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপরাধ তদন্ত বিভাগ), ঢাকার জেলা প্রশাসক, ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) উপ-মহাপরিদর্শক, গেয়েন্দা শাখার যুগ্ম কমিশনার, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান, রাজারবাগ দরবারের পীর দিল্লুর রহমান ও হয়রানিমূলক মামলার বাদীসহ বিবাদীদের এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

রাজারবাগ দরবারের পীর ও তার ম্যানেজারের সম্পদ এবং ব্যাংক হিসাব (অ্যাকাউন্টে থাকা অর্থের তথ্য) চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে রোববার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত ভার্চুয়াল বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে আজ আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার।

এর আগে গত ১৬ সেপ্টেম্বর ভুয়া মামলার সিন্ডিকেট খুঁজতে রাজারবাগ পীর ও তার লালিত চক্রের (মুরিদদের) দেশব্যাপী দায়ের করা গায়েবি মামলার বিষয়ে অনুসন্ধানের নির্দেশনা চেয়ে রিট আবেদন করা হয়।

ভুক্তভোগী সাত বছরের শিশু, ভুক্তভোগী নারী, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, মাদরাসার শিক্ষক, ব্যবসায়ীসহ পীরের মুরিদদের দায়েরকৃত মামলায় হয়রানির শিকার আট ব্যক্তির পক্ষে এ রিট দায়ের করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। রিট আবেদনে স্বরাষ্ট্রসচিব ও আইজিপিসহ ২০ জনকে বিবাদী করা হয়।

রিট আবেদনে রাজারবাগ পীর ও তার চক্রের সদস্যদের দেশব্যাপী ভুক্তভোগীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর, মানহানিকর মামলা দায়েরের বিরুদ্ধে কেন আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হবে না, এ মর্মে রুল জারির আর্জি জানানো হয়।

একই সঙ্গে রিট আবেদনকারীদের বিরুদ্ধে সারা দেশে করা মামলার বিষয়ে একটি তদন্ত চাওয়া হয়।

আইনজীবী শিশির মনির জানান, ওই রিটের শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট তার আদেশে রাজারবাগ দরবার শরীফ ও এই দরবার শরীফের পীর দিল্লুর রহমানের সম্পদের এবং ব্যাংক হিসাব তদন্ত করে তার তথ্য অনুসন্ধান করে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) তদন্ত প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। সেই সঙ্গে এই দরবার শরীফের পীরের অনুসারীরাদের করা (রিটে উল্লেখিত ৮টি) মামলার তদন্ত করে ৬০ দিনের মধ্যে হাইকোর্টে প্রতিবেদন দিতে সিআইডিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আর ওই দরবার শরীফ সংশ্লিষ্ট কেউ জঙ্গি তৎপরতার সঙ্গে জড়িত কি না, তা পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

এর আগে গত ১২ সেপ্টেম্বর এক রিটের শুনানিতে অন্যের জায়গা-জমি দখলের জন্য রাজারবাগ দরবার শরিফের পীরের কাণ্ড নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছিলেন হাইকোর্ট। মুরিদদের দিয়ে নিরীহ এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ৪৯টি মামলা দেওয়ার ঘটনায় সিআইডির তদন্ত রিপোর্ট দেখে আদালত এ বিস্ময় প্রকাশ করেন।

ওই দিন হাইকোর্ট বলেন, ‘পীর সাহেবের কাণ্ড দেখেন! জায়গা-জমি দখলের জন্য পীর সাহেবরা তাদের অনুসারী-মুরিদ দিয়ে কী করে দেখেন। যেখানে একটা মামলা দিলেই একজন মানুষের জীবন শেষ হয়ে যায়, সেখানে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে এত মামলা! এটাতো সিরিয়াস ব্যাপার।’

এফএইচ/এমএইচআর/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]