যুদ্ধাপরাধ: শর্তসাপেক্ষে জামিন পেলেন ডুমুরিয়ার নাজের আলী

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩:০৪ পিএম, ২৫ মে ২০২২

মুক্তিযুদ্ধকালীন সংঘটিত হত্যা, গণহত্যা ও ধর্ষণসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় খুলনার ডুমুরিয়ার নাজের আলী ফকিরকে (৬৮) স্বাস্থ্যগত কারণে শর্তসাপেক্ষে জামিন দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

শর্ত মোতাবেক, জামিনে থাকাকালে শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকায় আসামিকে ঢাকায় ছেলে বা আত্মীয়ের বাসায় থাকতে হবে। তিনি কখনো গ্রামের বাড়িতে যেতে পারবেন না এবং সাক্ষীকে কোনো প্রকার হুমকি দিতে পারবেন না।

আসামিপক্ষের আইনজীবী আব্দুস সাত্তার পালোয়ান আদেশের বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেছেন।

বুধবার (২৫ মে) ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

এদিন আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী ও অন্যতম প্রসিকিউটর সৈয়দ হায়দার আলী। তাকে সহযোগিতা করেন প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার মোসফেকুর রহমান। অন্যদিকে আসামিপক্ষে শুনানিতে ছিলেন অ্যাডভোকেট আব্দুস সাত্তার পালোয়ান।

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ২০১৭ সালের ২১ এপ্রিল খুলনার ডুমুরিয়া থানা ও ঢাকা থেকে নয়জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

এর মধ্যে ডুমুরিয়া থেকে আব্দুর রহিম (৬৮), শামসুর রহমান (৭৫), জাহান আলী বিশ্বাস (৬৭), মো. শাজাহান (৬৮), করিম শেখ (৬৮), আবু বকর সরদার (৬৭ ) ও রওশন আলী গাজী (৭২) এবং রাজধানীতে গ্রেফতার হন নাজের আলী ফকির (৬৮) ও সোহরাব হোসেন সরদার (৬২)।

মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, আসামিরা ১৯৭১ সালের ১৮ মে খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার খর্ণিয়া গ্রাম থেকে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে থাকা আনু মোল্লা ওরফে আজিজ শেখ, মজিদ বিশ্বাস, সাহেব আলী, শামসুল মোল্লা, ইমাম শেখ, আমজাদ সরদার, আব্দুল লতিফ মোড়ল ও কাওসার শেখসহ নয়জনকে ধরে নির্যাতন করতে করতে রানাই এলাকার বকুলতলায় নিয়ে যায়। সেখানে তাদের গুলি করে হত্যার পর মরদেহ নদীতে ফেলে দেয়। তবে তাদের মধ্যে থেকে একজন জীবন নিয়ে পালিয়ে আসতে সক্ষম হন।

ওই ঘটনায় খর্নিয়া গ্রামের লিয়াকত আলী গাজী বাদী হয়ে ২০১৭ সালের ১ জানুয়ারি ডুমুরিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তে প্রাথমিকভাবে ঘটনার সত্যতা মিলেছে।

হত্যা মামলার তদন্তকালে হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে আরও চার-পাঁচটি অভিযোগ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা।

এফএইচ/এমকেআর/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]