দেশের প্রায় ৮৪ শতাংশ নারী যৌন হয়রানির শিকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭:৪০ পিএম, ০১ ডিসেম্বর ২০২১

দেশের প্রায় ৮৪ শতাংশ নারী যৌন হয়রানির শিকার উল্লেখ করে বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সালমা আলী বলেছেন, নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে নারীদেরকেই রুখে দাঁড়াতে হবে। এখনই তাদের রুখে দাঁড়াতে হবে।

বুধবার (১ ডিসেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘বাংলাদেশে যৌন হয়রানি: বর্তমান প্রেক্ষাপট ও প্রতিরোধে করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন। বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির আয়োজনে এই গোল টেবিল আলোচনা হয়।

দেশে নারীদের ওপর যৌন হয়রানির বর্তমান ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে অ্যাডভোকেট সালমা আলী জানান, বাংলাদেশের প্রায় ৮৪ শতাংশ নারী ক্রমাগত রাস্তা, যানবাহনে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে, কর্মক্ষেত্রে এমনকি বাড়িতেও যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছেন। জাতীয় দৈনিক এবং অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রকাশ করে যে, ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত মোট ধর্ষণের ঘটনার সংখ্যা ১ হাজার ১৮২টি। এর মধ্যে ধর্ষণ ৯৫৫টি, গণধর্ষণ ২২০টি, ধর্ষণের চেষ্টা ২৫৯টি।

jagonews24

বিশিষ্ট সাংবাদিক জাইমা ইসলাম বলেন, আমরা বিভিন্ন মাধ্যমে প্রতিদিনই দেখছি নারীরা তাদের কর্মক্ষেত্রে কোনো না কোনোভাবে যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছেন। দেশের প্রত্যেক কর্মক্ষেত্রেই যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটি নিশ্চিত ও কার্যকর করা গেলে নারীদের প্রতি এই ধরনের সহিংসতার ঘটনা রোধ করা সম্ভব।

অতিথির বক্তব্যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও ট্রেজারার ডক্টর রাশেদা আক্তার বলেন, নারীরা যৌন হয়রানির শিকার হলেও চাকরি হারানোর ভয়ে, সামাজিকভাবে হেয় হওয়ার ভয়ে অভিযোগ করতে পারে না। এক্ষেত্রে নারীর প্রতি সমাজের সবার ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে।

বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জোবায়দা পারভিন বলেন, বাংলাদেশে যৌন হয়রানির বর্তমান পরিস্থিতিতে সারাদেশে নারীরা অসহায়। তাদের পাশে দাঁড়িয়ে সোচ্চার হওয়ার মতো কাউকে তারা পাওয়া যায় না। বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি সমসাময়িক যৌন হয়রানির ও সহিংসতার ঘটনায় উদ্বিগ্ন এবং বর্তমানে সংঘটিত সব যৌন হয়রানি ও সহিংসতার অপরাধের জন্য দায়ীদের গ্রেফতার ও দ্রুত বিচার দাবি করছে।

বৈঠকে বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির সদস্য আইনজীবী ও কর্মকর্তারাসহ বিভিন্ন পেশাজীবী ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

এএএম/এমআরআর/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]