স্বামীকে গলাটিপে হত্যা: মিডফোর্ডের কর্মচারী শেফালীর যাবজ্জীবন

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:২২ পিএম, ২৫ জানুয়ারি ২০২২
ছবিতে এমএলএসএস শেফালী

যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী সাইদ হাসান বাদলকে গলাটিপে হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় মিডফোর্ড হাসপাতালের এমএলএসএস শেফালীসহ তিনজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। কারাদণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেকের ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও এক মাসের কারাভোগের আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।

মঙ্গলবার (২৫ জানুয়ারি) ঢাকার ৪নং দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক জেসমিন আরা বেগম আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার পর তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।

কারাদণ্ডপ্রাপ্ত অপর দুই আসামি হলেন হলো শেফালীর আত্মীয় নয়ন ও আক্কাস বেপারী। মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, মামলার ভিকটিম সাইদ হাসান বাদল (৪০) ১৯৯২ সাল থেকে ২০০৮ সালের ২ নভেম্বর পর্যন্ত স্যার সলিমুল্লাহ মিটফোর্ড হাসপাতালের অ্যাকাউন্টস সেকশনে অফিস সহকারী হিসাবে কর্মরত ছিলেন।

সাইদ কর্মরত থাকাকালীন ১৯৯৯ সালে ওই হাসপাতালে কর্মরত এমএলএসএস শেফালী (৫০) গোপনে সাইদকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর তাদের ঘরে কন্যা সন্তান বৃথি (১৩) জন্মগ্রহণ করে। ২০০৮ সালের অক্টোবর মাসে সাইদ আমেরিকায় চলে যায়। আমেরিকায় থাকাকালে সাইদ হাসান তার মেয়ে বৃথির যাবতীয় খবচ বহন করতো। কিন্তু তার স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ছিল।

সাইদের অপর ভাই ইঞ্জিনিয়ার জাহিদ হাসানসহ ২০১২ সালের ১ জানুয়ারি আমেরিকা থেকে নগদ ১০ হাজার ইউএস ডলার ও মালামালসহ বাংলাদেশ বিমান বন্দরে পৌঁছায়। এসময় তার ভাতিজা জাহিদ হাসান প্রাইভেটকারে নিয়ে তাকে রিসিভ করতে যায়। সাইদ দেশে আসার খবর শুনে তার স্ত্রী শেফালীও বিমান বন্দরে যায়। বিমান বন্দর থেকে সাইদ হাসান বাদলকে রিসিভ করে জাহিদ হাসানের প্রাইভেটে করে বাদল ও তার স্ত্রী শেফালী এবং মালামালের লাগেজসহ আসার পথিমধ্যে শেফালী বাদলকে শসা খাওয়ায়।

এরপর ওই দিন মিটফোর্ড হাসপাতালের ব্লাড ব্যাংকের পূর্বদিকে টিনসেডে শেফালী জাহিদ হাসানকে রেখে শেফালী ও সাইদ হাসান বাদল মালামাালের লাগেজসহ শেফালীর বাসায় চলে যায়। ভাতিজা জাহিদ হাসান দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করার পর একা একাই শেফালীর জাহিদ হাসানকে জানায় যে, সাইদ অসুস্থ। তাকে মিটফোর্ড হাসাপাতালে নিতে হবে।

এরপর সাইদ হাসান বাদলকে অচেতন অবস্থায় হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যায়। পরে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়াকালীন চিকিৎসক সাইদ হাসান বাদলকে মৃত ঘোষণা করেন। এঘটনায় সাইদের ভাই ডা. শহিদ হাসান কোতয়ালী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

২০১২ সালের ২৪ জুন দণ্ডবিধি ৩০২/৩৪ ধারায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ১৯ জুলাই আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র আমলে নেন আদালত। একই বছরের ৩০ আগস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত।বিভিন্ন সময় ১৬ জন আদালতে সাক্ষ্য দেন। আসামি পক্ষ ৩ জন সাফাই সাক্ষ্য আদালতে উপস্থাপন করেন।

জেএ/এমআরএম/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]