পুলিশের ‘অভিযানে’ মৃত্যু: জেলা ও দায়রা জজের নেতৃত্বে তদন্ত কমিটি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০১:০৯ পিএম, ০৮ ডিসেম্বর ২০২১

রংপুরের হারাগাছ থানা পুলিশের ‘অভিযানে’ তাজুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনায় একজন জেলা ও দায়রা জজের নেতৃত্বে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। কমিটিতে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনারকে যুক্ত থাকতে বলা হয়েছে। কমিটিকে মৃত্যুর ঘটনা অনুসন্ধান করে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

বুধবার (৮ ডিসেম্বর) হাইকোর্টের বিচারপতি মামনুন রহমান ও বিচারপতি খোন্দকার দিলিরুজ্জামানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে আজ আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া, রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত দাসগুপ্ত।

বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত দাসগুপ্ত।

গত ১ নভেম্বর সন্ধ্যায় রংপুরের হারাগাছ এলাকায় পুলিশের অভিযানের পর তাজুল ইসলামের মৃত্যু হয়। তিনি হারাগাছ পৌর এলাকার দালালহাট নয়াটারী গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। ‘পুলিশি নির্যাতনে’ তার মৃত্যু হয়েছে বলে খবর ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী থানা ঘেরাও করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। বেশ কয়েকটি গাড়িও ভাঙচুর করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাবার বুলেট ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে পুলিশ।

এ বিষয়ে গত ২ নভেম্বর প্রকাশিত খবর উচ্চ আদালতের নজরে আনার পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এ ঘটনায় কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তা জানতে চেয়েছিলেন। পরে ওই ব্যক্তির সুরতহাল ও ভিসেরা রিপোর্ট আদালতে দাখিল করা হয়।

৩ নভেম্বর সুরতহাল প্রতিবেদন থেকে উল্লেখ করে অমিত দাশ গুপ্ত আদালতে বলেছিলেন, ২০১৯ সালের এক মামলায় ওই আসামির কাছ থেকে ৫০ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়েছিল। তার নির্দিষ্ট কোনো পেশা নেই। মাদক বিক্রয় ও সেবন করে থাকে।

প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন ও দোষীদের চিহ্নিত করার নিমিত্তে অনুসন্ধান তদন্ত করে ২ অক্টোবর অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনারকে আহ্বায়ক করে চার সদস্যের তদন্ত টিম গঠন করা হয়। পরে পুলিশের পক্ষ থেকে আসা সুরতহাল প্রতিবেদন থেকে অমিত দাশ গুপ্ত বলেন, তার শারীরিকভাবে কোনো রকম আঘাতের চিহ্ন ছিল না।

ওইদিন জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেছিলেন, ওনাদের সুরতহাল বলছে চিহ্ন নেই। কিন্তু এই যে ছবি, যেটা রংপুর থেকে তাজুলের প্রতিবেশী এক আইনজীবী পাঠিয়েছিলেন সেখানে দেখা যাচ্ছে মাথায় আঘাতের চিহ্ন আছে। মাথা থেঁতলানো।

এসময় জ্যোতির্ময় বড়ুয়া ঘটনা তদন্তে একজন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে দায়িত্ব দেওয়ার আবেদন করেন। তারই ধারাবাহিকতায় আজ সেটি শুনানি করে এই আদেশ দেন আদালত।

এফএইচ/বিএ/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]