শিক্ষার্থী ধর্ষণ: সাফাতসহ পাঁচজনের যুক্তি উপস্থাপন ২৬ সেপ্টেম্বর

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:৫৭ পিএম, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১
ফাইল ছবি

রাজধানীর বনানীর দ্য রেইন ট্রি হোটেলে জন্মদিনের পার্টিতে দুই শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের ঘটনায় আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদের ছেলে সাফাত আহমেদসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে করা মামলার যুক্তি উপস্থাপনের জন্য ২৬ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল।

রোববার (১৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭-এর বিচারক বেগম মোসাম্মৎ কামরুন্নাহার এ দিন ধার্য করেন। এদিন আসামি সাফাত আহমেদ, রহমত আলী ও বিল্লাল হোসেনের পক্ষে তাদের আইনজীবী যুক্তি উপস্থাপন করেন।এদিন তাদের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন শেষ না হওয়ায় বিচারক ২৬ সেপ্টেম্বর পরবর্তী যুক্তি উপস্থাপনের দিন ধার্য করে আদেশ দেন।

এর আগে গত ১২ সেপ্টেম্বর ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭-এর বিচারক বেগম মোসাম্মৎ কামরুন্নাহার এদিন ধার্য করেন।এদিন আসামি নাঈম আশরাফের পক্ষে দ্বিতীয় দিনের মতো তার আইনজীবী যুক্তি উপস্থাপন করেন। এদিন তার পক্ষে আইনজীবী যুক্তি উপস্থাপন শেষ করেন। এরপর অপর আসামিপক্ষের আইনজীবীরা সময়ের আবেদন করেন। আদালত সময়ের আবেদন মঞ্জুর করে ১৯ সেপ্টেম্বর যুক্তি উপস্থাপনের জন্য দিন ধার্য করেছিলেন।

এর আগে গত ৫ সেপ্টেম্বর আদালতে রাষ্ট্রপক্ষ তাদের যুক্তি উপস্থাপন করেন। যুক্তি উপস্থাপন শেষে আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি প্রত্যাশা করেন তারা। এরপর আসামিপক্ষের আইনজীবীরা যুক্তি উপস্থাপন শুরু করেন। এদিন আসামি পক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষ না হওয়ায় ১২ সেপ্টেম্বর অবশিষ্ট যুক্তি উপস্থাপনের জন্য দিন ধার্য করেছিলেন আদালত।

চাঞ্চল্যকর এ মামলায় মোট ৪৭ জন সাক্ষীর মধ্যে এখন পর্যন্ত ২২ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে।

২০১৭ সালের ৭ জুন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের উইমেন সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন ডিভিশনের (ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার) পরিদর্শক ইসমত আরা এমি এ মামলায় পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। একই বছরের ১৯ জুন একই ট্রাইব্যুনাল আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন। ওই বছরের ১৩ জুলাই ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২-এর বিচারক শফিউল আজম পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচারের আদেশ দেন।

অভিযোগপত্রে আসামি সাফাত আহমেদ ও নাঈম আশরাফ ওরফে এইচ এম হালিমের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯ (১) ধারায় ধর্ষণের অভিযোগ করা হয়েছে। মামলার অন্য তিন আসামি সাফাত আহমেদের বন্ধু সাদমান সাকিফ, দেহরক্ষী রহমত আলী ও গাড়িচালক বিল্লাল হোসেনের বিরুদ্ধেও ওই একই আইনের ৩০ ধারায় ধর্ষণে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের ২৮ মার্চ রাত ৯টা থেকে পরদিন সকাল ১০টা পর্যন্ত আসামিরা মামলার বাদী ও তার বান্ধবী ও বন্ধুকে আটকে রাখেন। অস্ত্র দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন। পরে বাদী ও তার বান্ধবীকে জোর করে একটি কক্ষে নিয়ে যান আসামিরা। সেখানে বাদীকে সাফাত আহমেদ ও তার বান্ধবীকে নাঈম আশরাফ একাধিকবার ধর্ষণ করেন। আসামি সাদমান সাকিফকে দুই বছর ধরে চেনেন মামলার বাদী। তার মাধ্যমেই ওই ঘটনার ১০-১৫ দিন আগে সাফাতের সঙ্গে দুই শিক্ষার্থীর পরিচয় হয়। পরে সাফাত তার জন্মদিনের অনুষ্ঠানের কথা বলে ওই দুই শিক্ষার্থীকে আমন্ত্রণ জানালে তারা সম্মত হন। আমন্ত্রণ জানানোর সময় তাদের বলা হয়েছিল, বড় অনুষ্ঠান হবে, অনেক লোকজন থাকবে।

ঘটনার রাতে সাফাতের গাড়িচালক বিল্লাল ও দেহরক্ষী দুই শিক্ষার্থীকে বনানীর ২৭ নম্বর রোডে অবস্থিত হোটেল রেইন ট্রিতে নিয়ে যান। সেখানে গিয়ে তারা অন্য কোনো লোকজন দেখতে পাননি। তবে অন্য দুই তরুণীকে সাফাত ও নাঈম হোটেলের ছাদ থেকে নিচে নিয়ে যেতে দেখতে পান তারা। কোনো অনুষ্ঠানের আয়োজন না দেখে তারা চলে যেতে চাইলেও আসামিরা তাদের গাড়ির চাবি শাহরিয়ারের কাছ থেকে নিয়ে নেন। পরে তাকে মারধর করা হয়। এ পর্যায়ে বাদী ও তার বান্ধবীকে হোটেলের একটি রুমে নিয়ে ধর্ষণ করা হয়। এসময় সাফাত তার গাড়িচালককে ধর্ষণের মুহূর্ত ভিডিওধারণ করতে বলেন।

জেএ/এআরএ/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]