তিনদিনে দেড় কোটি টাকা সাহায্য করেছে মানুষ: ব্যারিস্টার সুমন

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:২৮ পিএম, ২২ জুন ২০২২

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন বলেছেন, সিলেট ও সুনামগঞ্জের বন্যার্ত মানুষের সাহায্যের জন্য সারাদেশ ও প্রবাসীদের কাছে আবেদন করেছিলাম। মাত্র তিনদিনে সাহায্যের পরিমাণ দেড় কোটি টাকা পার হয়েছে। যারা বিশ্বাস করেন যে বাংলাদেশের মানুষ একজন আরেকজনকে বিশ্বাস করে না এটা তাদের জন্য চরম দুঃসংবাদ। আমি যে বন্যার্তদের জন্য সাহায্যের আবেদন করেছিলাম এতে সাড়া দিয়ে মাত্র তিনদিনে দেড় কোটি টাকা সাহায্য করেছে মানুষ। প্রথমদিন ৭০ লাখ পরদিন ৯৭ লাখ এবং আজ পর্যন্ত দেড় কোটি টাকা পার হয়ে গেছে।

বুধবার (২২ জুন) ফেসবুক লাইভে এসে এ কথা বলেন ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন।

তিনি বলেন, এর মানে হলো বাংলাদেশে এটা একটা নজির স্থাপন হয়েছে যে একজন ব্যক্তিকে লোকজন এতো বিশ্বাস করে। একটা ব্যাংককেও তো মানুষ এতো বিশ্বাস করেন না। ব্যাংকের টাকাও ব্যাংকাররা লুটপাট করেন। এই পর্যায়ে এসে একজন ব্যক্তিকে দেড় কোটি টাকা দিয়ে বিশ্বাস করেছেন। আপনারা এতোটা বিশ্বাস করেছেন। এর মধ্যে এক কোটি ১৪ লাখ টাকা অলরেডি আমার হাতে। বাকি টাকা আসার পথে।

‘আপনারা কি জানেন একটা লোক ডিমের ব্যবসা থেকে ৫০ টাকা দিয়েছেন লাভের অংশ থেকে। তিনি আমাকে বলেছেন, আমার কথাটা বলবেন যে আমরা এভাবে মানুষের পাশে দাঁড়াতে চাই। ইংলিশ মিডিয়ামে ক্লাস সিক্সে পড়া এক ছেলে তার মায়ের মোবাইল থেকে ফোন ও ইমেইল করে বলেছে, ‘আমি আপনার সাথে শরিক হতে চাই, সহযোগিতা করতে চাই।’

তিনি বলেন, আমার মনে হচ্ছে এ বন্যাকে আমরা ফেস করতে শিখেছি। আমরা প্রকৃতিকে জয় করে এই জায়গা পর্যন্ত এসেছি। আমরাও বিশ্বাস করি এই বন্যাকে জয় করে এই সিলেট ছাড়বো। আমি সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্ট সব ক্যানসেল করে দিয়েছি। আমার কাছে মনে হয়েছে জীবনে অনেক টাকা ইনকাম করবো। কিন্তু সিলেটের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর যে সুযোগ আমি সিলেটি হিসেবে পেয়েছি, সেটা আমার জীবনের সবচেয়ে বড় পাওয়া।

‘তবে আরেকটা জিনিস আপনাদের বলতে চাই, এ বিপদে সিলেটের বাইরের মানুষ তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু এলাকার অনেক মানুষ তা করেনি। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, উত্তরবঙ্গ ও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ যে ভালোবাসা দেখিয়েছে তা প্রমাণ করছে দেশপ্রেম এখনো আছে। মনে হচ্ছে সারাদেশ নেমে পড়েছে সিলেটকে বাঁচাতে। এটা থেকে শিক্ষা হোক। এমন একটা বাংলাদেশ তৈরি হোক, যেকোনো বিপদে যেন আমরা একে অপরের পাশে দাঁড়িয়ে তা মোকাবিলা করতে পারি।’

ব্যারিস্টার সুমন বলেন, আমার কাছে যে টাকা আসছে সে টাকা সিস্টেমেটিকভাবে খরচ করতে চাই। মিডিয়ার মাধ্যমে আপনাদের জানাতে চাই।

এফএইচ/জেএস/বিএ/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]