জামিন আবেদন খারিজ, ইউপিডিএফ-জেএসএসের শংকদাস হাজতে

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬:৩৬ পিএম, ৩০ নভেম্বর ২০২১
ফাইল ছবি

অর্থপাচার আইনের মামলায় পাহাড়ি সংগঠন ইউপিডিএফ-জেএসএসর সদস্য শংকদাস বড়ুয়ার (৪৬) আগাম জামিন আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে তাকে হাজতে নিতে শাহবাগ থানা পুলিশকে নির্দেশ দেন আদালত।

আগাম জামিন নিতে এলে হাইকোর্ট রাঙামাটি পুলিশ সুপারের সঙ্গে ভার্চুয়ালি সংযুক্ত হয়ে তার বিষয়ে তথ্য নিয়ে আসামিকে হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এর আগে শংকদাস বড়ুয়ার আগাম জামিন শুনানির সময় আদালত ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন মানিককে বলেন, আপনি পিটিশনারের বিষয়ে রাঙামাটি পুলিশ সুপারের কাছে খবর নিয়ে জানান। সে পর্যন্ত আসামি কোর্ট কাস্টডিতে থাকবে।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল পুলিশ সুপারের সঙ্গে কথা বলে আসামি সম্পর্কে হাইকোর্টকে তথ্য দেন। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদক আইনে মামলা, এমনকি জঙ্গি সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে বলে জানানো হয়। তখন আদালত পুলিশ সুপারকে ভার্চুয়ালি আদালতের সঙ্গে সংযুক্ত হওয়ার নির্দেশ দেন।

তখন রাঙামাটির পুলিশ সুপার মীর মোদদাছছের হোসেন জুম আইডির মাধ্যমে হাইকোর্টে সংযুক্ত হন। হাইকোর্ট পুলিশ সুপারের মাধ্যমে বিস্তারিত শুনেন। পুলিশ সুপার হাইকোর্টকে জানান, গভীর জঙ্গলে থেকে অপরাধ কর্ম চালানোর কারণে এদের গ্রেফতার করা সম্ভব হয় না। তখন আসামির আগাম জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে সরাসরি হাজতে নেওয়ার জন্য শাহবাগ থানাকে নির্দেশ দেন আদালত।

মঙ্গলবার (৩০ নভেম্বর) হাইকোর্টের বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হকের সমন্বয়ে গটিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

এদিন আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন ও তাপস কুমার বিশ্বাস। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন মানিক, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল আন্না খানম কলি ও মো সাইফুর রহমান সিদ্দিকী সাইফ।

সিআইডির এসআই মো. মেহেদী হাসান বাদী হয়ে রাঙামাটি সদর থানায় গত ১৯ অক্টোবর শংকদাসের বিরুদ্ধে অর্থপাচার মামলা করেন। এ মামলায় তিনি হাইকোর্টে আগাম জামিন আবেদন করলে শুনানি শেষে আদালত আবেদন নামঞ্জুর করেন।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, শংকদাস বড়ুয়া মা-বাবা টিম্বার অ্যান্ড সাপ্লাইয়ার ব্যবসার আড়ালে মূলত ইউপিডিএফ ও জেএসএস নামে দুটি সংগঠনের সদস্য হয়ে চাঁদাবাজি করে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন। তার স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে উত্তরা ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক ও গ্রামীণ ব্যাংকের বিভিন্ন শাখায় মোট নয়টি অ্যাকাউন্টের তথ্য পাওয়া যায়। এগুলো থেকে তিনি সর্বমোট ১৪ কোটি ৩৭ লাখ ৭১ হাজার ৭২৪ টাকা উত্তোলন করেন। তার অর্থপাচারের পরিমাণ আনুমানিক ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা। সিআইডির এসআই মো. মেহেদী হাসান বাদী হয়ে রাঙামাটি সদর থানায় গত ১৯ অক্টোবর মামলাটি দায়ের করেন।

এফএইচ/এমকেআর/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]