কুমিল্লার পথে আইনজীবী বাসেত মজুমদারের মরদেহ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩:৩২ পিএম, ২৭ অক্টোবর ২০২১

সিনিয়র আইনজীবী আব্দুল বাসেত মজুমদারের দ্বিতীয় জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। বেলা আড়াইটার দিকে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে এ জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

জানাজার নামাজে ইমামতি করেন মরহুমের ভাগ্নে মাওলানা খন্দকার মাহবুবুল হক। জানাজায় অংশ নেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। এছাড়া সুপ্রিম কোর্টের আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগের আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।

জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে জানাজা শেষে বাসেত মজুমদারের মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্স কুমিল্লার গ্রামের বাড়ির পথে রওয়ানা করে। সেখানে তৃতীয় জানাজা শেষে মরদেহ দাফন করা হবে বলে জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেছেন তার ছেলে সাইদ আহমেদ রাজা।

এর আগে বনানী কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রথম জানাজা শেষে তার মরদেহ সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে নেওয়া হয়। সেখানে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি ও আইনজীবীরা তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানান।

তবে দুপুর সোয়া ১টার দিকে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে মরহুমের দ্বিতীয় জানাজা হওয়ার কথা থাকলেও তা বাতিল করা হয়। এরপর তার মরদেহ জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে নেওয়া হয় এবং সেখানেই দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

jagonews24জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে বাসেত মজুমদারের দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়

এর আগে বুধবার (২৭ অক্টোবর) সকাল ৮টার দিকে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান বাসেত মজুমদার। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর। বাসেত মজুমদার দুই ছেলে ও দুই মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

বাসেত মজুমদার দীর্ঘদিন ধরে মেরুদণ্ডের সমস্যাসহ বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। ফুসফুসের জটিলতা নিয়ে গত ২৩ অক্টোবর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন প্রবীণ এ আইনজীবী। ২৪ অক্টোবর তাকে নেওয়া হয় আইসিইউতে।

১৯৩৮ সালের ১ জানুয়ারি কুমিল্লার লাকসাম (বর্তমানে লালমাই) উপজেলার শানিচোঁ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন বাসেত মজুমদার। বাবা আব্দুল আজিজ মজুমদার, মা জোলেখা বিবি। স্থানীয় হরিচর হাইস্কুল থেকে ম্যাট্রিক (এসএসসি) এবং কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে আইএ (এইচএসসি) ও বিএ পাস করেন।

তারপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স ও এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৬৬ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর তিনি আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। পরের বছর ৮ ফেব্রুয়ারি তিনি হাইকোর্টে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন।

জ্যেষ্ঠ এ আইনজীবীর বড় ছেলে গোলাম মহিউদ্দিন আবদুল কাদের ব্যবসা পেশায় নিয়োজিত। ছোট ছেলে অ্যাডভোকেট সাঈদ আহমদ রাজা সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী। দুই মেয়ের মধ্যে ফাতেমা আক্তার লুনা রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী।

সর্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মিউজিকে পড়াশোনা করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করছেন। ছোট মেয়ে খাদিজা আক্তার ঝুমা উত্তরা মেডিকেল কলেজের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর।

এফএইচ/এএএইচ/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]