‘সাংসদ’ নয়, এখন থেকে সংসদ সদস্য লিখবো: হাইকোর্টকে প্রথম আলো

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬:২১ পিএম, ১৮ মে ২০২২
ফাইল ছবি

দৈনিক প্রথম আলো সংসদ সদস্যদের (এমপি) নামের আগে ‘সাংসদ’ শব্দের পরিবর্তে এখন সংসদ সদস্য শব্দ ব্যবহার করবে— হাইকোর্টকে এমনটাই জানিয়েছেন প্রথম আলোর আইনজীবী।

বুধবার (১৮ মে) হাইকোর্টের বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি খিজির হায়াতের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে এ সংক্রান্ত রিটের শুনানি হয়। আদেশের বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেন রিটকারী আইনজীবী ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির পল্লব।

শুনানিতে প্রথম আলোর আইনজীবী ব্যারিস্টার মোস্তাফিজুর রহমান খান আদালতে বলেন, প্রথম আলো এরই মধ্যে সাংসদ শব্দের পরিবর্তে সংসদ সদস্য শব্দ ব্যবহার শুরু করেছে। এখন থেকে সাংসদ শব্দের পরিবর্তে সংসদ সদস্য পদ ব্যবহার করবে।

পরে আদালতে দীর্ঘদিন ধরে প্রথম আলো কেন সাংসদ শব্দ ব্যবহার করছে তার লিখিত ব্যাখ্যা জমা দিতে বলেন। একই সঙ্গে রিটের বিষয়ে শুনানি ও আদেশের জন্য আগামী রোববার (২২ মে) দিন ধার্য করেন আদালত।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির পল্লব, ব্যারিস্টার মোহাম্মদ কাওছার এবং ব্যারিস্টার মো. মাজেদুল কাদের। অন্যদিকে প্রথম আলোর পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার মো. মোস্তাফিজুর রহমান খান।

গত ১৬ মে দৈনিক প্রথম আলোয় সংসদ সদস্যদের (এমপি) নামের আগে ‘সাংসদ’ শব্দ ব্যবহার নিষিদ্ধ এবং সংবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগে পত্রিকাটির সম্পাদক ও প্রকাশকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে রিট দায়ের করা হয়।

রিটে দৈনিক প্রথম আলোর সম্পাদক ও প্রকাশক, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, সংসদ সচিবালয়ের সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালকসহ (ডিজি) সংশ্লিষ্ট ১০ জনকে বিবাদী করা হয়েছে।

ওই দিন হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় ল’ অ্যান্ড লাইফ ফাউন্ডেশনের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির পল্লব, ব্যারিস্টার মোহাম্মদ কাওছার ও ব্যারিস্টার মো. মাজেদুল কাদের হাইকোর্টে এ রিট করেন। রিটের বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেন ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির পল্লব।

গত ২৭ এপ্রিল এ বিষয়ে দৈনিক প্রথম আলোর সম্পাদক-প্রকাশকসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার দায়ে বিচারের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে ই-মেইলে ল’ অ্যান্ড লাইফ ফাউন্ডেশন ট্রাস্টের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের তিন আইনজীবী লিগ্যাল (আইনি) নোটিশ পাঠান। তারা হলেন ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির পল্লব, ব্যারিস্টার মোহাম্মদ কাওছার এবং ব্যারিস্টার মো. মাজেদুল কাদের।

বলা হয়, নোটিশ পাওয়ার তিনদিনের মধ্যে ব্যবস্থা না নিলে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে উল্লেখ করা হয়। এরপর এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় রিট আবেদন করা হয়।

রিটে বলা হয়েছে, অনুচ্ছেদ ৭ অনুযায়ী সংবিধান বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আইন। সংবিধানের প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, ‘জনগণের অভিপ্রায়ের অভিব্যক্তিস্বরূপ এ সংবিধানের প্রাধান্য অক্ষুণ্ন রাখা, ইহার সংরক্ষণ, সমর্থন ও নিরাপত্তা বিধান আমাদের পবিত্র কর্তব্য’। অনুচ্ছেদ ২১ অনুযায়ী সংবিধান ও আইন মান্য করা সব নাগরিকের কর্তব্য।

সংবিধানের ৬৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মোট ৩৫০ জন সংসদ সদস্যের সমন্বয়ে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ। সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদের সদস্যদের ‘সংসদ সদস্য’ হিসেবে অভিহিত করতে হবে। এটি একটি সাংবিধানিক পদ এবং সংসদ সদস্যদের অন্য কোনো নামে সম্বোধন করা অসাংবিধানিক।

কিন্তু বাংলাদেশের বহুল প্রচারিত দৈনিক প্রথম আলো দীর্ঘদিন ধরে ‘সংসদ সদস্য’ শব্দ ব্যবহার না করে ‘সাংসদ’ শব্দ ব্যবহার করে আসছে। এটি বাংলাদেশ সংবিধানের চরম লঙ্ঘন, অবমাননা ছাড়া কিছু নয়। এ বিষয়ে জাতীয় সংসদের স্পিকার রুলিং জারি করে বলেছে ‘সংসদ সদস্য’ একটি সাংবিধানিক পদ এবং ‘সাংসদ’ শব্দ ব্যবহারের সুযোগ নেই।

অথচ দৈনিক প্রথম আলো সংবিধান এবং স্পিকারের রুলিং উপেক্ষা করে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে দীর্ঘদিন ধরে সংবিধান লঙ্ঘন করে আসছে, যা সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৭ক (১) (খ) অনুযায়ী রাষ্ট্রদ্রোহিতার সর্বোচ্চ দণ্ডনীয় অপরাধ। কিন্তু বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় জাতীয় দৈনিক প্রথম আলো অব্যাহতভাবে অসাংবিধানিক ‘সাংসদ’ শব্দ ব্যবহার করে দেশ-বিদেশের মানুষের কাছে ভুল বার্তা দিচ্ছে। সংবিধান মান্য করা প্রথম আলোর সাংবিধানিক দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে তারা।

এসব বিষয় উল্লেখ করে ‘সাংসদ’ শব্দ ব্যবহার না করে ‘সংসদ সদস্য’ শব্দ ব্যবহারের জন্য প্রথম আলোকে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রথম আলোর সম্পাদক এবং প্রকাশককে অসাংবিধানিক শব্দ ব্যবহারের জন্য জাতির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করতে বলা হয়েছে। এছাড়া পাঠকদের উদ্দেশ্যে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।

এছাড়া প্রথম আলো যাতে অসাংবিধানিক শব্দ ‘সাংসদ’ ব্যবহার না করে সেই বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে অন্য বিবাদীদের অনুরোধ করা হয়েছে। প্রথম আলোর বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী রাষ্ট্রদ্রোহিতার অপরাধের বিচার প্রক্রিয়া শুরু করতে বিবাদীদের বলা হয়েছে।

এফএইচ/এমএএইচ/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]