হুইপ সামশুল হকের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা হাইকোর্টে স্থগিত

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:২৮ পিএম, ১৮ জানুয়ারি ২০২২
জাতীয় সংসদের হুইপ সামশুল হক/ফাইল ছবি

দুর্নীতি দমন কমিশনের করা অভিযোগে অনুসন্ধান চলাকালে চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনের সংসদ সদস্য, জাতীয় সংসদের হুইপ ও চট্টগ্রাম আবাহনী ক্লাবের সেক্রেটারি জেনারেল সামশুল হক চৌধুরী বিদেশ যেতে পারবেন না মর্মে বিচারক (নিম্ন) যে আদেশ দিয়েছিলেন সেটি স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট।

একই সঙ্গে তার ওপর নিষেধাজ্ঞার আদেশটি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত। দুদককে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ সামশুল হক চৌধুরীর আইনজীবী ব্যারিস্টার মো. মোস্তাফিজুর রহমান খান আদেশের বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেন।

এ সংক্রান্ত আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে মঙ্গলবার (১৮ জানুয়ারি) হাইকোর্টের বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে আজ আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মো. মোস্তাফিজুর রহমান খান। তার সঙ্গে ছিলেন অ্যাডভোকেট হারুনর রশিদ।

আইনজীবী ব্যারিস্টার মো. মোস্তাফিজুর রহমান খান জানান, এর আগে ২০১৯ সালে যখন ক্যাসিনোকাণ্ডের ক্র্যাকডাউন হয় সেসময় চট্টগ্রাম আবাহনী ক্লাবেও একটি রেড হয়। এই অভিযান চলার (রেড হওয়ার) পরপরই দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে। কিন্তু দুদকের নিয়ম অনুযায়ী কারো বিষয়ে অভিযোগ উঠলে সেটি তিন মাসের (৯০ দিনের মধ্যে) দুদকের শেষ করার কথা। তারা অনুসন্ধান শেষ করেনি, এমনকি মামলাও রুজু করেনি।

তবে, ওনার বিদেশ যাত্রার ওপরে দুদকের গত বছরের ৭ জুন করা আবেদনের শুনানি নিয়ে তিনি যেন পালিয়ে যেতে না পারেন সেজন্য ২০২১ সালের ৮ জুন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ ও মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত আদেশ দিয়েছিলেন।

বিচারক গত ৮ জুন এ আদেশ দিলেও তার স্বাক্ষরিত লিখিত আদেশ আসে গত ১৩ জুন। ওইদিনই পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) পক্ষ থেকে বিমানবন্দর ইমিগ্রেশনকে নির্দেশনা পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

সেখানে চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ সামশুল হক চৌধুরীসহ ছয়জনের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিলেন আদালত। ওই আদেশ দেওয়ার পরও নিয়ম অনুযায়ী তিন মাসের (৯০ দিনের মধ্যে) দুদকের অনুসন্ধান শেষ না করা এবং মামলা না করায় আমরা হাইকোর্টে রিট আবেদন করি। ওই আবেদন শুনানি নিয়ে এই রুল জারিসহ আদেশ দেন আদালত।

দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ ও মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত যে আদেশ দিয়েছিলেন সেটি ছয় মাসের জন্যে স্থগিত করেছেন আদালত।

গত কয়েক বছরে ক্যাসিনোকাণ্ডসহ বিভিন্ন উপায়ে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অনুসন্ধানে হুইপ সামশুল হকের নাম উঠে এসেছে। তার সম্পদের পরিমাণ এক হাজার ৫৪৬ শতাংশ বেড়েছে বলে অভিযোগ আছে। এর আগে অনুসন্ধান শুরুর পর ২০১৯ সালের ২৩ অক্টোবর সামশুল হকের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা জারি করে ইমিগ্রেশনে চিঠি দিয়েছিল দুদক।

আদালত আরও যে পাঁচ ব্যক্তির বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন তারা হলেন সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতন, ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম প্রধান সাজ্জাদুল ইসলাম, সাবেক অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আব্দুল হাই এবং ঢাকা ওয়ান্ডার্স ক্লাবের কর্মচারী আবুল কালাম আজাদ।

অনুসন্ধান চলাকালে এই ব্যক্তিরা বিদেশে পালিয়ে যেতে পারেন বলে গত ৭ জুন নিষেধাজ্ঞা জারির জন্য আদালতে আবেদন করেন দুদকের অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা।

দুদকের আবেদনে বলা হয়েছিল, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সরকারি কর্মকর্তাদের শত শত কোটি টাকা ঘুস দিয়ে বড় বড় ঠিকাদারি কাজ নিয়ে বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, ক্যাসিনো ব্যবসা করে শত শত কোটি টাকা অবৈধ প্রক্রিয়ায় অর্জনপূর্বক বিদেশে পাচার ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন সংক্রান্ত অভিযোগের অনুসন্ধান চলমান রয়েছে।

এর পরিপ্রেক্ষিতে পরদিন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ ও মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক কেএম ইমরুল কায়েশ ছয়জনের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা প্রদান করেন।

এফএইচ/ইএ/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]