কামারদহ চেয়ারম্যানের শপথের ১০ মাস, হাইকোর্টে নির্বাচন স্থগিত

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:৩৬ পিএম, ০৫ ডিসেম্বর ২০২১
ফাইল ছবি

২০১৬ সালের ৩১ অক্টোবর। গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার ১৩ নম্বর কামারদহ ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে চেয়ারম্যান হিসেবে জয়লাভ করেন মো. তৌফিকুল ইসলাম।

চেয়ারম্যান হওয়ার প্রায় পাঁচ বছর পর এসে ৯ মার্চ শপথ পাঠ করেন তিনি। এরই মধ্যে আবার গত ২৭ নভেম্বর ওই ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করা হয়। ওই নির্বাচন স্থগিত করে আদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

রোববার (৫ ডিসেম্বর) হাইকোর্টের বিচারপতি মামনুন রহমান ও বিচারপতি খিজির হায়াতের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

আইনজীবী জানান, ৯ মার্চ গোবিন্দগঞ্জের কামারদহ ইউপি চেয়ারম্যান তৌফিকুল ইসলামকে শপথ পাঠ করান গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. আব্দুল মতিন। পরের দিন ১০ মার্চ প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। এখন নির্বাচন করতে হলে সেই চেয়ারম্যানের ৫ বছর অতিবাহিত হতে হবে। কারণ, আইনে পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যগণের কার্যকাল নিয়ে বলা হয়েছে- নিয়ম ও বিধি অনুযায়ী কোনো চেয়ারম্যান ও সদস্যরা এই আইনের বিধানাবলী সাপেক্ষে, সংশ্লিষ্ট পরিষদের প্রথম সভা অনুষ্ঠানের তারিখ হতে পাঁচ বছর সময়ের জন্যে উক্ত পদে অধিষ্ঠিত থাকিবেন।

আদালতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট মুনসুরুল হক চৌধুরী। তার সঙ্গে ছিলেন অ্যাডভোকেট মো. আছরারুল হক ও অ্যাডভোকেট মো. আমিনুর রহমান চৌধুরী।

আইনজীবী আছরারুল হক বলেন, ২০১৬ সালের ৩১ অক্টোবর কামারদহ ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান হিসেবে জয়লাভ করেন মো. তৌফিকুল ইসলাম। দীর্ঘ সময় পরও তার নামে গেজেট প্রকাশ না করায় ২০১৭ সালে হাইকোর্টে রিট করেন তিনি।

তার আবেদনের শুনানি নিয়ে ২০১৭ সালের ২৯ অক্টোবর হাইকোর্ট রায় দেন। রায়ে গেজেট প্রকাশ করে তার শপথের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে নির্দেশ দেন আদালত।

হাইকোর্টের এ আদেশের বিরুদ্ধে আপিলে আবেদন করেন তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী সৈয়দ শরীফুল ইসলাম। তার আবেদনের শুনানি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ আবেদন খারিজ করে দেন।

তৌফিকুল ইসলামকে বিজয়ী ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে ২০১৮ সালের ৩ জুলাই নির্বাচন কমিশন গাইবান্ধার জেলা প্রশাসনকে শপথ পড়াতে নির্দেশ দেন।

নির্বাচন কমিশন ও হাইকোর্টের নির্দেশনার পরও দীর্ঘ দিন ধরে তাকে শপথ না পড়ানোয় জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ এনে হাইকোর্টে আবেদন করেছিলেন তৌফিকুল ইসলাম। আবেদনের শুনানি নিয়ে ২০২০ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর গাইবান্ধা জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগে রুল জারি করা হয়। ওই রুলের ধারাবাহিকতায় নির্বাচন স্থগিত করে আদেশ দেন আদালত।

মো. তৌফিকুল ইসলাম মোটরসাইকেল প্রতীক নিয়ে জয়লাভ করেছিলেন। নির্বাচিত হওয়ার পর তার বিরুদ্ধে ভোট কারচুপিসহ বিভিন্ন অভিযোগ আনে তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী সৈয়দ শরিফুল ইসলাম রতন।

২০২৫ সাল পর্যন্ত কামারদহ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন তৌফিকুল ইসলাম।

এফএইচ/জেডএইচ/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]