শহীদ বুদ্ধিজীবী জ্যোতির্ময়ের স্বজনদের জমি দখল, সংশ্লিষ্টদের নোটিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:৫৬ এএম, ১৮ জানুয়ারি ২০২২

বরিশাল-২ (বানারীপাড়া-উজিরপুর) আসনের সংসদ সদস্য শাহে আলমের উপস্থিতিতে শহীদ বুদ্ধিজীবী জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতার পারিবারিক ভূসম্পত্তি দখলের অভিযোগের বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্টদের প্রতি লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

লিগ্যাল নোটিশে বরিশালের বানারীপাড়ায় শহীদ বুদ্ধিজীবী অধ্যাপক জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতার স্বজনদের জমি দখলের অভিযোগের প্রকৃত ঘটনা জানতে এবং এর সঙ্গে কারা কারা জড়িত এ বিষয়ে তথ্য দিতে বলা হয়েছে।

জমি দখলের অভিযোগ সংক্রান্ত পত্রিকায় প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদন সংযুক্ত করে সোমবার (১৭ জানুয়ারি) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আনিচুর রহমানের পক্ষে অ্যাডভোকেট স্বপন কুমার দত্ত এ নোটিশ পাঠান।অ্যাডভোকেট আনিচুর রহমান নিজেই বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেছেন।

লিগ্যাল নোটিশে বিবাদী করা হয়েছে, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি), বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, বানারীপাড়া বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি ও বরিশাল-২ (বানারীপাড়া-উজিরপুর) আসনের সংসদ সদস্য শাহে আলমসহ সংশ্লিষ্ট সাতজনকে।

আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে এ সম্পত্তি দখলের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে আদালতে।

অ্যাডভোকেট আনিচুর রহমান বলেন, বরিশাল-২ (বানারীপাড়া-উজিরপুর) আসনের সংসদ সদস্য শাহে আলমের উপস্থিতিতে পৌর শহরে শহীদ বুদ্ধিজীবী জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতার পারিবারিক ভূসম্পত্তি দখলের অভিযোগ করা হয়েছে। বানারীপাড়া বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের জন্য ওই জমি দখল করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।

এ বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবরও প্রকাশ করা হয়েছে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত ওইসব খবর যুক্ত করে আজ সরকারের সংশ্লিষ্টদের প্রতি লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়। আগামী তিনদিনের মধ্যে ওই জমি দখলমুলমুক্ত না হলে আইনি প্রতিকার চাওয়া হবে দেশের উচ্চ আদালতে।

আইনজীবী অভিযোগ করেন, রিশাল-২ (বানারীপাড়া-উজিরপুর) আসনের সংসদ সদস্য শাহে আলমের উপস্থিতিতে জমিটি দখল করা হয়। সাংসদ শাহে আলম বানারীপাড়া বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি।

তিনি জানান, বানারীপাড়া বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি শহীদ বুদ্ধিজীবী জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতা ও তার ভাই প্রয়াত প্রফুল্ল কুমার গুহের জমিতে স্থাপিত হয়েছে। বিদ্যালয়ের পাশেই প্রয়াত প্রফুল্ল কুমার গুহের দুই ছেলে অনুপ গুহ ও পল্লব গুহের নামে রেকর্ডীয় পাঁচ শতাংশ জমি আছে বলে দাবি করেছেন অনুপ গুহ।

ঘটনার বিষয়ে প্রকাশিত খবরে বলা হয়, সোমবার সন্ধ্যায় মোবাইল ফোনে অনুপ অভিযোগ করেন — রোববার বিকেলে বিদ্যালয়ের নামে দখলে নেওয়া হয় তাদের ওই পাঁচ শতাংশ জমি। এসময় অনুপ গুহ বাঁধা দিলেও কোনো লাভ হয়নি। তাকে হুমকি-ধামকি দিয়ে চলে যেতে বাধ্য করা হয়েছে।

