বিচারপতি হাফিজুলের যোগদান, ফের সচল ট্রাইব্যুনাল

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬:১৮ পিএম, ১৭ অক্টোবর ২০২১

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারপতি হিসেবে প্রথম কর্মদিবস পার করলেন সদ্য নিয়োগ পাওয়া বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলম। তার এ যোগদানের মধ্যে দিয়ে একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধকালীন সংঘটিত হত্যা, গণহত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতন, দেশান্তর ও ধর্মান্তরসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার কার্যক্রম আবারো শুরু হলো।

বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাস ও একজন বিচারপতির মৃত্যুতে কে এম হাফিজুল আলমকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সদস্য নিয়োগ দেয় সরকার।

রোববার (১৭ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কাজ শুরুর দিনে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট ও মামলার তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। এদিন ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার (সিনিয়র জেলা জজ) মো. সাঈদ আহমেদ জাগো নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, ট্রাইব্যুনালের একজন বিচারপতি মারা যাওয়ার পরে নতুন করে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সদস্য হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। তিনি আজ কাজে যোগদান করেছেন। আজ যেসব মামলার আসামিরা গ্রেফতার হয়ে কারাগারে আছেন তাদের হাজিরার নতুন দিন নির্ধারণ, যেসব মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ অব্যাহত ছিল ওইসব মামলায় সাক্ষীর জবানবন্দি নেওয়ার তারিখ ধার্য এবং পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি সংক্রান্ত আদেশ দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, সব মিলিয়ে আজ মোট ১৮টি বিভিন্ন মামলার প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট ও ওয়ারেন্টসহ তারিখ ঠিক করা হয়েছে। আগামীকাল থেকে যথারীতি আগের মতো ট্রাইব্যুনালের বিচার কার্যক্রম চলবে।

গত ১৪ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সদস্য হিসেবে নিয়োগ দেয় সরকার। রাষ্ট্রপতির আদেশে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি হয়।

আইন সচিব মো. গোলাম সারওয়ার স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বিচারপতি আমির হোসেনের মৃত্যুজনিত কারণে দ্য ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস (ট্রাইব্যুনাল) অ্যাক্ট, ১৯৭৩ এর সেকশন ৬ (৪) এর বিধান মোতাবেক সরকার উক্ত সদস্য পদটি শূন্য ঘোষণাসহ পদটিতে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমকে নিয়োগ দিল।

এতে আরও বলা হয়, বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলম সদস্য পদে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল, ঢাকার দায়িত্ব পালনকালে বিধি মোতাবেক বেতন-ভাতাদি এবং অন্যান্য সুযোগ সুবিধাদি পাবেন।

গত ২৮ আগস্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সদস্য বিচারপতি আমির হোসেন মারা যান। তার মৃত্যুতে ট্রাইব্যুনালের তিন সদস্যের বেঞ্চের বিচারপতির পদ শূন্য হয়।

মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িতদের বিচারে গঠিত হয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোটের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক ইশতেহার ছিল যুদ্ধাপরাধীদের বিচারপ্রক্রিয়া শুরু করা। সে নির্বাচনে তারা নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে বিজয়ী হয়।

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ২০০৯ সালের ২৯ জানুয়ারি জাতীয় সংসদে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রস্তাব পেশ করলে তা সর্বসম্মতিক্রমে গৃহিত হয়। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৩৯ বছর পর মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে অভিযুক্তদের বিচারের জন্য ২০১০ সালের ২৫ মার্চ ট্রাইব্যুনাল গঠনের পাশাপাশি বিচারক নিয়োগ, আইনজীবী প্যানেল এবং তদন্ত সংস্থা গঠন করা হয়।

বিচারকাজ শুরুর পর টাইব্যুনালে এ পর্যন্ত ৪২টি মামলার রায় হয়েছে। এসব মামলার রায়ে ৭১ জন আসামির মৃত্যুদণ্ড, ২২ জনের আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং খালাস পেয়েছেন একজন।

রায়ের বিরুদ্ধে আনা আপিল শুনানির পর ছয়জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল এবং পরবর্তীতে রায় কার্যকর করা হয়েছে। ফাঁসির রায় কার্যকর হওয়া ছয় আসামি হলেন- জামায়াত ইসলামীর সাবেক আমির মতিউর রহমান নিজামী, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, জামায়াত নেতা আবদুল কাদের মোল্লা, মুহাম্মদ কামারুজ্জামান, বিএনপি নেতা সালাহ্ উদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরী ও জামায়াত নেতা মীর কাশেম আলী।

এফএইচ/এমকেআর/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]