ফ্ল্যাট কিনে প্রতারিত যেন না হন: ব্যারিস্টার সুমন

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩:৫৪ এএম, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২১

ঢাকা কিংবা ঢাকার বাইরে ভবিষ্যতে যারা ফ্ল্যাট কিনতে চান, প্রতারণার হাত থেকে বাঁচতে তাদের অনেক বেশি সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন।

তিনি বলেছেন, ভবিষ্যতে যারা ফ্ল্যাট কিনবেন, তারা আরো সতর্ক হয়ে কিনবেন। কারণ, আপনার কষ্টের ঘামের অর্জিত টাকা দিয়েই তো আপনি একটা আবাসস্থল বানাতে চান। সুতরাং সবাই সতর্ক থাকবেন, আপনার অবস্থা যেন তাদের (ফ্ল্যাট কিনে প্রতারিত ব্যক্তিদের দিকে ইঙ্গিত করে) মতো না হয়।

বুধবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণ থেকে ফেসবুক লাইভে এসে তিনি এসব কথা বলেন।

শুরুতেই ব্যারিস্টার সুমন বলেন, যারা ঢাকা শহরে বা বিভিন্ন জায়গায় ফ্ল্যাট কিনেছেন বা কিনতে চান বা ভবিষ্যাতে কোনো কারণে ফ্ল্যাটের মালিক হবেন- এ রকম চিন্তা করছেন, তাদের জন্য আজকের এ ভিডিওটি। কারণ, একটা ফ্ল্যাট কেনার কারণে কতো মানুষ যে সর্বসান্ত্ব হয়েছে, কতোগুলো কোম্পানি যারা রিয়েলস্টেট কোম্পানি নামে কম দামে ফ্ল্যাট দেবে বলে কতো মানুষকে যে পথে বসিয়েছে, এটার একটা উদাহরণ আপনাদের দেখাতে চাই।

ব্যারিস্টার সুমন বলেন, আজকে আমার কাছে যারা আসছেন আইনি সহায়তা নিতে, তারা বহু কষ্ট করে ঋণের টাকায় ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে একটা ফ্ল্যাট কিনেছিলেন। কার কাছ থেকে কিনছিলেন, কী অবস্থা হয়েছে, এটা ওনাদের মুখ থেকে শুনতে চাই। আপনি (ভুক্তভোগী) কি একটু বলবেন, কোথায় কার কাছ থেকে ফ্ল্যাট কিনছিলেন?

জবাবে পাশে দাঁড়ানো ব্যক্তি বলেন, আমরা বিডিডিএল (বিল্ডিং ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ডিজাইন লিমিটেড) কোম্পানি থেকে ফ্ল্যাট কিনেছিলাম। এটার অফিস লালমাটিয়ায়। আপনার ফ্ল্যাট কেনার টাকা-পয়সা সব বুঝিয়ে দিয়েছি। আমাদেরও ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সেখানে ২০১১ সাল থেকে আমরা বসবাস করছি। কোনো সমস্যা ছিল না। দীর্ঘদিন পরে ২০১৮ সালে এসে আমরা মানুষের মুখে মুখে শুনছি, এই ফ্ল্যাটের লোন আছে। এরপর আমরা খোঁজ নিয়ে জানতে পারি, এই জমি ও ফ্ল্যাট দেখিয়ে লোন নেওয়া হয়েছে।

‘এখন কি সমস্যা হচ্ছে’- ব্যারিস্টার সুমন জানতে চাইলে ভুক্তভোগী আরও বলেন, আদালত তো এখন ওই ফ্ল্যাট থেকে তুলে দেবে, অর্থ ঋণ আদালতে মামলা করেছে। বিডিডিএলের সঙ্গে কথা হয়েছে। তারা বলছে, ঋণ পরিশোধ তারা করে দেবে। কিন্তু দেবো দেবো করেই তারা সময় কাটাচ্ছে।

সুমন বলেন, আপনারা জিজ্ঞাসা করলেন না, কেন আমাদের সঙ্গে এমন প্রতারণা করলো। কেন বিক্রি করা জায়গার ওপরে লোন নিলো?

জবাবে ভুক্তভোগী বলেন, তারা বলছেন, আমরা লোন নিয়েছি, পরিশোধ করে দেবো।

‘আপনারা যখন কিনলেন, তখন বিডিডিএলের মালিক কারা ছিল’- এ প্রশ্নের উত্তর, এমডি ছিলেন নিজামুল সাইদ, ডিরেক্টর ছিলেন বাতেন খান আর চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম বিপু।

‘এরা কি এখনো আছে?’- সুমনের প্রশ্নে ওই ব্যক্তির উত্তর, ‘এখন বিডিডিএল থেকে তারা আলাদা কোম্পানি করেছে। কেউ করছে বিডিডিএল প্রোপার্টিজ, বাতেন খান আর নিজামুল সাইদ করেছেন বিডিডিএল হাউজিং। বিডিডিএল ঠিক রেখে বিভিন্ন নামে তারা কোম্পানি করেছে।

ব্যারিস্টার সুমন বলেন, এ বয়সে যদি বাড়িটা যায়, তাহলে বাঁচবেন কীভাবে? উত্তরে ভুক্তভোগী বলেন, আমাদের রাতে ঘুম হয় না। চাকুরি জীবনে টোটাল গ্র্যাচুয়েটি যে টাকাটা পেয়েছিলাম, সেটা দিয়েই এ ফ্ল্যাট কেনা। এখন ফ্ল্যাট নিয়ে গেলে রাস্তায় দাঁড়ানো ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। আমি হতাশায় ভুগছি।

লাইভ শেষ করার আগে সুপ্রিম কোর্টের এ আইনজীবী বলেন, শেষ করার আগে আমি বলতে চাই, সতর্কবাণী হচ্ছে- যারা ফ্ল্যাট কিনবেন, এই নব্য খারাপ লোকদের থেকে সতর্ক থাকবেন। আর বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বানাতে হলে এ ধরনের নিরীহ-নির্যাতিত লোককে বাঁচাতে হবে।

এফএইচ/এমকেআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]