সম্রাটকে জামিন দেওয়া ‘ঘোড়ার আগে গাড়ি চলার মতো’: হাইকোর্ট

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০১:৪৫ পিএম, ১৮ মে ২০২২

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের বহিষ্কৃত সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটের জামিন দেওয়াকে ‘ঘোড়ার আগে গাড়ি চলা’র মতো বিষয় বলে মন্তব্য করেছেন হাইকোর্ট।

বুধবার (১৮ মে) সম্রাটের জামিন বাতিলের আদেশ দেওয়ার সময় হাইকোর্ট এমন মন্তব্য করেন।

বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের হাইকোর্ট বেঞ্চ এদিন সম্রাটের জামিন বাতিল করে আদেশ দেন। একই সঙ্গে তাকে আগামী সাতদিনের মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়।

সম্রাটের জামিন বাতিলের ক্ষেত্রে আদালত বলেন, অভিযুক্তের (সম্রাটের) জামিন মঞ্জুরের ক্ষেত্রে ঢাকার ৬ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বিচারিক মানসিকতা দেখাননি। কোনো মেডিকেল রিপোর্ট না দেখে অসুস্থতা বিবেচনায় তিনি জামিন দিয়েছেন। যথাযথ মেডিকেল রিপোর্ট না দেখে অসুস্থতা বিবেচনায় কখনোই কোনো অভিযুক্তের জামিন হতে পারে না। শুধু তাই না, অভিযুক্তের জামিন দেওয়ার ক্ষেত্রে অভিযুক্তের অপরাধ ও তার বিরুদ্ধে হওয়া এই মামলার গুরুত্বও বিবেচনায় নেননি। এ জামিনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আইন ও আপিল বিভাগের নির্দেশনার ভুল প্রয়োগ করেছেন সংশ্লিষ্ট বিচারক। ভবিষ্যতে যাতে এমনটি না ঘটে তার জন্য অবশ্যই তাকে সতর্ক থাকতে হবে। বিচারিক মানসিকতা বজায় রাখতে হবে।

সম্রাটের আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী বলেন, নিম্ন আদালতের আদেশে সামান্য ত্রুটির কারণে জামিন বাতিল করেছেন হাইকোর্ট। সম্রাট এখনও অসুস্থ। তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যায়ের সিসিইউতে ভর্তি। আমি এটা আদালতে বলিছি।

বিচারিক আদালতে সম্রাটকে জামিন দেওয়া বিচারকের বিষয়ে হাইকোর্ট বলেন, মেডিকেল রিপোর্ট চাইলেন, কিন্তু সেটা না দেখেই জামিন দেওয়া তো ঘোড়ার আগে গাড়ি চলার মতো হয়ে গেলো। এসময় ওই বিচারককে সতর্ক করেন হাইকোর্ট।

এর আগে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় বুধবার (১১ মে) জামিন পান সম্রাট। ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৬-এর বিচারক আল আসাদ মো. আসিফুজ্জামান তিন শর্তে ৯ জুন পর্যন্ত জামিন মঞ্জুর করেছিলেন।

এরপর চার মামলার সব কটিতে জামিন পাওয়ায় ওই দিনই মুক্তি পান সম্রাট। সেদিন তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএসএমইউ) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এখনো এই হাসপাতালে রয়েছেন।

সম্রাটের পক্ষে আজ আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট মনসুরুল হক চৌধুরী ও অ্যাডভোকেট এহসানুল হক সামাজী। রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল আবু মোহাম্মদ (এএম) আমিন উদ্দিন। তার সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন মানিক। আর দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান।

দুদক আইনজীবী খুরশীদ আলম জানান, শুনানিতে আদালত ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, জামিন দেওয়া আদালতের ওই বিচারককে কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া উচিত। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এমন কাজ না করার জন্য ওই বিচারককে সতর্ক করেন হাইকোর্ট।

এর আগে ২০১৯ সালের ১২ নভেম্বর দুই কোটি ৯৪ লাখ ৮০ হাজার ৮৭ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে সম্রাটের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন দুদকের উপপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম।

গত ১১ এপ্রিল মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় সম্রাটের জামিন মঞ্জুর করেন ঢাকার সপ্তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ তেহসিন ইফতেখার। এছাড়া ১০ এপ্রিল অস্ত্র মামলায় ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ ফায়সাল আতিক বিন কাদের ও অর্থপাচার মামলায় ঢাকার অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তোফাজ্জল হোসেন জামিন মঞ্জুর করেছিলেন।

২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর ভোরে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থেকে সম্রাট ও তার সহযোগী এনামুল হক আরমানকে গ্রেফতার করে র‍্যাব। পরে তাকে নিয়ে দুপুর দেড়টার দিকে তার কাকরাইলের কার‍্যালয়ে অভিযান চালানো হয়। এসময় কার্যালয়ের ভেতর থেকে বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ, পিস্তল ও বিরল প্রজাতির বন্যপ্রাণীর চামড়া উদ্ধার করা হয়।  

এফএইচ/জেডএইচ/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]