ঈশান চন্দ্রের সম্পত্তির ওপর স্থিতাবস্থা, দুদকের তদন্ত কেন নয়

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩:০১ পিএম, ১৯ জানুয়ারি ২০২২
ফাইল ছবি

ফরিদপুরের জমিদার ঈশান চন্দ্র সরকারের অর্পিত সম্পত্তির বিষয়ে দুদক কেন তদন্ত করবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে তার সম্পত্তি উত্তরাধিকারদের বাদ দিয়ে দখল ও হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

আগামী তিন মাসের মধ্যে এ বিষয়ে তদন্তের অগ্রগতি আদালতকে জানাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া রুল নিষ্পত্তির আগে পর্যন্ত এসব সম্পত্তির ওপর স্থিতাবস্থা জারি করেছেন আদালত। এ বিষয়ে আগামী ১৯ এপ্রিল পরবর্তী আদেশের জন্য কার্যতালিকায় আসবে বলেও জানান আইনজীবীরা।

পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন যুক্ত করে শহীদুল ইসলাম মঞ্জুর করা রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে বুধবার (১৯ জানুয়ারি) হাইকোর্টের বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে আজ রিটকারীর পক্ষে শুনানিতে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ শিশির মনির। দুদকের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট মো. সাজ্জাদ হোসেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক।

আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির জানান, ঈশান চন্দ্র দাস সরকারের সম্পত্তি দখল ও হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ তুলে দুদকের আঞ্চলিক ও কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আবেদন করেছিলেন ফরিদপুরের গোপালপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শহীদুল ইসলাম মজনু। সেখান থেকে এ বিষয়ে সাড়া না পাওয়ায় পরে সংস্থাটির নিষ্ক্রিয়তা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন তিনি।

শিশির মনির আরও বলেন, ২০২০ সালের ২৯ জুলাই জাতীয় পত্রিকায় এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ‘ঈশানের ছেলে সেজে জমি পেতে চান’ শিরোনামে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনটি যুক্ত করেই রিট আবেদনটি করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আদালত রুল জারি ও নির্দেশনার পাশাপাশি ঈশান চন্দ্র দাস সরকারের সম্পত্তিতে স্থিতাবস্থা জারি করেছেন। রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এসব সম্পত্তিতে কেউ হাত দিতে পারবেন না। যে অবস্থায় আছে, সে অবস্থায়ই থাকবে। আগামী ১৯ এপ্রিল এ মামলার পরবর্তী তারিখ রাখা হয়েছে।’

পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফরিদপুরের ঈশান চন্দ্র দাস সরকারের তিন ছেলে। প্রায় ২০ একর সম্পত্তি দখলে নিতে তার ছয় ছেলের নাম শোনা যাচ্ছে। কয়েকশো কোটি টাকার অর্পিত সম্পত্তি জালিয়াতির মাধ্যমে দখল করার পাঁয়তারা করছেন তারা। ফরিদপুর শহরের ১১৮ নম্বর মৌজার ঝিলটুলী ও আলীপুর এলাকার জমিসহ সদর উপজেলার বিভিন্ন মৌজার অনেক ভূ-সম্পত্তির মালিক ছিলেন তৎকালীন জমিদার এই ঈশান ও তার ভাই ইন্দু ভূষণ দাস সরকার।

ফরিদপুরের সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ, জেনারেল হাসপাতাল, ঈশান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, ফরিদপুর মিউজিয়াম, সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়, জেলা খাদ্য কর্মকর্তার কার্যালয়, পাট কর্মকর্তার কার্যালয়, সরকারি তিতুমীর বাজার, চকবাজার, নিউ মার্কেটসহ বিভিন্ন স্থাপনা এই সম্পত্তিতে গড়ে উঠেছে।

অভিযোগ রয়েছে, ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের ইশারায় একটি চক্র এই সম্পত্তি হাতিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করে। যেখানে ঝিলটুলী এলাকার বেশির ভাগ জমি রয়েছে। এ ব্যাপারে দুর্নীতি দমন কমিশনে লিখিত অভিযোগ করেছেন ফরিদপুর নিউ মার্কেটের (তিতুমীর বাজার) ৯ জন ব্যবসায়ী। ভূমি অফিস বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে।

স্থানীয়রা জানায়, এস্টেটের মালিক ঈশানের তিন ছেলে—জ্যোতিশ চন্দ্র সরকার, ধীরেন্দ্রনাথ সরকার ও সুরেশ চন্দ্র সরকার। তার ভাই ইন্দু ভূষণের ছিল তিন ছেলে—সত্যভূষণ সরকার, ভক্তিভূষণ সরকার, শক্তি ভূষণ সরকার এবং স্ত্রী নীলিমা সরকার। পাকিস্তান আমলে ১৯৬২ সালের দিকে তারা সবাই দেশ ছেড়ে ভারতে চলে যান।

২০১২ সালে অর্পিত সম্পত্তি অবমুক্তি আইনের পর ঈশানের উত্তরাধিকার দাবি করে সম্পত্তি অবমুক্তির আবেদন করেন জনৈক উজ্জ্বল সরকার। তার দাবির সপক্ষে ঈশান গোপালপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) তৎকালীন চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান চৌধুরী পংকজ স্বাক্ষরিত একটি ওয়ারিশ সনদ দাখিল করেন। তাতে ঈশানের ছয় ছেলে উল্লেখ করা হয়।

যাদের একজন ক্ষিতিশ চন্দ্র সরকার। এই ক্ষিতিশের নাতি উজ্জ্বল সরকার, উৎপল সরকার ও উত্তম সরকার। নামজারির সময় ওয়ারিশ সনদ নিয়ে সহকারী কমিশনারের (ভূমি) সন্দেহ হলে সেটি ফের যাচাইয়ের জন্য ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো হয়। এরপরই বিশাল এই ভূসম্পত্তি আত্মসাতের বিষয়টি বেরিয়ে আসে।

এফএইচ/বিএ/জিকেএস

এফএইচ/বিএ/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]