ইসি গঠনে আইন প্রণয়নের রুল পেন্ডিং, হাইকোর্টে আরেক রিট আবেদন

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:০৪ পিএম, ১৩ অক্টোবর ২০২১
ফাইল ছবি

নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনে আইন প্রণয়নের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়ে ২০১৭ সালে হাইকোর্ট একটি রুল জারি করেছিলেন। ওই রুল পেন্ডিং থাকা অবস্থায় হাইকোর্টে আরও একটি রিট আবেদন করা হয়েছে।

২০১৭ সালের ১১ জানুয়ারি এ বিষয়ে রিট করেছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ। ওই রিটের শুনানি নিয়ে একই মাসের ৩০ জানুয়ারি রুল জারি করেছিলেন হাইকোর্ট। এর প্রায় চার বছর পরে এসে আবারও একই দাবিতে বুধবার (১৩ অক্টোবর) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিটটি করলেন রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ কংগ্রেসের মহাসচিব অ্যাডভোকেট মো. ইয়ারুল ইসলাম।

রিটে নির্বাচন কমিশন গঠনে সংবিধানের ১১৮ (১) অনুচ্ছেদে আইন করার নির্দেশনা চাওয়ার পাশাপাশি আইন প্রণয়নের আগ পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন গঠন সংক্রান্ত যাবতীয় কার্যক্রম স্থগিত রাখারও আর্জি জানানো হয়েছে।

রিটে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, আইন সচিব ও বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়েছে। হাইকোর্টের বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও মো. কামরুল হোসেন মোল্লার সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে এ আবেদনের শুনানি হতে পারে বলে জানা গেছে।

রিট আবেদনকারী আইনজীবী বলেন, নির্বাচন কমিশন আইন-২০২১ এর খসড়ার আলোকে আইন প্রণয়ন করার জন্য আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়েছিলাম। কিন্তু ওই চিঠি পাওয়ার পরেও নির্বাচন কমিশন গঠনে আইন প্রণয়নের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তাই এর প্রতিকার পেতে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেছি।

এর আগে ২০১৭ সালের ৩০ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন গঠনে আইন তৈরি করার নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। চার সপ্তাহের মধ্যে আইন সচিব, মন্ত্রিপরিষদ সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়।

হাইকোর্টের বিচারপতি মঈনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি জেবিএম হাসানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই আদেশ দিয়েছিলেন। জানতে চাইলে রিট আবেদনের পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইউনুছ আলী আকন্দ বলেন, ওই রুলের শুনানি এখনো শেষ হয়নি। এখনো ওই রুলটি পেন্ডিং আছে।

ওই রিট আবেদনে বলা হয়, সংবিধানের ১১৮ অনুচ্ছেদে নির্বাচন কমিশন গঠন ও দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সংবিধান ও আইনের অধীনে পরিচালিত হওয়ার কথা বলা থাকলেও এখন পর্যন্ত আইন প্রণয়ন করা হয়নি। একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান সংবিধানের বিধানের বাইরে চলতে পারে না।

নির্বাচন কমিশন প্রতিষ্ঠার বিষয়ে সংবিধানের ১১৮ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, (১) প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অনধিক চারজন নির্বাচন কমিশনারকে নিয়ে বাংলাদেশের একটি নির্বাচন কমিশন থাকবে এবং ওই বিষয়ে প্রণীত কোনো আইনের বিধান-সাপেক্ষে রাষ্ট্রপতি প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারকে নিয়োগ দেবেন।

সংবিধানের ১১৮ (৪) অনুচ্ছেদে বলা আছে, নির্বাচন কমিশন দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে স্বাধীন থাকবেন এবং সংবিধান ও আইনের অধীনে চলবেন। এছাড়া ১১৮ এর ৫ অনুচ্ছেদে বলা আছে, সংসদ কর্তৃক প্রণীত আইনের বিধানে নির্বাচন কমিশনারদের কাজ রাষ্ট্রপতি যেভাবে আদেশ দেবেন সেভাবে চলবে।

এফএইচ/এমআরআর/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]