জুরাইনে পুলিশের ওপর হামলা: দুই আইনজীবীর রিমান্ড-রুল নিষ্পত্তি

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১১:৪৫ এএম, ১৯ জুন ২০২২
জুরাইনে এক পুলিশ সদস্যকে মারছে জনতা/ফাইল ছবি

রাজধানীর জুরাইনে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনার মামলায় দুই আইনজীবীর রিমান্ড বাতিলে জারি করা রুল নিষ্পত্তি করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

বিচারিক আদালতে আইনজীবীদের রিমান্ড বাতিল করে জামিন দেওয়ায় রুলের কার্যকারিতা না থাকায় এই আদেশ দেওয়া হয়।

রোববার (১৯ জুন) প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন।

বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেছেন আইনজীবী ব্যারিস্টার অনিক আর হক।

এর আগে ১২ জুন দুই আইনজীবীর রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন বিচারিক আদালত। এরপর এক রিটের শুনানি নিয়ে ৯ জুন মামলার নথি তলব করেছিলেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে রিমান্ড কেন বাতিল হবে না, তা জানতে চেয়ে রুলও জারি করেছিলেন। এরপর হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করেন আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালত। তারই ধারাবাহিকতায় আজ সেটি শুনানি হয়।

রিটকারীদের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সুভির নন্দী দাস জাগো নিউজকে বলেন, আমরা আবেদন করার পর ৯ জুন মামলার নথি তলব করেন হাইকোর্ট। এরপর হাইকোর্টের দেওয়া আদেশ স্থগিত করেন চেম্বার জজ আদালত।

জুরাইনের ওই ঘটনায় দুই আইনজীবীকে রিমান্ডে নেওয়ায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত চেয়ে রিট করেন আইনজীবী সৈয়দ ফজলে ইলাহীর পক্ষে আইনজীবী এবিএম শিবলী সাদেকীন।

এর আগে ৭ জুন জুরাইন রেলগেট দিয়ে উল্টোপথে আসছিলো একটি মোটরসাইকেল। সেই মোটরসাইকেলের গতিরোধ করলে সার্জেন্ট আলী হোসেনের সঙ্গে বিতর্কে জড়ান মোটরসাইকেলআরোহী সোহাগ উল ইসলাম রনি ও তার স্ত্রী ইয়াসিন জাহান নিশান।

একপর্যায়ে তাদের মধ্যে হাতাহাতি হয়। পরে লোকজন জড়ো হওয়ায় ওই এলাকার ট্রাফিক পরিদর্শক (টিআই) বিপ্লব ভৌমিক কয়েকজন কনস্টেবল নিয়ে এসে তাদের সবাইকে মীমাংসার জন্য সড়কে থাকা ট্রাফিক পুলিশ বক্সে নিয়ে যান। এসময় মোবাইলে ইয়াসিন জাহান নিশান বিষয়টি তার ভাই ইয়াসির আরাফাতকে জানান। তিনি লোকজন নিয়ে এসে পুলিশ বক্সে প্রবেশ করেন। এরপর পুলিশ বক্স ভেঙে তারা বের হয়ে আসেন।

পুলিশ বক্সের গ্লাস দিয়ে সার্জেন্ট আলী হোসেনকে আঘাত করলে তার শরীরের বিভিন্ন জায়গা কেটে যায়। উত্তেজিত হামলাকারীরা ইউনিফর্মে থাকা সবার ওপরই হামলা করে। এসময় শ্যামপুর থানার এসআই উৎপল চন্দ্র ও এসআই সাকিব সেখানে গেলে তাদের ওপরও হামলা হয়।

ওই ঘটনায় শ্যামপুর থানায় পুলিশের ওপর হামলা, কাজে বাধা, হত্যাচেষ্টা ও সরকারি স্থাপনা ভাঙচুরের অভিযোগ এনে মামলা করেন সার্জেন্ট আলী হোসেন। মামলায় এজাহারভুক্ত তিনজনের নাম উল্লেখসহ ৩৫০-৪০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়।

সেই মামলায় ৮ জুন দুই আইনজীবীসহ পাঁচজনের তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তোফাজ্জল হোসেনের আদালত এ রিমান্ড দেন।

রিমান্ডপ্রাপ্তরা হলেন- শিক্ষানবিশ আইনজীবী সোহাবুল ইসলাম রনি ও তার শ্যালক আইনজীবী ইয়াসিন আরাফাত, স্থানীয় বাসিন্দা মো. শরীফ, মো. নাহিদ এবং মো. রাসেল।

এর মধ্যে মামলার একমাত্র নারী আসামি ইয়াসিন জাহান ভূঁইয়া নিশানের জামিন আগেই মঞ্জুর করেন আদালত।

এরপর ১৪ জুন অপর দুই আইনজীবীর রিমান্ড বাতিল করে জামিন দেন বিচারিক আদালত।

এফএইচ/জেডএইচ/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]