বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে রিটের শুনানি পেছালো

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:৪৪ এএম, ২৪ জানুয়ারি ২০২২
ফাইল ছবি

সুইসব্যাংকসহ বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরানোর শুনানি আগামী ৩০ জানুয়ারি নির্ধারণ করেছেন হাইকোর্ট। পৃথক দুই সংস্থার আবেদন শুনানি নিয়ে রোববার (২৩ জানুয়ারি) বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ দিন নির্ধারণ করেন।

বাংলাদেশ থেকে বিদেশের বিভিন্ন ব্যাংক বিশেষ করে সুইস ব্যাংকসহ সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, দুবাই ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে যেসব টাকা পাচার হয়েছে তার তথ্য নিয়ে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছিল বলে গত ১৭ অক্টোবরের হাইকোর্টকে জানানো হয়। পরে আরও সময় নেন সরকারের বিএফআইইউ এবং দুদক।

কিন্তু পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইনটেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মধ্যে দুটি সংস্থা কোনো প্রতিবেদন জমা দেয়নি। ওই প্রতিবেদনের অগ্রগতির বিষয়ে শুনানি ছিল রোববার। শুনানির নির্ধারিত দিনে দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষ দুই সপ্তাহ সময় আবেদন করেন। ওই আবেদন শুনানি নিয়ে তাদের আরও এক সপ্তাহ অর্থাৎ ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় দেন আদালত।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও সংশ্লিষ্ট বেঞ্চের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিনউদ্দিন মানিক জাগো নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আদালতে এদিন রাষ্ট্রপক্ষে তথা বিএফআইইউ এর শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিনউদ্দিন মানিক, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল আন্না খানম কলি। দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. খুরশিদ আলম খান।

এর আগে গত ১ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় অ্যাডভোকেট আব্দুল কাইয়ুম খান ও সুবীর নন্দী দাস বাংলাদেশ থেকে সুইস ব্যাংকে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন দায়ের করেন।

এর মধ্যে ২০২০ সালের ১৯ ও ২২ নভেম্বর গণমাধ্যমে বাংলাদেশি নাগরিকদের পাচারের টাকা দিয়ে বিদেশে বিলাসবহুল বাড়ি কেনার বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর একটি রুল জারি করা হয়েছিল। চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি আইনজীবী আবদুল কাইউম খান ও সুবীর নন্দী দাসের দায়ের করা রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১ ফেব্রুয়ারি আরেকটি রুল জারি করা হয়।

শুনানির সময় বাংলাদেশ থেকে দুর্নীতি ও অর্থ পাচার নির্মূলে সবার সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন হাইকোর্ট।

এরপর সাবেক যুবলীগ নেতা ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটসহ ১২ ব্যক্তি ও একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ৩১০ কোটি ৮০ লাখ ১৪ হাজার ৭৪৮ টাকা বিদেশে পাচারের তথ্য দিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

তাদের তথ্যমতে, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, দুবাই ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে এসব টাকা পাচার হয়েছে।

সিআইডির প্রতিবেদনে দেখা যায়, অর্থ পাচারের সাত মামলায় ১২ ব্যক্তি ও একটি প্রতিষ্ঠান এবং অজ্ঞাতনামা ৪-৫ জনের কথা উল্লেখ রয়েছে। এর মধ্যে যুবলীগের সাবেক (বহিষ্কৃত) নেতা ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট ও খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া, সম্রাটের অন্যতম সহযোগী এনামুল হক আরমান ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর মোমিনুল হক সাঈদের নাম রয়েছে।

অন্যরা হলেন ফরিদপুরের বোয়ালমারীর রাজীব হোসেন, নেত্রকোনার বারহাট্টার জামাল, কুমিল্লার দাউদকান্দির শরিফুল ইসলাম ও আওলাদ হোসেন, কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের মো. শাহজাহান , চট্টগ্রামের খুলশীর নাজমুল আবেদীন, সোহেলা আবেদীন এবং পাহাড়তলী এলাকার এ কে এম জাহিদ হোসেনসহ অজ্ঞাত আরও চার-পাঁচজন। এ ছাড়া চট্টগ্রামের এ অ্যান্ড বি আউটারওয়্যার অ্যান্ড নর্ম আউটফিট অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ লিমিডেটের নাম রয়েছে।

প্রতিবেদনে ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট ও তার সহযোগী এনামুল হক আরমানের বিরুদ্ধে সিঙ্গাপুরে ২৩২ কোটি ৩৭ লাখ ৫৩ হাজার ৬৯১ টাকা পাচারের তথ্য এসেছে। খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে সিঙ্গাপুরে, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ায় ৮ কোটি ৮৩ লাখ ৬৮ হাজার ৬৯৮ টাকা পাচারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সাত মামলায় সব মিলিয়ে ৩১০ কোটি ৮০ লাখ ১৪ হাজার ৭৪৮ টাকা বিদেশে পাচারের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে সিআইডির প্রতিবেদনে।

মামলাগুলো তদন্তাধীন উল্লেখ করে সিআইডি বলেছে, টাকা উদ্ধারের পদক্ষেপ হিসেবে সংশ্লিষ্ট দেশ সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, দুবাই ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স রিকোয়েস্ট (এমএলএআর) পাঠানো হয়েছে।

এছাড়া ২০১৬ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির মামলার অগ্রগতি তুলে ধরা হয়েছে প্রতিবেদনে। বলা হয়েছে, অজ্ঞাত হ্যাকাররা ১০১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার হাতিয়ে নিয়েছিল। তার মধ্যে ফিলিপাইন ও শ্রীলঙ্কা থেকে ৩৪ দশমিক ৬১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার উদ্ধার করা হয়েছে। দুটি দেশেই অ্যাসিস্ট্যান্স রিকোয়েস্ট পাঠানো হয়েছে এবং মামলা এখনো তদন্তাধীন।

বিভিন্ন বাংলাদেশি নাগরিক ও কোম্পানির পাচারের মাধ্যমে বিদেশি ব্যাংকগুলো বিশেষত সুইস ব্যাংকে গোপনে জমা রাখা বিপুল অর্থ উদ্ধারে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে একটি রিট করেন দুই আইনজীবী।

এর প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টের বিচারপতি নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি মহি উদ্দিন শামীমের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ রুলসহ আদেশ দেন।

সুইস ব্যাংকসহ দেশের বাইরে বিদেশি ব্যাংকে অর্থ রাখা ব্যক্তির নাম-ঠিকানা, টাকার পরিমাণ এবং ওই অর্থ উদ্ধারে পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তা জানাতে বলা হয়। সেই অনুসারে এই প্রতিবেদন এসেছে বলে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আমিন উদ্দিন মানিক জানান।

এফএইচ/ইএ/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]