নাইটিংগেল শিক্ষার্থীদের মাইগ্রেশন আবেদন নিষ্পত্তির নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩:৪০ পিএম, ০২ ডিসেম্বর ২০২১
ফাইল ছবি

সাভারের আশুলিয়ার নাইটিংগেল মেডিকেল কলেজ থেকে নিবন্ধিত কোনো মেডিকেল কলেজে মাইগ্রেশন চেয়ে করা আবেদন নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আগামী ১০ দিনের মধ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে এ আবেদন নিষ্পত্তি করতে বলা হয়েছে।

এ সংক্রান্ত আবেদনের শুনানি নিয়ে বৃহস্পতিবার (২ ডিসেম্বর) হাইকোর্টের বিচারপতি মামনুন রহমান ও বিচারপতি খোন্দকার দিলীরুজ্জামানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

এদিন আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন, অ্যাডভোকেট গিয়াস উদ্দিন মিঠু। তাদের সঙ্গে ছিলেন অ্যাডভোকেট মাহবুব আলম ও অ্যাডভোকেট হারুনুর রশিদ।

গত ১৪ নভেম্বর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে নাইটিংগেল মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা মাইগ্রেশন চেয়ে আবেদন করেন। আবেদনে সাড়া না পাওয়ায় গত রোববার (২৮ নভেম্বর) নাইটিংগেল মেডিকেল কলেজ থেকে নিবন্ধিত কোনো মেডিকেল কলেজে মাইগ্রেশন চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেন।

তানজুম তাব্বাসুম, সানজিদা ইসলাম জ্যোতি, নওরিন ফারজানা সুপ্তা, সাবিহা সুলতানা ডায়না, সুমাইয়া ইসলাম সিমু, সুমনা আক্তার,হাজেরা খাতুন, ফেরদৌসি আক্তার তালুকদার, সোনিয়া ইসলাম আঁখি, রোকেয়া আক্তার লিজাসহ ৪৫ শিক্ষার্থী এ রিট দায়ের করেন। দীর্ঘদিন ধরে মাইগ্রেশনের দাবি জানিয়ে আসছেন নাইটিংগেল মেডিকেলের শিক্ষার্থীরা।

গত ২৪ নভেম্বর ‘নাইটিংগেল মেডিকেল কলেজে ভর্তি হয়ে বিপদে শিক্ষার্থীরা’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে নাইটিংগেল মেডিকেল কলেজে ভর্তি হয়ে এখন বিপাকে পড়েছেন ৬০ শিক্ষার্থী। নিজেদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে ও কর্তৃপক্ষের ওপর আর ভরসা রাখতে না পেরে এখন অন্য মেডিকেল কলেজে মাইগ্রেশন চায় তারা।

২০১৭-১৮ সেশনে ভর্তি হওয়া এ শিক্ষার্থীরা নানা সমস্যা ও প্রতিকূলতা পেরিয়ে চতুর্থ বর্ষে উত্তীর্ণ হলেও পাচ্ছিলেন না কোনো ক্লাস ও সময় মতো পরীক্ষার সুযোগ। চিকিৎসক না থাকায় রোগীশূন্য হাসপাতালটিতে হাতে-কলমে স্বাস্থ্যশিক্ষা সম্পর্কিত জ্ঞান অর্জন করাও সম্ভব হয়ে উঠছে না তাদের।

বারবার কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে সমস্যার সমাধান এবং মানসম্মত শিক্ষার দাবি জানালে তারা আশ্বস্ত করেন যে, দ্রুতই বিএমডিসি ও ঢাকা ইউনিভার্সিটির রেজিস্ট্রেশনের ব্যবস্থা করে কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

নিয়ম অনুযায়ী সব সুযোগ-সুবিধা না থাকায় ২০১৭ সালে দেশের নয়টি মেডিকেল কলেজে শিক্ষার্থী ভর্তিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করে স্বাস্থ্য অধিদফতর। ওই সময় কলেজগুলো উচ্চ আদালতে রিট করলে ছয় মাসের জন্য নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করেন আদালত। স্থগিত সময়ে কলেজগুলো শিক্ষার্থী ভর্তি করে।

এর মধ্যে কয়েকটি মেডিকেল কলেজ নির্দিষ্ট সময়ে শর্ত পূরণ করে বিএমডিসির তালিকাভুক্ত হলেও চার বছরেও রেজিস্ট্রেশন পায়নি আশুলিয়ার নাইটিংগেল মেডিকেল।

প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, উচ্চ আদালতে আবেদন করে ছয় মাসের স্থগিতাদেশ পেলে ওই সময়ের মধ্যে ২০১৭/১৮ সেশনের শিক্ষার্থী ভর্তি করে নেয় তারা। হিসেব অনুযায়ী এমবিবিএস ফাইনাল পরীক্ষার সময় হলেও, এখন পর্যন্ত নাইটিংগেল মেডিকেল কলেজ বিএমডিসির অনুমোদন পায়নি।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, আদালতের অনুমোদন নিয়ে যেহেতু আমাদের ভর্তি করা হয়েছে, ফলে অবশ্যই আমরা প্রতিষ্ঠানটির বৈধ ছাত্র। এ অবস্থায় আমাদের দ্বায়ভার অবশ্যই স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদফতরের নেওয়া উচিত।

এফএইচ/এমকেআর/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]