যুবলীগ চেয়ারম্যানের নামে অর্থ আদায়, দুজন কারাগারে

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬:১৪ পিএম, ২৩ অক্টোবর ২০২১

আওয়ামী যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশের ফোন নম্বর স্পুফ করে তার নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া ফিরোজ খন্দকার ও তার সহযোগী রাকিবুল ইসলামকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

আজ শনিবার (২৩ অক্টোবর) তিন দিনের রিমান্ড শেষে তাদের ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। এরপর বনানী থানায় করা মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দেবদাস চন্দ্র অধিকারি তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এর আগে মঙ্গলবার (১৯ অক্টোবর) দুই আসামিকে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। এরপর মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাদের সাতদিন করে রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। শুনানি শেষে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আশেক ইমাম তাদের তিনদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

সোমবার (১৮ অক্টোবর) রাতে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার আজীমনগর থেকে তাদের গ্রেফতার করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাইবার ইনভেস্টিগেশন বিভাগ।

মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আসামি ফিরোজ যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশের ফোন নম্বর স্পুফ করে সংগঠনের বিভিন্ন জেলার নেতাকর্মীদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিলেন। এ কাজে ফিরোজ খন্দকার প্রথমে ইন্টারনেট থেকে যুবলীগের বিভিন্ন কমিটির গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের ফোন নম্বর সংগ্রহ করেন। তিনি সেসব ফোন নম্বরে ডায়ালার অ্যাপের মাধ্যমে নম্বর স্পুফ করে ফোন করতেন। প্রতারক ফিরোজ খন্দকার এসব ফোন কলে সরাসরি টাকা চাইতেন না। বিভিন্ন কর্মসূচির কথা বলে তিনি পরশ পরিচয়ে টাকা দাবি করে বিকাশ-রকেট নম্বর দিয়ে টাকা চাইতেন।

সংগঠনের ‘চেয়ারম্যানের নম্বর থেকে ফোন’ পেয়ে নেতারা উৎফুল্ল মনে টাকা পাঠাতেন। আর তিনি সেই টাকা বিভিন্ন এটিএম বুথ থেকে তুলতেন।

এভাবে আসামি ফিরোজ খন্দকার গ্রেফতারের আগে লক্ষাধিক টাকা হাতিয়েছেন। তিনি ঢাকার খিলখাঁও থেকে কেরানীগঞ্জের মধ্যে বিভিন্ন এটিএম বুথ থেকে প্রতারণার টাকা তোলেন। সন্দেহ এড়াতে টাকা উত্তোলনের সময় মোটরসাইকেলে চড়ে বিভিন্ন বুথ থেকে অল্প অল্প করে টাকা তুলতেন তিনি। অভিযোগ পেয়ে খিলখাঁও ও কেরানীগঞ্জের যেসব বুথ থেকে ফিরোজ খন্দকার টাকা তোলেন তার সবগুলোর ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করে তাকে শনাক্ত করে গ্রেফতার করা হয়।

এদিকে এসব ঘটনায় যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস তার ফোন নম্বরটি বন্ধ করে দেন। তিনি বুঝতে পারেন তার নম্বরটি ক্লোন করে অর্থ আত্মসাৎ করছে একটি চক্র। নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে এ সংক্রান্ত একটি সতর্কবার্তা পোস্ট করেন শেখ পরশ।

পরে ১৫ অক্টোবর যুবলীগ চেয়ারম্যানের পক্ষে রাজধানীর বনানী থানায় ওই প্রতারকের বিরুদ্ধে মামলা করেন ব্যারিস্টার রানা তাজউদ্দিন খান।

জেএ/এমএইচআর/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]