দুদকের আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত শরীফের রিটের শুনানি মুলতবি

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭:৫৮ পিএম, ২৪ মে ২০২২
শরীফ উদ্দিন, দুদকের উপ-সহকারী পরিচালক পদ থেকে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপ-সহকারী পরিচালক পদ থেকে চাকরিচ্যুত শরীফ উদ্দিনের রিটের শুনানি (স্ট্যান্ডওভার) মুলতবি করা হয়েছে।

চাকরিচ্যুতি–সংক্রান্ত দুদক আইনের ৫৪(২) ধারা নিয়ে আপিল বিভাগে দুদকের করা আপিলের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত রিটের শুনানি মুলতবি থাকবে।

মঙ্গলবার (২৪ মে) হাইকোর্টের বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক।

আদালতে শরীফের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. সালাহ উদ্দিন দোলন। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মিয়া মোহাম্মদ ইশতিয়াক। আর দুদকের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক।

এর আগে গত ১৯ মে শরীফ উদ্দিনের চাকরি পুনর্বহাল সংক্রান্ত আবেদনের নথিপত্রসহ রিটে সম্পূরক তথ্য দিতে সময় নিয়েছিলেন তার আইনজীবী। পরে এ বিষয়ে পরবর্তী সময়ে শুনানির জন্য সোমবার (২৩ মে) দিন ধার্য করেন হাইকোর্ট। সোমবার শুনানি না হাওয়ায় আজ সেটি শুনানির জন্য ওঠে।

রিটটি দায়েরের আগে চাকরি থেকে অপসারণের আদেশ পুননিরীক্ষণের মাধ্যমে প্রত্যাহার করে চাকরির ধারাবাহিকতা ও অন্যান্য সুবিধা পুনর্বহাল চেয়ে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি দুদক চেয়ারম্যানের কাছে আবেদন (রিভিউ) করেন শরীফ উদ্দিন। তবে রিভিউ’র সিদ্ধান্ত না পাওয়ায় গত ১৯ মে শরীফের আইনজীবী রিট শুনানিতে সময়ের আরজি জানালে আদালত ২৩ মে দিন রাখেন। এর ধারাবাহিকতায় রিটের ওপর শুনানি হয়।

গত ১৪ মে সকালে দুর্নীতি দমন কমিশন (চাকরি) বিধিমালা-২০০৮ এর ৪৮ ধারা মোতাবেক অপসারণের আদেশ প্রত্যাহারের পাশাপাশি চাকরিতে পুনর্বহালের আবেদন করেন শরীফ উদ্দিন।

এর আগে গত ১৩ মার্চ শরীফের চাকরিতে পুনর্বহাল দাবিতে রিট করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মিয়া মোহাম্মদ ইশতিয়াক। রিটে দুদকের সচিব ও চেয়ারম্যান এবং আইন ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিবকে বিবাদী করা হয়।

রিটের আগে চাকরিতে পুনর্বহালের জন্য দুদকে রিভিউ করেছিলেন শরীফ উদ্দিন। ২৭ ফেব্রুয়ারি দুদকের চেয়ারম্যান বরাবর তিনি এ আবেদন করেন। কিন্তু তার আবেদন খারিজ হয়ে যায়।

গত ১৬ ফেব্রুয়ারি চাকরিচ্যুত করা হয় শরীফ উদ্দিনকে। তখন দুদক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহের সই করা আদেশে বলা হয়, দুর্নীতি দমন কমিশন (কর্মচারী) বিধিমালা- ২০০৮ এর বিধি ৫৪ (২) তে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে মো. শরীফ উদ্দিন (উপ-সহকারী পরিচালক) দুদক, সমন্বিত জেলা কার্যক্রম, পটুয়াখালীকে চাকরি থেকে অপসারণ করা হলো।

এরপর এ ঘটনার প্রতিবাদে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করেন শরীফ উদ্দিনের সহকর্মীরা। পরে তারা ৫৪(২) ধারা বাতিলের দাবিতে দুদক সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন গঠন করেন।

এছাড়া শরীফ উদ্দিনকে অপসারণ করায় হাইকোর্টে চিঠি ও রিট করেন সুপ্রিম কোর্টের ১০ আইনজীবী।

এর আগে চট্টগ্রাম দুদক কার্যালয়ে দায়িত্ব পালনকালে ২০২১ সালের ১৬ জুন ভোটার তালিকায় রোহিঙ্গাদের অবৈধভাবে অন্তর্ভুক্তের অভিযোগে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের পরিচালকসহ ইসির চার কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন শরীফ।

একই বছর চট্টগ্রাম-কক্সবাজার হাইওয়ে সংলগ্ন কলাতলী বাইপাস রোড এলাকায় পিবিআই অফিস তৈরির জন্য এক একর জমি অধিগ্রহণে জালিয়াতির ঘটনা উঠে আসে শরীফ উদ্দিনের তদন্তে।

এছাড়া কক্সবাজারের মেগা উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর জমি অধিগ্রহণের দুর্নীতিতে জড়িত বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে মামলাও করেন শরীফ উদ্দিন। এ ঘটনায় কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়।

এরপর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ স্বাস্থ্যখাতের অনিয়ম-দুর্নীতির তদন্তে নামে দুদক। তখন নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকায় বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার ও দুদকের পক্ষে বেশ কয়েকটি মামলা করেছিলেন শরীফ।

এফএইচ/জেডএইচ/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]