দুদক কর্মকর্তার ‘ঘুষ দাবির’ অডিও নিয়ে শুনানি ২৪ অক্টোবর

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০১:২৯ পিএম, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১

সম্পদের তথ্য গোপন এবং জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের ঘটনায় এক দম্পতির বিরুদ্ধে তদন্ত করার সময় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সহকারী পরিচালক মো. আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে ঘুষ দাবির অভিযোগে ধারণ করা অডিও এবং ভিডিও ক্লিপ তলব করেছিলেন হাইকোর্ট। বুধবার (২২ সেপ্টেম্বর) আদালতে তিন ফর্দে অডিও কললিস্ট দাখিল করা হয়েছে। পরে এ বিষয়ে শুনানির জন্য আগামী ২৪ অক্টোবর দিন ঠিক করেছেন আদালত।

বুধবার হাইকোর্টের বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি এসএম মুজিবুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত ভার্চুয়াল বেঞ্চ দিন ধার্য করেন।

আদালতে আজ রাষ্ট্রপক্ষের শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন মানিক। তার সঙ্গে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল আন্না খানম কলি ও মো. সাইফুর রহমান সিদ্দিকী সাইফ। দুদকের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী আশিফ হাসান। অন্যদিকে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী কামাল হোসেন।

এর আগে গত ৩ মার্চ দুদকের সহকারী পরিচালক মো. আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে ঘুষ দাবির অভিযোগে ধারণ করা অডিও এবং ভিডিও ক্লিপ তলব করেছিলেন হাইকোর্ট। ৭ মার্চ ওই অডিও এবং ভিডিও মামলার বাদীকে আদালতে দাখিল করার নির্দেশ দিয়েছিলেন আদালত। তারই ধারাবাহিকতায় আজ অডিও কললিস্ট আদালতে উপস্থাপন করা হয়।

জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের তথ্য জানাতে ২০১৯ সালের ৩ মার্চ ঢাকা সদরের সাবেক সাব রেজিস্ট্রার এবং বর্তমানে পিরোজপুরের জেলা রেজিস্ট্রার হিসেবে কর্মরত মো. আব্দুল কুদ্দুস হাওলাদার ও তার স্ত্রী মাহিনুর বেগমকে নোটিশ পাঠায় দুর্নীতি দমন কমিশন।

দুদকের (ঢাকা-১) উপ-পরিচালক মোহাম্মদ ইব্রাহিমের পাঠানো নোটিশের উপযুক্ত জবাব না পেয়ে ২০২০ সালের ২২ অক্টোবর ওই দম্পতির বিরুদ্ধে ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিচারিক আদালতের বিচারক কে এম ইমরুল কায়েশের আদালতে মামলা করে দুদক।

মামলায় দুদকের সহকারী পরিচালক মো. আলমগীর হোসেন বাদী হয়ে ২৪ লাখ ৭০ হাজার ৫৪৩ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন, ৯০ লাখ ১২ হাজার ৭৯৬ টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনপূর্বক দখল রাখার অভিযোগ আনা হয়।

মামলা দায়েরের পর তদন্তে নামেন দুদকের সহকারী পরিচালক মো. আলমগীর হোসেন। তদন্তের সময়ে তিনি আসামিদের অনৈতিক লেনদেনের প্রস্তাব দিতে থাকেন। দুদক কর্মকর্তার এমন প্রস্তাবে আসামিরা প্রতিকার খুঁজতে দুদকের কাছেই আর্জি জানান। ন্যায় বিচারের স্বার্থে অসাধু তদন্ত কর্মকর্তার পরিবর্তন চেয়ে দুই দফা দুদকে আবেদন জানান তারা। কিন্তু সেখানে সাড়া না পেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন তারা।

২০২০ সালের ১৭ নভেম্বর এবং চলতি বছরের গত ১ ফেব্রুয়ারি তদন্ত কর্মকর্তার পরিবর্তন চেয়ে ওই আবেদন জানান মো. আব্দুল কুদ্দুস হাওলাদার ও তার স্ত্রী মাহিনুর বেগম।

আবেদনে অভিযোগ করা হয়, ২০১৬ সালের ১৪ নভেম্বর থেকে ২০১৮ সালের ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত ঢাকা সদর সাব রেজিস্ট্রার হিসেবে দায়িত্বে থাকাকালে গণশুনানির মাধ্যমে জনৈক উমেদারের অনৈতিক চাহিদা আমার ওপর প্রতিষ্ঠিত করে ২০১৮ সালে দুদক আমার বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ গঠন করে। অভিযোগের ভিত্তিতে দুদকের তদন্ত কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। তদন্তকারী কর্মকর্তা আমাকে নোটিশ দিয়ে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে বললে আমি ও আমার ভাই তার সঙ্গে দেখা করি এবং আমাদের মোবাইল নম্বর দিয়ে আসি। পরে তদন্ত কর্মকর্তা তার ব্যক্তিগত মোবাইল থেকে আমার ভাইয়ের (মতিউর) সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং অনৈতিকভাবে টাকা দাবি করেন। এ বিষয়ে আমি অপারগতা প্রকাশ করলে তদন্ত কর্মকর্তা ক্ষুব্ধ হয়ে আমার দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণী আমলে না নিয়ে নিয়মিত মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে আদালত থেকে স্থায়ী জামিনপ্রাপ্ত হই।

এ অবস্থায় ন্যায়বিচারের স্বার্থে আবেদনের বিষয়বস্তু বিবেচনা করে একজন নিরপেক্ষ তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগের দাবি জানান তারা।

এ বিষয়ে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন মানিক বলেন, দুদকের একটি মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন তদন্ত করার সময় আসামিপক্ষের কাছে অনৈতিকভাবে টাকা দাবি করেন। এ কারণে ওই তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তনের জন্য গত ১ ফেব্রুয়ারি দুদকের চেয়ারম্যান বরাবর আবেদন করেন মামলার আসামি ঢাকা জেলার সাবেক সাব রেজিস্ট্রার আব্দুল কুদ্দুস এবং তার স্ত্রী মাহিনুর বেগম।

তাদের এ আবেদনে দুদক কোনো সাড়া না দেওয়ায় হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন তারা। ওই রিটের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানির সময় আদালত তাদের কাছে জানতে চান তদন্তকারী যে তাদের কাছে অর্থ দাবি করেছেন তার পক্ষে কী প্রমাণ আছে?

তখন আইনজীবী বলেন, ‘আমাদের কাছে এ বিষয়ে অডিও-ভিডিও আছে।’ সেই অডিও-ভিডিও হাইকোর্টে দাখিল করতে বলেন আদালত।

এফএইচ/এমআরআর/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]