ইন্টারনেটে মুরাদের ৩৮৭ অডিও-ভিডিওর লিংক পেয়েছে বিটিআরসি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২:৩৮ পিএম, ০৮ ডিসেম্বর ২০২১
ফাইল ছবি

সদ্য পদত্যাগ করা তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসানের আপত্তিকর বক্তব্য সম্বলিত সব ভিডিও-অডিও অনলাইন থেকে সরাতে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনকে (বিটিআরসি) মৌখিক নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট।

তারই আলোকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ডা. মুরাদ হাসানের অমর্যাদাকর, অশ্লীল ও আপত্তিকর উক্তির ৩৮৭ অডিও-ভিডিওর লিংক চিহ্নিত করার কথা জানিয়েছেন বিটিআরসির আইনজীবী। এর মধ্যে ফেসবুক ১৫টি ও ইউটিউব দুটি লিংক অপসারণ করেছে।

বুধবার (৮ ডিসেম্বর) এ তথ্য জানিয়েছেন বিটিআরসির আইনজীবী খন্দকার রেজা-ই-রাকিব।

আইনজীবী খন্দকার রেজা ই রাকিব আদালতে বলেন, আদালতের আদেশটি নজরে আসার পরেই বিটিআরসির সিস্টেম অ্যান্ড সার্ভিস বিভাগের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার নাসিমের নেতৃত্বে একটি কমিটি কাজ শুরু করে। এরপর ওই কমিটি ফেসবুক ও ইউটিউবকে নোটিশ পাঠান। এর মধ্যে ফেসবুক ২৭২টি ও ইউটিউব ১১৫টি লিংক শনাক্ত করেছে। এর মধ্যে ফেসবুক ১৫টি ও ইউটিউব দুটি লিংক অপসারণ করেছে। আমরা আশা করছি, বাকিগুলো অপসারণ করা হবে। এর বাইরে ফেসবুকের নিজস্ব টেকনিক্যাল টিম আরও দুইশোর বেশি লিংক শনাক্ত করেছে।

এ বিষয়গুলো শুনে আদালত বলেছেন, বিটিআরসির একটি ভিজিলেন্স (পরিদর্শক) টিম থাকা উচিত। যাতে বিটিআরসি বিষয়গুলো নজরে রেখে নিজেরাই ব্যবস্থা নিতে পারে।

এসময় আইনজীবী বলেন, বিটিআরসি এটা একা করতে পারবে না। এটা যাতে করা হয় সেজন্য একটা রেগুলেশন এরই মধ্যে ড্রাফট করা হয়েছে। যেটা আমরা হাইকোর্টের আরেকটি বেঞ্চে দাখিল করেছি। আশা করছি, ভবিষ্যতে এটা যখন চূড়ান্ত হবে, তখন এসব লিংক শনাক্ত করা সহজ হবে।

এর আগে মঙ্গলবার (৭ ডিসেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে মুরাদ হাসানের অশ্লীল অডিও-ভিডিও অপসারণ চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন।

এসময় ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমনের মৌখিক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার (৭ ডিসেম্বর) হাইকোর্টের বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের বেঞ্চ এগুলো সরাতে নির্দেশ দেন।

শুনানিতে সায়েদুল হক সুমন বলেন, মাই লর্ড, আমি কারো বিরুদ্ধে আসিনি। আমি এসেছি মুরাদ হাসানের অশ্লীল ও কুরুচিপূর্ণ কথাবার্তার অডিও-ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে অপসারণের নির্দেশনা চাইতে। সেগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে থেকে গেলে তা হবে সবার জন্য বিব্রতকর।

তিনি আরও বলেন, জরুরিভিত্তিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে তথ্য প্রতিমন্ত্রীর অশ্লীল অডিও-ভিডিওগুলো অপসারণ করা প্রয়োজন। অপসারণ না করলে অল্প বয়সের ছেলেমেয়েরা এ ধরনের গালাগালি ও অশ্লীল কথাবার্তা শুনে মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়বে। তাই দ্রুত এসব অশ্লীল অডিও-ভিডিও সরাতে বিটিআরসির প্রতি নির্দেশনা প্রার্থনা করছি।

এরপর আদালত রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমারকে বিটিআরসির চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলে ওই অডিও-ভিডিওগুলো সরানোর পদক্ষেপ নিতে এবং এ বিষয়ে অগ্রগতি আগামীকাল আদালতকে জানাতে বলেন। তারই পরিপ্রেক্ষিতে আজ অগ্রগতি প্রতিবেদন আসে।

সম্প্রতি তথ্য প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসান বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান এবং তার মেয়ে জাইমা রহমানকে নিয়ে একটি সাক্ষাৎকারে অসৌজন্যমূলক কথা বলেন।

এর কিছু পরেই প্রতিমন্ত্রী মুরাদের একটি কথোপকথন ফাঁস হয়, যেখানে তিনি অশ্লীল ভাষায় চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহিকে তার সঙ্গে দেখা করার জন্য বলেন। নিজের অনৈতিক ইচ্ছার কথা জানান। এমনকি চিত্রনায়িকাকে মেরে ফেলার হুমকিও দেন।

এদিকে ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেছেন ডা. মুরাদ হাসান। মঙ্গলবার দুপুরে সাড়ে ১২টায় পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে পাঠান প্রতিমন্ত্রী। পরে রাতে পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে গেজেট প্রকাশ করা হয়।

এফএইচ/কেএসআর/এআরএ/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]