বলেশ্বর নদের বড় মাছুয়া খেয়াঘাটে টোল আদায় স্থগিত

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:৪৫ এএম, ৩০ নভেম্বর ২০২১

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া ও বাগেরহাটের শরণখোলা দিয়ে প্রবাহিত বলেশ্বর নদের বড় মাছুয়া -রায়েন্দা আন্তঃবিভাগীয় খেয়াঘাটে টোল আদায়ে ছয় মাসের নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন হাইকোর্ট। 

সোমবার (২৯ নভেম্বর) এ সংক্রান্ত এক রিটের শুনানি শেষে হাইকোর্টের বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেন। 

রুলে ফেরিঘাট দিয়ে চলাচলকারী যাত্রীদের কাছ থেকে খেয়াঘাটের ইজারদারের টোল আদায় সংক্রান্ত খুলনা বিভাগীর কমিশনারের ১৬ নভেম্বর দেওয়া সিদ্ধান্ত (স্মারক) কেন আইনগত কর্তৃত্ব–বর্হিভূত ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে স্থানীয় সরকার সচিব, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব এবং খুলনা বিভাগীয় কমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট ১০ বিবাদীকে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। আদেশের বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেন আইনজীবী আনিচুর রহমান।

আদালতে আজ রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট চঞ্চল কুমার বিশ্বাস। তার সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী আনিচুর রহমান। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার।

নির্ধারিত টোলের চেয়ে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগে এই রিট আবেদন করা হয়েছিল। রিটে বলা হয়, খেয়াঘাট থেকে প্রতিদিন খুলনা, বাগেরহাট, মোংলা, মোড়েলগঞ্জ, শরণখোলা, মঠবাড়িয়া, বরগুনা, পাথরঘাটা, বামনাসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকার সহস্রাধিক মানুষ যাতায়াত করেন। খেয়া পারাপারে সরকার নির্ধারিত টোল জনপ্রতি ৫ টাকা এবং মোটরসাইকেল চালকসহ ১০ টাকা। কিন্তু ইজারাদার জনপ্রতি ৫০ টাকা এবং মোটরসাইকেল চালকসহ ১০০ থেকে ১১০ টাকা করে আদায় করছেন। 

ওই রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বাগেরহাটের শরণখোলার বড়মাছুয়া–রায়েন্দা ফেরিঘাট দিয়ে চলাচলকারী সাধারণ যাত্রীদের কাছ থেকে টোল আদায়ে ছয় মাসের নিষেধাজ্ঞা জারি করেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে ওই ফেরিতে চলাচলকারী যাত্রীদের কাছ থেকে খেয়াঘাটের ইজারদারের নির্দিষ্ট হারে টোল আদায় সংক্রান্ত খুলনার বিভাগীয় কমিশনারের সিদ্ধান্তের কার্যকারিতাও ছয় মাসের জন্য স্থগিত করা হয়েছে।

বড় মাছুয়া আন্তঃবিভাগীয় খেয়াঘাটসংলগ্ন বড়মাছুয়া–রায়েন্দা ফেরিঘাটটি। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের স্থাপিত ওই ফেরিতে চলাচলকারী যাত্রীদের কাছ থেকে খেয়াঘাটের ইজারাদার নির্দিষ্ট হারে টোল আদায় করতে পারবেন বলে ১৬ নভেম্বর খুলনা বিভাগীর কমিশনার সিদ্ধান্ত দেন। এই সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে শরণখোলার বাসিন্দা ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী চঞ্চল কুমার বিশ্বাস ২৫ নভেম্বর রিটটি করেন।

রিটের বিষয়ে আইনজীবী চঞ্চল কুমার বিশ্বাস বলেন, বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার রায়েন্দা থেকে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার বড়মাছুয়া ঘাটে পারাপারের ওই ফেরি স্থাপন করে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ। ফেরি দিয়ে চলাচলকারী যানবাহনের কাছ থেকে সড়ক ও জনপথ বিভাগ টোল আদায় করছে। এর মধ্যে ১৬ নভেম্বর খুলনার বিভাগীয় কমিশনার সিদ্ধান্ত দেন যে খেয়াঘাটের ইজারাদার ফেরিঘাট দিয়ে চলাচলকারী যাত্রীদের কাছ থেকে নির্দিষ্ট হারে টোল আদায় করতে পারবেন।

কিন্তু পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার বলেশ্বর নদের বড় মাছুয়া আন্তঃবিভাগীয় খেয়াঘাটে নির্ধারিত টোলের চেয়ে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ইজারাদারের কাছ থেকে ইজারা (সাবলিজ) নিয়ে কয়েকজন ৫ টাকার ভাড়া ৫০ টাকা পর্যন্ত আদায় করছেন।

মঠবাড়িয়ার বড় মাছুয়া ও বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার রায়েন্দা বাজার সীমানায় বলেশ্বর নদ ট্রলারে পারাপার হতে হয়। এ খেয়াঘাট থেকে প্রতিদিন খুলনা, বাগেরহাট, মোংলা, মোড়েলগঞ্জ, শরণখোলা, মঠবাড়িয়া, বরগুনা, পাথরঘাটা, বামনাসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকার সহস্রাধিক মানুষ যাতায়াত করেন। খেয়া পারাপারে সরকার নির্ধারিত টোল জনপ্রতি ৫ টাকা এবং মোটরসাইকেল চালকসহ ১০ টাকা।

আইনজীবী জানান, বলেশ্বর নদের দুই তীর বড় মাছুয়া ও রায়েন্দা খেয়াঘাট–সংলগ্ন টোল চার্ট বোর্ড টাঙিয়ে নির্ধারিত টোল আদায়ের নিয়ম থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। এ ছাড়া যাত্রীদের ওঠা-নামার জন্য ইজারাদারের ঘাট নির্মাণের নিয়ম থাকলেও তারা ঘাট নির্মাণ না করে বড় মাছুয়া ও রায়েন্দার বিআইডব্লিউটিএর সরকারি পল্টুন ব্যবহার করছেন। এতে খেয়ার প্রত্যেক যাত্রীকে অতিরিক্ত ৫ টাকা গুনতে হচ্ছে। 

২০০৩ সালের হস্তান্তরিত ফেরিঘাটের ইজারা ও ব্যবস্থাপনা এবং আয় বণ্টন নীতিমালা অনুসারে কেবল ফেরিঘাট হস্তান্তর হলে বিভাগীয় কমিশনার টোল আদায়ের সিদ্ধান্ত দিতে পারেন। এ ক্ষেত্রে ফেরিঘাট সড়ক ও জনপথ বিভাগের নিয়ন্ত্রণাধীন। যে কারণে বিভাগীয় কমিশনারের ওই সিদ্ধান্ত আইনসম্মত নয় বলে রিটটিতে বলা হয়। ওই রিটের শুনানি নিয়ে আদালত এই আদেশ দেন।

এফএইচ/কেএসআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]