পরীমনির রিমান্ড: দুই বিচারকের বিষয়ে রায় অবকাশের পর

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২:৩৭ পিএম, ২৫ নভেম্বর ২০২১
ফাইল ছবি

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় ঢাকাই চলচ্চিত্রের আলোচিত নায়িকা পরীমনির কয়েক দফা রিমান্ড মঞ্জুরের ঘটনায় দুই বিচারকের বিষয়ে রায় অবকাশের পর ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন হাইকোর্ট।

বৃহস্পতিবার (২৫ নভেম্বর) দুপুর সোয়া ১২টার দিকে হাইকোর্টের বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি এ এস এম আব্দুল মোবিনের সমন্বয়ে গঠিত ভার্চুয়াল বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

গত ৩১ অক্টোবর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় ঢাকাই চলচ্চিত্রের আলোচিত নায়িকা পরীমনির কয়েক দফা রিমান্ড মঞ্জুরের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দুই বিচারক (ঢাকার দুই মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট) হাইকোর্টে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেছিলেন।

ক্ষমা প্রার্থনা করে ভবিষ্যতে রিমান্ড মঞ্জুরের ক্ষেত্রে তারা সতর্ক থাকবেন বলে অঙ্গীকারও করেছেন। এরপর শুনানি নিয়ে তাদের বিষয়ে রায় দিতে ২৫ নভেম্বর দিন ধার্য করেছিলেন আদালত।

আজ নির্ধারিত দিনে রায় ঘোষণার মুহূর্তে জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম বলেন, ডিসেম্বরে সুপ্রিম কোর্টের অবকাশের পর জানুয়ারিতে এ রায় ঘোষণা করা হবে বলে আদালতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

এর আগে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দেবব্রত বিশ্বাস ও আতিকুল ইসলাম হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় তাদের আইনজীবীর মাধ্যমে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনার আবেদন করেন।

পরীমনির রিমান্ড নিয়ে দুই বিচারক নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার পরে হাইকোর্ট বেঞ্চে তাদের আইনজীবী এর আগে দেওয়া লিখিত ব্যাখ্যা পড়ে শোনান। ওইদিন আদালত শুনানি নিয়ে রায়ের দিন ঠিক করার পাশাপাশি মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতি দেন।

আদালতে ওইদিন দুই বিচারকের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী আবদুল আলীম মিয়া জুয়েল। তার সঙ্গে ছিলেন সুবীর নন্দী দাস ও আব্দুল কাইয়ুম খান। পরীমনির পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের হয়ে অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম (জেড আই) খান পান্না। তাকে সহযোগিতা করেন সৈয়দা নাসরিন। অন্য এক আবেদনকারী আইনজীবী মো. মজিবুর রহমান।

রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আবু ইয়াহিয়া দুলাল ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. মিজানুর রহমান।

ক্ষমা প্রার্থনাকারী বিচারক ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দেবব্রত বিশ্বাস ও আতিকুল ইসলামের বিষয়ে তাদের আইনজীবী আবদুল আলীম মিয়া সাংবাদিকদের বলেন, তদন্ত কর্মকর্তাও নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন। ভবিষ্যতে রিমান্ড আবেদনের সময় সতর্ক থাকবেন বলে জানিয়েছেন।

দেবব্রত বিশ্বাস দ্বিতীয় দফায় পরীমনির দু’দিন এবং আতিকুল ইসলাম তৃতীয় দফায় একদিন রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন। এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কাজী গোলাম মোস্তাফা।

এর আগে দুই বিচারক যে লিখিত ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন তাতে সন্তুষ্ট নন বলে হাইকোর্ট তদের আবার লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলেছিলেন। সে অনুযায়ী লিখিত দিয়ে অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা চান দুই বিচারক।

এরপরে সময় চেয়ে করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৪ অক্টোবর নায়িকা পরীমনির রিমান্ড মঞ্জুরের বিষয়ে ব্যাখ্যা দাখিলের জন্য ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের দুই বিচারককে ৩১ অক্টোবর দিন ঠিক করে দিয়েছিলেন হাইকোর্ট।

তারই আলোকে নির্ধারিত দিনে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় চিত্রনায়িকা পরীমনির দ্বিতীয় ও তৃতীয় দফায় রিমান্ড মঞ্জুর বিষয়ে ঢাকার দুই মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট ভার্চুয়াল বেঞ্চে আবেদন করেন। সেটি শুনানি নিয়ে রায়ের জন্য দিন ঠিক করেছিলেন আদালত।

গত ৪ আগস্ট পরীমনির বনানীর বাসায় অভিযান চালায় র‌্যাব। অভিযানের পর তাকে গ্রেফতার করা হয়। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে তার বিরুদ্ধে বনানী থানায় মামলা হয়। এ মামলায় পরীমনিকে প্রথমে চারদিন, দ্বিতীয় দফায় দুইদিন ও তৃতীয় দফায় একদিনসহ মোট সাতদিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

মামলায় ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিফল হয়ে জজ আদালতে জামিন চান পরীমনি। তবে জজ আদালত জামিন আবেদনের শুনানির তারিখ দেরিতে নির্ধারণ করায় হাইকোর্টে আবেদন করেন তিনি। হাইকোর্ট রুলও জারি করেন। পরে জজ আদালত পরীমনির জামিন আবেদনের ওপর শুনানির তারিখ এগিয়ে আনেন। ৩১ আগস্ট তাকে জামিন দেওয়া হয়। পরদিন পরীমনি কারামুক্ত হন।

এফএইচ/বিএ/এমআরআর/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]