দেয়াল ধসে শিশুর মৃত্যু: কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের রিটে বাবার সম্মতি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:০৫ পিএম, ৩০ নভেম্বর ২০২১

বাবার হাত ধরে স্কুলে যাওয়ার পথে দেয়াল ধসে রাজধানীর আজিমপুর দিবাকালীন শিশুযত্ন কেন্দ্র স্কুলের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করে রিট করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ নভেম্বর) ওই রিটের শুনানিতে শিশুটির বাবাকে ডেকে সম্মতি জানতে চান হাইকোর্ট। পরে তার সম্মতি আছে বলে আদালতকে জানান।

রিটকারী আইনজীবী সৈয়দ মহিদুল কবির বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, দেয়াল ধসে ওই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে রিট করেছিলাম। ওই রিটের শুনানিতে আজ হাইকোর্টের বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ ওই ছেলের বাবার সম্মতি জানতে ঢাকেন। তাকে আজই আদালতে উপস্থিত হয়ে বিষয়টি জানাতে বলা হয়।

পরে বিকেলে তিনি তার সম্মতি জানান। একইসঙ্গে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় তাকে এক লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিয়েছে বলেও জানান তিনি।

আইনজীবী সৈয়দ মহিদুল কবির জানান, বাবার হাত ধরে স্কুলে যাওয়ার পথে দেয়াল ধসে শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে গত ১০ নভেম্বর দক্ষিণ সিটি করপোরেশনসহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়। ওই নোটিশের পর ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় রিটটি করা হয়।

তিনি জানান, রিটে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়েছে। ক্ষতিপূরণের টাকার অর্ধেক ডিএসসিসিকে ও বাকি অর্ধেক গণপূর্ত মন্ত্রণালয়কে দেওয়ার কথা রিটে উল্লেখ করা হয়েছে। ঢাকা জেলা প্রশাসকের যোগাযোগ ও তার মাধ্যমে ওই শিশুর পরিবারকে ক্ষতিপূরণের টাকা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।

রাজধানীর লালবাগে দেয়ালচাপায় জিহাদ (৭) নামে এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত খবর যুক্ত করে রিটটি করেন আইন ও অধিকার ফাউন্ডেশন নামের মানবাধিকার সংগঠনের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সৈয়দ মহিদুল কবির ও মনির হোসেন।

আইনজীবী জানান, ঘটনার দিন সকাল পৌনে ৮টায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। শিশুটির বাবা নাজির হোসেন সন্তান জিহাদকে নিয়ে প্রতিদিনের মতো স্কুলে যাওয়ার পথে আজিমপুর ৩২ নম্বর ওয়েস্টিন স্কুলের পাশে সরকারি কলোনির দেয়াল ধসে চাপা পড়ে। এতে দায় আছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও সিটি করপোরেশনের। সেখানে সিটি করপোরেশন ড্রেনের কাজ করেছিল। ড্রেনের কাজ করায় দেয়ালের নিচে গর্তের সৃষ্টি হয়, তাই কলোনির দেয়াল ধসে পড়ে। এজন্য সিটি করপোরেশন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়কে বিবাদী করা হয়েছে।

এফএইচ/ইএ/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]