অনুপ গুহ আরও বলেন, বিদ্যালয়ের পাশে পৈত্রিক সূত্রে তাদের দুই ভাইয়ের ১৩ শতাংশ জমি ছিল। এরমধ্যে আট শতাংশ জমি মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন করার জন্য ২০২১ সালে অধিগ্রহণ করা হয়। বাকি পাঁচ শতাংশ জমিতে একটি পুরনো ভবন ছিল। ওই ভবনটিতে রেডসান নামে শিশুদের একটি বিদ্যালয় ছিল।

অনুপ গুহ অভিযোগ করে বলেন, রোববার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে সংসদ সদস্য শাহে আলম লোকজন নিয়ে ওই জমিতে থাকা টিনের বেড়া ভেঙে ফেলেন। দুই পাশে বালিকা বিদ্যালয়ের দেয়াল ভেঙে জমিটি বিদ্যালয়ের সঙ্গে মিলিয়ে দেওয়া হয়। পরে টিনের বেড়া দিয়ে আটকে দেওয়া হয়েছে।

জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতার মেয়ে মেঘনা গুহঠাকুরতা ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেন, ‘২ জানুয়ারি বিকেল সাড়ে ৪ টার দিকে সংসদ সদস্য শাহে আলম দাঁড়িয়ে থেকে আমাদের ৫ শতাংশ জমি (যাহার বাজার মূল্য কোটি টাকা) বালিকা বিদ্যালয় নামে দখল করে নিয়েছে। তিনি বর্তমানে বানারীপাড়া বালিকা বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি।

তিনি লিখেছেন, এ জমির অংশ থেকে দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ জমি আমরা বানারীপাড়া মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের জন্য সরকারকে দিয়েছি এবং ডিসি বরিশাল সরকারের পক্ষে এ আট শতাংশ জমি অধিগ্রহণ করে। এর পূর্বপাশে পাঁচ শতাংশ জমি ছিল, যা তিন দিকে পাকা ওয়াল ছিল, ৩০-১৬ ফুট ছাদসহ পাকা স্থাপনা ছিল এবং একদিকে টিনের বেড়া ছিল, যা ভেঙে দিয়ে দখল করে নেওয়া হয়েছে।

মেঘনা গুহঠাকুরতা অভিযোগ করেন, ‘আমি বাধা দিলে তিনি (সংসদ সদস্য শাহে আলম) কয়েকবার বলেছেন এখান থেকে চলে যেতে, না হলে আমাকে মারবে। আমি এ দখল ও স্থাপনা ভাঙার ছবি তুললে তার লোকজন দিয়ে আমার মোবাইল ছিনিয়ে নিয়ে ছবিগুলো ডিলিট করে দেয়। দখল করা জমির পরিচয় ৪২ নম্বর বানারীপাড়া মৌজায় ২৫৯ নম্বর খতিয়ানের ৫২৫ নম্বর দাগের অংশ। জমির পরিমাণ ৫ শতাংশ। জমির রেকর্ডের মালিক অনুপ কুমার গুহ ও পল্লব কুমার গুহ।’

এ অভিযোগের বিষয়ে সংসদ সদস্য শাহে আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় প্রতিবেদককে বলেন, যে জায়গা বিদ্যালয়ের জন্য নেওয়া হয়েছে সেখানে একসময় ইউনিয়ন পরিষদ ভবন ছিল। বিদ্যালয় সীমানা লাগোয়া ওই জায়গায় মার্কেট করার পরিকল্পনা করছিল একটি মহল। তাই বিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট সবাই এ জায়গাটি বিদ্যালয়ের মধ্যে রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন। স্থানীয় অনুপ গুহ দাবি করছেন জমিটি তাদের।

সংসদ সদস্য শাহে আলম বলেন, ওই জমির যিনি প্রকৃত মালিক তাকে বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে জমির বাজার দর অনুযায়ী মূল্য পরিশোধ করা হবে।

এফএইচ/এমএএইচ/

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]