শেষবার সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে বাসেত মজুমদার

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০২:১৯ পিএম, ২৭ অক্টোবর ২০২১

দীর্ঘ পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে যে অঙ্গনে শুধু পেশাগত কাজে নিবিষ্ট থেকেছেন, আজ সেই চিরচেনা প্রিয় আঙিনায় এলেন নিথর দেহে। শেষবারের মতো সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে আনা হয়েছে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি আবদুল বাসেত মজুমদারের মরদেহ।

বনানী কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রথম জানাজা শেষ হওয়ার পর দুপুর সোয়া ১টার দিকে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে দ্বিতীয় জানাজা সম্পন্ন হবে। এরপর সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি ও আইনজীবীরা তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাবেন।

সর্বস্তরের আইনজীবীদের শ্রদ্ধা জানানো শেষে প্রবীণ এ আইনজীবীর মরদেহ নেওয়া হবে গ্রামের বাড়ি কুমিল্লায়।

এদিকে আবদুল বাসেত মজুমদারের মৃত্যুতে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগ বসেনি আজ। বন্ধ রয়েছে নিম্ন আদালতের বিচারকাজও।

‘গরিবের আইনজীবী’ হিসেবে পরিচিত বাসেত মজুমদারকে শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানাতে বেলা ১১টার পর থেকেই সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে আইনজীবীরা জড়ো হতে থাকেন।

শেষবার সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে বাসেত মজুমদার

সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে দ্বিতীয় জানাজা শেষে বিকেলে নিজ গ্রাম কুমিল্লায় শানিচোঁ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে তৃতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।

এর আগে বুধবার (২৭ অক্টোবর) সকাল ৮টার দিকে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান বাসেত মজুমদার। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর।

বাসেত মজুমদার দীর্ঘদিন ধরে মেরুদণ্ডের সমস্যাসহ বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। ফুসফুসের জটিলতা নিয়ে গত ২৩ অক্টোবর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন প্রবীণ এ আইনজীবী। ২৪ অক্টোবর তাকে নেওয়া হয় আইসিইউতে।

শেষবার সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে বাসেত মজুমদার

বাসেত মজুমদার দুই ছেলে ও দুই মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

১৯৩৮ সালের ১ জানুয়ারি কুমিল্লার লাকসাম (বর্তমানে লালমাই) উপজেলার শানিচোঁ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন বাসেত মজুমদার। বাবা আব্দুল আজিজ মজুমদার, মা জোলেখা বিবি। স্থানীয় হরিচর হাইস্কুল থেকে ম্যাট্রিক (এসএসসি) এবং কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে আইএ (এইচএসসি) ও বিএ পাস করেন। তারপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স ও এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৬৬ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর তিনি আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। পরের বছর ৮ ফেব্রুয়ারি তিনি হাইকোর্টে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন।

জ্যেষ্ঠ এ আইনজীবীর বড় ছেলে গোলাম মহিউদ্দিন আবদুল কাদের ব্যবসা পেশায় নিয়োজিত। ছোট ছেলে অ্যাডভোকেট সাঈদ আহমদ রাজা সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী। দুই মেয়ের মধ্যে ফাতেমা আক্তার লুনা রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী। সর্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মিউজিকে পড়াশোনা করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করছেন। ছোট মেয়ে খাদিজা আক্তার ঝুমা উত্তরা মেডিকেল কলেজের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর।

এফএইচ/এমকেআর/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]