অবসরপ্রাপ্ত ইউপি সচিবদের বকেয়া আনুতোষিক দিতে হাইকোর্টে রুল

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০২:১৮ পিএম, ২৪ মে ২০২২
ফাইল ছবি

অবসরপ্রাপ্ত ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সচিবদের এককালীন শতভাগ আনুতোষিক ও নিয়মিত উৎসব ভাতা দেওয়ার নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব, আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট ৩০ জন বিবাদীকে এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৪ মে) আদেশের বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেন রিট আবেদনকারীদের আইনজীবী ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ন কবির পল্লব। তিনি বলেন, মঙ্গলবার রিট শুনানির জন্য দিন ধার্য ছিল। এ দিন হাইকোর্টের বিচারপতি মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি খিজির হায়াতের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে আজ ইউপি সচিবদের রিটের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ন কবির পল্লব। তাকে সহযোগিতা করেন আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাকেদুল কাদের। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুর্টি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (২১ এপ্রিল)অবসরপ্রাপ্ত ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সচিবদের এককালীন শতভাগ আনুতোষিক ও নিয়মিত উৎসব ভাতা দেওয়ার নির্দেশ চেয়ে রিট করা হয়।

কুমিল্লা জেলার নাঙ্গলকোট থানার ঢালুয়া ইউনিয়ন পরিষদের অবসরপ্রাপ্ত সচিব মো. ইউসুফ ভূঁইয়াসহ ১৪৬ জন অবসরপ্রাপ্ত ইউপি সচিবের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ন কবির পল্লব এ রিট করেন।

রিটে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট ৩০ জনকে বিবাদী হয়। আজ ওই রিটের শুনানি শেষে এই আদেশ দেন আদালত।

এর আগে গত ১৬ এপ্রিল কুমিল্লা জেলার নাঙ্গলকোট থানার ঢালুয়া ইউনিয়ন পরিষদের অবসরপ্রাপ্ত সচিব মো. ইউসুফ ভূঁইয়াসহ ১৪৬ জন অবসরপ্রাপ্ত ইউপি সচিবের পক্ষ থেকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়। নোটিশ পাওয়ার পরও এ বিষয়ে ব্যবস্থা না নেওয়াই রিট আবেদন করা হয়।

আইনজীবী ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ন কবির পল্লব বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের সচিবরা অবসর গ্রহণের সময় সরকারি নিয়ম অনুযায়ী গ্রস পেনশনের ৫০ শতাংশ বাধ্যতামূলক সমর্পণ করে তার বিপরীতে আনুতোষিক পেয়েছেন। কিন্তু গ্রস পেনশনের বাকি ৫০ শতাংশ সমর্পণ করা সত্ত্বেও কোনো ধরনের আনুতোষিক পাননি।

তিনি বলেন, নিয়ম অনুযায়ী সমর্পিত বাকি ৫০ শতাংশের বিপরীতে তারা উক্ত টাকার অর্ধেক হারে এককালীন আনুতোষিক প্রাপ্য হবেন। কিন্তু কোনো সুস্পষ্ট কারণ ছাড়াই তাদের বাকি আনুতোষিক আটকে দিয়েছে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। যা শুধু বেআইনি নয় বরং অবসরপ্রাপ্ত ইউনিয়ন পরিষদ সচিবদের সংবিধান স্বীকৃত মৌলিক অধিকারের চরম লঙ্ঘন ও বৈষম্যমূলক।

রিটে বলা হয়েছে, ২০১১ সালের স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) কর্মচারী চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী ইউনিয়ন পরিষদের সচিবরা পরিষদের নিজস্ব কর্মচারী। বিধিমালা অনুযায়ী, যেহেতু তারা অন্যান্য সরকারি কর্মচারীর ন্যায় মাসিক পেনশনের আওতাভুক্ত নয় সেহেতু গ্রস পেনশনের সমস্ত টাকা সরকারের নিকট সমর্পণ করে গ্রস পেনশনের সমুদয় পরিমাণ থেকে মোট ৭৫ শতাংশ এককালীন আনুতোষিক পাওয়ার বিধান রয়েছে।

এছাড়া ২০১১ সালের বিধিমালা অনুযায়ী, তাদের জাতীয় বেতন স্কেল অনুযায়ী বেতন-ভাতা দেওয়া ও উৎসব ভাতা দেওয়ার বিধান রয়েছে। কিন্তু তাদের সম্পূর্ণ আনুতোষিক দেওয়ায় অস্বীকৃতি ও কোনো ধরনের উৎসব ভাতা না দেওয়া আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

একই সঙ্গে ১৯৯৪ সালের ইউনিয়ন পরিষদ কর্মচারী (ভবিষ্যৎ তহবিল ও আনুতোষিক) বিধিমালা অনুযায়ী, সচিবরা সরকারি কর্মচারী ন্যায় পেনশন, আনুতোষিক ও উৎসব ভাতা পাওয়ার হকদার। আইনের সুস্পষ্ট বিধান থাকা সত্ত্বেও অবসরপ্রাপ্ত সচিবদেরকে সম্পূর্ণ আনুতোষিক ও কোনো প্রকার উৎসব ভাতা না দেওয়া বেআইনি, নিপীড়নমূলক ও অযৌক্তিক। আনুতোষিক ও উৎসব ভাতা প্রাপ্তি একজন সরকারি অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীর ন্যায্য অধিকার। যা থেকে কোনোভাবেই তাকে বঞ্চিত করা যাবে না।

এফএইচ/ওএমএএইচ/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]