রাজারবাগ পীর-অনুসারীদের নজরদারিতে রাখতে সিটিটিসিকে নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১১:৪৫ এএম, ০৬ ডিসেম্বর ২০২১
ফাইল ছবি

রাজারবাগ পীর দিল্লুর রহমান ও তার অনুসারীদের নজরদারিতে রাখতে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটকে (সিটিটিসি) নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। তদন্তের স্বার্থে সিআইডি, সিটিটিসি ও দুর্নীতি দমন কমিশন চাইলে তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞাও দিতে পারবে বলেছেন আদালত।

এছাড়া ৪৯ গায়েবি মামলার আসামি ও রিটের বাদী একরামুল আহসান কাঞ্চন পীর দিল্লুর রহমান এবং তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে মামলা করতে চাইলে সিআইডির প্রতিবেদনকে আমলে নিতে বলা হয়েছে।

একইসঙ্গে ভুক্তভোগী আটজনের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনিরের নিরাপত্তার বিষয়টি দেখতে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমারকে বলেছেন আদালত।

এ বিষয়ে শুনানি শেষে রোববার (৫ ডিসেম্বর) হাইকোর্টের বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের বেঞ্চ এসব নির্দেশ দেন।

এদিন আদালতে সিটিটিসির একটি প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। যেখানে বলা হয়, রাজারবাগ পীর ও তার অনুসারীরা জঙ্গিবাদ ছড়িয়ে দেওয়া চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের কার্যক্রম দেশের প্রচলিত আইন, সংবিধান ও মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনার পরিপন্থী এবং সামাজিক ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রতি বিরোধী।

তারা ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে মানুষ হত্যাকে উসকে দিচ্ছে। নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠনগুলো যে উদ্দেশ্য নিয়ে তাদের মতবাদ প্রচার করছে, রাজারবাগের পীর ও তার অনুসারীদের কার্যক্রমও জঙ্গিদের কার্যক্রমের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। তারা ভিন্ন ধর্মের মানুষদের মালাউন উল্লেখ করে তাদের হত্যা করা ইমানি দায়িত্ব বলে ফতোয়া প্রচার করেছে, যা বাংলাদেশের নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন নব্য জেএমবি ও আনসার আল ইসলামের মানুষকে হত্যা করার ফতোয়ার অনুরূপ।

রোববার সকালে রাজারবাগ পীরের মামলাটি শুনানির জন্য আসলে দেখা যায়, সংশ্লিষ্ট ফাইল নেই। তখন হাইকোর্ট সংশ্লিষ্ট শাখার সুপারকে ডেকে পাঠান। সুপার আদালতে এসে বলেন, ফাইল খোঁজা হচ্ছে। সে সময় আদালত বলেন, ২টার মধ্যে ফাইল হাজির করবেন। এটি গুরুপূর্ণ ফাইল। বিরতির পর ২টার দিকে ফাইল আসলে শুনানি হয়।

শুনানির এক পর্যায়ে আইনজীবী শিশির মনির বলেন, আমার স্ত্রী–শ্বশুরকে ফোনে, ইন্টারনেটের মাধ্যমে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমার সন্তান স্কুলে আসা–যাওয়ার পথে তার পিছু নেওয়া হচ্ছে। আমার বাসার সামনে বিশেষ পোশাকে লোকজন মোটরসাইকেলে টহল দেয়। আমাকে এ মামলা থেকে সরে যেতে বলা হচ্ছে। আমি থানায় জিডি করলেও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমি কীভাবে মামলা করবো? পরে আদালত ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমারকে বলেন, আমরা লিখিত আদেশ দিচ্ছি না। আপনি শিশির মনিরের নিরাপত্তার বিষয়টি দেখবেন।

এসময় ব্যবসায়ী একরামুল আহসান কাঞ্চনের আইনজীবী এমাদুল হক বশিরও তার নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টি আদালতে তুলে ধরেন। তখন আদালত তাকে জিডি করার পরামর্শ দেন।

আদালত আরও বলেন, এত ভয় পেলে চলবে না। আমাদেরকেও হুমকি দিয়ে কাফনের কাপড় পাঠানো হয়। ভয় পেলে জজিয়তি ও ওকালতি (জজ ও ওকিল) চলে না।

এদিকে বৃহস্পতিবার (২ ডিসেম্বর) রাজারবাগ দরবার শরীফের পীর দিল্লুর রহমানসহ চারজনের বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করা হয়। দিল্লুর রহমান ছাড়া অন্যরা হলেন-শাকিরুল কবির, ফারুকুর রহমান ও মফিজুল ইসলাম।

এর আগে ব্যবসায়ী একরামুল আহসান কাঞ্চনের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন, ধর্ষণ, চুরি, ডাকাতি, মানবপাচারসহ বিভিন্ন অভিযোগে ৪৯টি ভুয়া মামলার নেপথ্যে রাজারবাগের কথিত পীর দিল্লুর রহমানের নাম উঠে আসে সিআইডির তদন্তে। পীর দিল্লুর রহমান ও তার অনুসারীরা হীনস্বার্থ হাসিলের জন্যই হয়রানিমূলক এসব মামলা করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

এফএইচ/ইএ/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]