জাকাতের অর্থ আত্মসাৎ: সাঈদীর মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ পেছালো

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১১:০৫ পিএম, ১২ মে ২০২২
দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী/ফাইল ছবি

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের (ইফা) জাকাত তহবিলের অর্থ আত্মসাতের মামলায় জামায়াতের নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ পিছিয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানির জন্য ২৫ মে দিন ধার্য করেছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (১২ মে) রাজধানীর বখশিবাজারে আলিয়া মাদরাসা মাঠে স্থাপিত অস্থায়ী বিশেষ জজ আদালতের বিচারক সৈয়দা হোসনে আরা এই আদেশ দেন।

এদিন আদালতে উপস্থিত ছিলেন মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী।

বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোশাররফ হোসেন কাজল। আদালতে তিনি দুদকের পক্ষে ছিলেন।

অন্যদিকে সাঈদীর পক্ষে ছিলেন আব্দুস সোবহান তরফদার, মো. মুজাহিদুল ইসলাম শাহিন, মতিউর রহমান আকন্দ ও রোকন রজা।

এছাড়া সাঈদীর বড় ছেলে শামীম সাঈদী ও সেজ ছেলে মাসুদ সাঈদীও উপস্থিত ছিলেন। মামলার তদবিরকারী হিসেবে আদালতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয় তাদের। 

jagonews24

অর্থ আত্মসাতের মামলার বাকি আসামিরা হলেন- ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সাবেক পরিচালক মোহাম্মদ লুৎফুল হক, মসজিদ কাউন্সিল ফর কমিউনিটি অ্যাডভান্সমেন্টের সাবেক চেয়ারম্যান মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, বন্ধুজন পরিষদের প্রধান সম্পাদক মিয়া মোহাম্মদ ইউনুস, ইসলামী সমাজ কল্যাণ কেন্দ্রের সাবেক সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মসজিদ কাউন্সিলের সহকারী পরিচালক মো. আব্দুল হক।

আসামিদের মধ্যে সাঈদী কারাগারে রয়েছেন। আর আবুল কালাম আজাদ এবং আব্দুল হক পলাতক। অপর তিন আসামি জামিনে।

জাকাতের অর্থ আত্মসাতের মামলায় সাঈদীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন বাতিল চেয়ে করা আবেদনের শুনানি শুরু হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানির জন্য দিন ধার্য রয়েছে হাইকোর্টে। বিষয়টি জানার পর আদালত মামলার শুনানি পিছিয়েছে বলে জানান সাঈদীর আইনজীবী মো. মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন।

ইফার যাকাত তহবিলের ১ কোটি ২৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে এই মামলা হয়। ২০১০ সালের ২৪ মে শেরেবাংলা নগর থানায় মামলাটি করেন ফাউন্ডেশনের সাবেক পরিচালক (অর্থ ও হিসাব) আইয়ুব আলী চৌধুরী।

তদন্ত শেষে দুদকের সহকারী পরিচালক ওয়াজেদ আলী গাজী ২০১২ সালের ৩০ এপ্রিল আদালতে মামলাটির অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

এদিকে ২ কোটি ২৭ লাখ ৪০ হাজার ১২০ টাকার আয় গোপন, ও তার ওপর প্রযোজ্য ৫৬ লাখ ৪৬ হাজার ৮১২ টাকা কর ফাঁকির অভিযোগে ২০১১ সালের ১৯ আগস্ট সাঈদীর বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। পরের বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর সাঈদীর বিরুদ্ধে এই মামলায় চার্জ গঠন করেন আদালত।

২০১৮ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারিতে মুক্তিযুদ্ধকালে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সাঈদীকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেন আপিল বিভাগ। ২০১০ সালের ২৯ জুন সাঈদী গ্রেফতার হন ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার অভিযোগে। পরে ২ আগস্ট মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়।

এফএইচ/জেডএইচ/

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]