জামায়াতের বিচার যত তাড়াতাড়ি সম্ভব শুরু করা উচিত: সানাউল হক

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:০৬ পিএম, ২৫ অক্টোবর ২০২১

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বিভিন্ন রায়ে জামায়াতকে অপরাধী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করেছে। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের রায়েও এটি প্রমাণিত। কিন্তু তাদের চরিত্রের কোনো বদল হয়নি।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার প্রধান সমন্বয়ক এম সানাউল হক এমন মন্তব্য করেছেন।

সোমবার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে ধানমন্ডিতে তদন্ত সংস্থার প্রাধান কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দল ও সংগঠন হিসেবে জামায়াতের বিচার যত তাড়াতাড়ি সম্ভব শুরু করা উচিত বলেও মনে করেন তিনি।

সানাউল হক বলেন, আজকে বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের উত্থান হচ্ছে, ধর্মান্ধতার সুযোগ নিয়ে অনেকে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছে। এদের সমূলে উৎপাটন এবং জামায়াতের স্বরূপ উদঘাটন করার জন্য প্রকাশ্য আদালতে বিচার হওয়া উচিত।

সংস্থার প্রধান জানান, আপনারা জানেন সংগঠনের যখন বিচার হয়, তখন ওই সংগঠনের অঙ্গ সংগঠন ও জড়িত ব্যক্তিদেরও বিচার হয়। সংগঠনের নেতৃত্বের দায় চলে আসে। আমি মনে করি, সংগঠন হিসেবে জামায়াতের বিচার, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

এর আগে ২০১৩ সালের আগস্ট মাসে সংগঠন হিসেবে একাত্তরের অপরাধের দায় নিয়ে বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়। অনুসন্ধান ও তদন্ত শেষে ২০১৪ সালের ২৫ মার্চ প্রতিবেদন চূড়ান্ত করে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। ওই সময় সরকার থেকে বলা হয়, বিদ্যমান আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে সংগঠনের বিচার ও শাস্তির বিধান নেই। সে বছরই অপরাধী হিসেবে সংগঠনের শাস্তির বিধান রেখে আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

প্রস্তাবিত ওই সংশোধনীতে ট্রাইব্যুনালস আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় ‘ব্যক্তি’ শব্দটির পর ‘অথবা সংগঠন’ সন্নিবেশ করা হয়। আরেকটি ধারায় ‘দায়’ শব্দটির পরিবর্তে ‘অথবা সাংগঠনিক দায়’ এবং আরেকটি ধারায় ‘অভিযুক্ত ব্যক্তি’র পরিবর্তে ‘অভিযুক্ত ব্যক্তি বা সংগঠন’ শব্দগুলো প্রতিস্থাপন করার কথা বলা হয়। এছাড়া সংগঠন হিসেবে দোষী প্রমাণিত হলে ওই সংগঠনকে নিষিদ্ধ করার বিধান রাখার উদ্যোগও নেওয়া হয়।

ওই প্রতিবেদন ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন না হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অর্গানাইজেশনের শাস্তি কী হবে, এটার বিধান স্পষ্টভাবে না থাকায় প্রসিকিউশন রিপোর্টটি চার্জ গঠনের জন্য ট্রাইব্যুনালে উত্থাপন করেনি। এমনটাই জানানো হয়েছে।

অপরাধী হিসেবে সংগঠনের শাস্তির বিধান রেখে আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও গত আট বছরে আইনের প্রস্তাবিত সংশোধনী আর মন্ত্রিসভায় ওঠেনি। ফলে ঝুলে আছে জামায়াতের বিচার।

এফএইচ/এমএইচআর/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]