ইভ্যালিকে কার্যকরী ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান করতে চান বিচারপতি মানিক

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩:৫২ পিএম, ১৮ অক্টোবর ২০২১

প্রতারণার মাধ্যমে টাকা আত্মসাতের অভিযোগে আলোচনায় থাকা ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনায় পাঁচ সদস্যের বোর্ড গঠন করে দিয়েছেন হাইকোর্ট।

ইভ্যালির ভাগ্য নির্ধারণে হাইকোর্টের গঠন করে দেওয়া এই কমিটির চেয়ারম্যান করা হয়েছে আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিককে।

সোমবার (১৮ অক্টোবর) দায়িত্ব পাওয়ার পর তিনি প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া জানাতে গণমাধ্যমের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলেছেন।

ইভ্যালির চেয়ারম্যান হিসেবে আদালত কর্তৃক নিয়োগ পাওয়ার পর আপনার পরিকল্পনা ও কাজ কী হবে, এমন প্রশ্নে সাবেক এই বিচারপতি বলেন, আমি তো মাত্র নিয়োগ পেলাম। একটু সময় নিয়ে মন্তব্য করবো। সব কাগজপত্র দেখতে হবে। তবে এ মুহূর্তে যেটা বলতে পারি তা হলো ইভ্যালিকে কার্যকরী ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে দাঁড় করানো হবে আমাদের প্রথম কাজ।

তিনি আরও বলেন, আমার সঙ্গে আরও চারজন সদস্য আছেন। সবার সঙ্গে আলাপ করে ইভ্যালিকে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করার পাশাপাশি যারা পয়সা দিয়েছেন তাদেরকে তা ফেরত দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।

এর আগে সোমবার এক আদেশে ইভ্যালি পরিচালনার জন্য আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিককে চেয়ারম্যান বা বোর্ডপ্রধান করে পাঁচ সদস্যের বোর্ড গঠন করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। আদালতের আদেশের বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেছেন রিট আবেদনকারীর আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ মাহসিব হোসেন।

বোর্ডের অন্য সদস্যরা হলেন- স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন বিভাগের সাবেক সচিব মোহাম্মদ রেজাউল আহসান, সাবেক অতিরিক্ত সচিব মাহবুবুল কবির, (যিনি ওএসডিতে আছেন), চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট ফখরুদ্দিন আহম্মেদ ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার খান মোহাম্মদ শামীম আজিজ।

ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির বিষয়ে ওঠা প্রতারণার অভিযোগ ও পরিচালনার নিয়ম পর্যালোচনা করতে বোর্ড গঠনের নির্ধারিত দিনে এ সংক্রান্ত বিষয়ে শুনানি নিয়ে সোমবার বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে আজ আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন এএম মাছুম ও ব্যারিস্টার সৈয়দ মাহসিব হোসেন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, প্রতিযোগিতা কমিশনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী তাপস কান্তি বল। রেজিস্ট্রার ফর জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ অ্যান্ড ফার্মসের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী এ কে এম বদরুদ্দোজা।

এর আগে ইভ্যালির স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি ও হস্তান্তরে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। পরবর্তীতে ইভ্যালির সব নথি আদালতে দাখিল করতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।

এর আগে গত ১২ অক্টোবর বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের হাইকোর্ট বেঞ্চ ইভ্যালি পরিচালনার জন্য কমিটি করে দেওয়ার কথা বলেন। এ বিষয়ে গত বুধবার (১৩ অক্টোবর) হাইকোর্টের আদেশ দেওয়ার কথা ছিল। পরে আদেশের দিন পেছানো হয়।

এদিকে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির সব নথি হাইকোর্টে জমা দেওয়া হয়েছে। গত ১১ অক্টোবর বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের হাইকোর্ট বেঞ্চে এসব নথি দাখিল করেন জয়েন্ট স্টক কোম্পানির রেজিস্ট্রার।

তার আগে গত ৩০ সেপ্টেম্বর ইভ্যালির সব নথি তলব করেন হাইকোর্ট। ১১ অক্টোবরের মধ্যে জয়েন্ট স্টক কোম্পানির রেজিস্ট্রারকে আদালতে সব নথি দাখিল করতে বলা হয়েছিল। নথি দাখিল করার পরে বোর্ড গঠনের মনোভাব ব্যক্ত করেন আদালত। তারই ধারাবাহিকতায় এই পরিচালনা বোর্ড গঠন করা হয়।

প্রতারণার মাধ্যমে টাকা আত্মসাতের অভিযোগে বর্তমানে ইভ্যালির নাম দেশজুড়ে আলোচিত-সমালোচিত। প্রতারণার মাধ্যমে গ্রাহকের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ইতিমধ্যে ইভ্যালির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. রাসেল ও তার স্ত্রী ইভ্যালির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়েছে।

গত ১৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাসা থেকে রাসেল ও শামীমাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর পর থেকে তারা কারাগারে আছেন।

এফএইচ/এমআরআর/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]