‘সাংসদ’ শব্দ ব্যবহার নিষিদ্ধ করতে আইনি নোটিশ

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:৪৬ পিএম, ২৭ এপ্রিল ২০২২

জাতীয় সংসদ সদস্যদের ‘সাংসদ’ হিসেবে শব্দ ব্যবহার নিষিদ্ধ এবং সংবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে দৈনিক প্রথম আলোর সম্পাদক-প্রকাশকসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে। এই অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার দায়ে বিচারের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

বুধবার (২৭ এপ্রিল) ল’ অ্যান্ড লাইফ ফাউন্ডেশন ট্রাস্টের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের তিন আইনজীবী এই আইনি নোটিশ পাঠান। ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির পল্লব, ব্যারিস্টার মোহাম্মদ কাওছার এবং ব্যারিস্টার মো. মাজেদুল কাদের ই-মেইলে এই আইনি নোটিশ পাঠান।

নোটিশ পাওয়ার তিনদিনের মধ্যে ব্যবস্থা না নিলে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে এতে উল্লেখ করা হয়েছে। আইনি (লিগ্যাল) নোটিশ পাঠানোর বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেন ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির পল্লব।

আইনি নোটিশে দৈনিক প্রথম আলোর সম্পাদক ও প্রকাশক, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, সংসদ সচিবালয়ের সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালকসহ (ডিজি) সংশ্লিষ্ট ১০ জনকে বিবাদী করা হয়েছে।

এতে বলা হয়, অনুচ্ছেদ ৭ অনুযায়ী সংবিধান বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আইন। সংবিধানের প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, ‘‘জনগণের অভিপ্রায়ের অভিব্যক্তি স্বরূপ এই সংবিধানের প্রাধান্য অক্ষুণ্ন রাখা, ইহার সংরক্ষণ, সমর্থন ও নিরাপত্তা বিধান আমাদের পবিত্র কর্তব্য’’। অনুচ্ছেদ ২১ অনুযায়ী সংবিধান ও আইন মান্য করা সব নাগরিকের কর্তব্য।

সংবিধানের ৬৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সর্বমোট ৩৫০ জন সংসদ সদস্যের সমন্বয়ে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ। সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদের সদস্যদের ‘সংসদ সদস্য’ হিসেবে অভিহিত করতে হবে। এটি একটি সাংবিধানিক পদ এবং সংসদ সদস্যদের অন্য কোনো নামে সম্বোধন করা অসাংবিধানিক।

কিন্তু বাংলাদেশের বহুল প্রচারিত দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকা দীর্ঘদিন ধরে ‘সংসদ সদস্য’ শব্দ ব্যবহার না করে ‘সাংসদ’ শব্দ ব্যবহার করে আসছে। এটি বাংলাদেশ সংবিধানের চরম লংঘন, অবমাননা এবং চরম ধৃষ্টতা ছাড়া কিছু নয়। এ বিষয়ে জাতীয় সংসদের স্পিকার কর্তৃক রুলিং জারি করে বলা হয়েছে ‘সংসদ সদস্য’ একটি সাংবিধানিক পদ এবং ‘সাংসদ’ শব্দ ব্যবহারের সুযোগ নেই।

অথচ দৈনিক প্রথম আলো সংবিধান এবং স্পিকারের রুলিং উপেক্ষা করে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে দীর্ঘদিন ধরে সংবিধান লংঘন করে আসছে, যা সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৭ক (১) (খ) অনুযায়ী রাষ্ট্রদ্রোহিতার সর্বোচ্চ দণ্ডনীয় অপরাধ।

কিন্তু বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় জাতীয় দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকা অব্যাহতভাবে অসাংবিধানিক ‘সাংসদ’ শব্দ ব্যবহার করে দেশ-বিদেশের মানুষের কাছে ভুল বার্তা দিচ্ছে। সংবিধান মান্যকরা প্রথম আলোর সাংবিধানিক দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব পালনে তারা ব্যর্থ হয়েছে।

এসব বিষয় উল্লেখ করে ‘সাংসদ’ শব্দ ব্যবহার না করে ‘সংসদ সদস্য’ শব্দ ব্যবহারের জন্য প্রথম আলোকে অনুরোধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রথম আলোর সম্পাদক এবং প্রকাশককে অসাংবিধানিক শব্দ ব্যবহারের জন্য জাতির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনার অনুরোধ করা হয়েছে।

এছাড়াও পাঠকদেরকে উদ্দেশ্যে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা প্রদানের অনুরোধ করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রথম আলো যাতে অসাংবিধানিক শব্দ ‘সাংসদ’ ব্যবহার না করে সেই বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে অপর বিবাদীদের অনুরোধ করা হয়েছে। প্রথম আলোর বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী রাষ্ট্রদ্রোহিতার অপরাধের বিচার প্রক্রিয়া শুরু করতে অপর বিদাদীদের অনুরোধ করা হয়েছে।

এফএইচ/কেএসআর/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]