শ্রমিকদের ৪০০ কোটি টাকা পরিশোধের আশ্বাস, মামলা প্রত্যাহার

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২:৪৬ পিএম, ২৩ মে ২০২২
ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও তার প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ টেলিকমের লোগো

গ্রামীণ টেলিকমের শ্রমিক-কর্মচারীদের পাওনা ৪৩৭ কোটি টাকা পরিশোধের আশ্বাসের ভিত্তিতে গ্রামীণ টেলিকমের বিরুদ্ধে শতাধিক মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে।

সোমবার (২৩ মে) হাইকোর্টের কোম্পানি কোর্টে এ তথ্য জানান তাদের আইনজীবী ব্যারিস্টার মো. মোস্তাফিজুর রহমান খান। কোম্পানি কোর্টের বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের একক বেঞ্চে এ বিষয়ে শুনানি হয়। এর পরে রিটটি খারিজ করা হয়। এ ছাড়া অপর একটি দ্বৈত বেঞ্চে থাকা পৃথক আরো পাঁচটি আবেদনও খারিজ হয়।

গ্রামীণ টেলিকম কর্মীদের এই পাওনা আদালতের বাইরে সমঝোতার মাধ্যমে পরিশোধ করা হবে তাই ১১০টি মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের পক্ষে লড়াই করে আসা আইনজীবী ইউসূফ আলী বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেন।

আইনজীবী বলেন, ‘কর্মীদের পক্ষ থেকে গ্রামীণ টেলিকমের অবসায়ন চেয়ে হাইকোর্টে একটি মামলা, দুইটি রিট ও তিনটি আদালত অবমাননার অভিযোগ মামলা দায়ের করা হয়েছিল। অন্যদিকে পাওনা পরিশোধ চেয়ে শ্রম আদালতে আরও ১০৪টি মামলা করেছিলেন মোট ১৭৬ জন কর্মী।’

তিনি বলেন, কর্মীদের দাবি মেনে নিয়ে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে সব পাওনা পরিশোধের আশ্বাস দিলে সব মামলা প্রত্যাহার করা হয়। তারা হিসাব-নিকাশ করে জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানটির কাছে শ্রমিকদের সবমিলে ৪৩৭ কোটি টাকা পাওনা আছে।

এর আগে সোমবার (২৩ মে) হাইকোর্টের বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের (কম্পানি কোর্ট) একক বেঞ্চ শ্রমিকদের পক্ষ থেকে আইনজীবী ইউসূফ আলী জানান, শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধের বিষয়ে গ্রামীণ টেলিকম আশ্বাস দিয়েছে, সেজন্য সমঝোতার মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা করা হবে। পরে রিট মামলা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।

এর আগে ৭ ফেব্রুয়ারি গ্রামীণ টেলিকমের শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের পক্ষে অবসায়নের আবেদন করেছিলেন ইউসুফ আলী।

গ্রামীণ টেলিকম কোম্পানি শ্রমিকের অংশের লভ্যাংশ শ্রমিক-কর্মচারীদের মধ্যে বণ্টন না করায় শ্রম আদালত ও হাইকোর্টে এসব মামলা করেছিলেন শ্রমিকরা।

এরমধ্যে গ্রামীণ টেলিকমের অবসায়ন চেয়ে গত ৭ ফেব্রুয়ারি গ্রামীণ টেলিকমের শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের পক্ষে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করা হয়েছিল।


গ্রামীণ টেলিকমের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আইনজীবী মো. ইউসুফ আলী জানান, লভ্যাংশের পাওনা অর্থ দাবি নিয়ে সম্প্রতি গ্রামীণ টেলিকমের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের একটি সমঝোতা হয়। সমঝোতা অনুযায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মামলা প্রত্যাহার করে নিলে মালিকপক্ষ আইন অনুযায়ী তাদের সমুদয় পাওনা পরিশোধ করবে।

২০১০ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ১৭৬ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর সর্বমোট পাওনা টাকার পরিমাণ আনুমানিক ৪৩৭ কোটি টাকা। এ অনুযায়ী মামলাগুলো না চালানোর কথা আদালতে বলা হয়। উভয়পক্ষের উপস্থিতিতে সব মামলা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। 

গ্রামীণ টেলিকমের অন্যতম আইনজীবী মুস্তাফিজুর রহমান খান বলেন, গ্রামীণ টেলিকমের মুনাফার অংশ দাবি করে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মামলাগুলো করেন। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এবং গ্রামীণ টেলিকম ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ ওই দাবির বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছেছে। এরইমধ্যে কিছু টাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পরিশোধ করা হয়েছে। বাকি টাকা পরিশোধ করা হবে। কোম্পানি ও ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে করা মামলাগুলো তারা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।

লভ্যাংশের অর্থ প্রদানের দাবি নিয়ে করা ১১০টি মামলার সব কটিই সমঝোতার পর আদালত থেকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। ১১০টি মামলার মধ্যে ১০৪টি শ্রম আদালতে ও ছয়টি উচ্চ আদালতে করা হয়েছিল।

এফএইচ/জেডএইচ/এসএইচএস/জিকেএস/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]