কুমিল্লার নাশকতার মামলায় খালেদার স্থায়ী জামিন

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১১:৫৮ এএম, ২৪ মে ২০২২
ফাইল ছবি

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে বাসে পেট্রলবোমা হামলার ঘটনায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে করা মামলায় হাইকোর্টে স্থায়ী জামিন পেয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন প্রশ্নে জারি করা রুল মঞ্জুর করে সোমবার (২৩ মে) হাইকোর্টের বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি এসএম মুজিবুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই রায় দেন।

খালেদা জিয়ার আইনজীবী ও বিএনপির আইন সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল মঙ্গলবার (২৪ মে) বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে সাবেক এ প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলা করা হয়েছে। ন্যায়বিচার পেলে সব মামলায় তিনি খালাস পেতেন। আর জামিন দিলেও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া তার অব্যবহার করেন না। এ মামলায় তার প্রমাণ। এ মামলায় আগে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পেয়েছিলেন। সেটার অপব্যবহার করেননি। এখন এ মামলায় তার জামিনের রুল মঞ্জুর হয়েছে। অর্থাৎ তার জামিন এখন স্থায়ী হয়েছে।

২০১৫ সালের শুরুর দিকে ২০ দলীয় জোটের অবরোধ চলাকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চৌদ্দগ্রামে দুষ্কৃতকারীদের ছোড়া পেট্রলবোমায় আইকন পরিবহনের একটি বাসের কয়েকজন যাত্রী অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যান। আহত হন আরও ২০ জন। সেসব ঘটনায় দুটি মামলা করা হয়।

২০১৯ সালের ৬ মার্চ একই মামলায় হাইকোর্ট রুল জারিসহ ছয় মাসের জামিন মঞ্জুর করে আদেশ দেন। পরে খালেদা জিয়ার জামিনের মেয়াদ পর্যায়ক্রমে বাড়ানো হয়। ওই বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি কুমিল্লার আদালত তার জামিন না মঞ্জুর করেছিলেন। এরপর একই বছরের ২৭ ফেব্রুয়ারি বিচারিক আদালতের জামিন খারিজের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে জামিন আবেদন করেছিলেন বেগম খালেদা জিয়ার আইনজীবী।

বিএনপি-জামায়াতসহ ২০ দলীয় জোটের ডাকা হরতাল-অবরোধ চলাকালে ২০১৫ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি ভোরে চৌদ্দগ্রামের জগমোহনপুরে একটি নৈশকোচে পেট্রলবোমা নিক্ষেপ করে দুর্বৃত্তরা। আইকন পরিবহনের ওই বাসটি কক্সবাজার থেকে ঢাকা যাচ্ছিল। ওই আগুনে পুড়ে ঘটনাস্থলে সাতজন নিহত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও একজন মারা যান। এর পরদিন অর্থাৎ ৩ ফেব্রুয়ারি রাতে এ ঘটনায় চৌদ্দগ্রাম থানার উপ-পরির্দশক (এসআই) নূরুজ্জামান হাওলাদার বাদী হয়ে হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে পৃথক দুটি মামলা করেন।

কুমিল্লায় নাশকতার অভিযোগে করা একই মামলায় ২০২১ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর বেগম জিয়ার জামিনের মেয়াদ বাড়ানোর আদেশ দেন হাইকোর্টের বিচারপতি একেএম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের সমন্বয়ে গঠিত ভার্চুয়াল বেঞ্চ। আদালতে ওইদিন খালেদা জিয়ার আবেদনের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, মোহাম্মদ কামরুজ্জামান মামুন ও অ্যাডভোকেট রোকনুজ্জামান সুজা। ওই মামলায় জারি করা রুল নিষ্পত্তি করে স্থায়ি জামিন দেন আদালত।

এফএইচ/এমএএইচ/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]