প্রেমে বাধা দেওয়ায় শিক্ষককে পিটিয়ে হত্যা: আদালতে জিতু

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:০৯ পিএম, ৩০ জুন ২০২২

প্রেমে বাধা হয়ে দাঁড়ানোয় সাভারের আশুলিয়ায় হাজী ইউনুছ আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক উৎপল কুমার সরকারকে হত্যা করেছে বলে আদালতকে জানিয়েছে অভিযুক্ত স্কুলছাত্র আশরাফুল আহসান জিতু।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুন) রিমান্ড শুনানিতে জিতু নিজেই আদালতকে এ কথা বলে।

বৃহস্পতিবার আসামি জিতুকে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে দশ দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক এমদাদুল হক। রাষ্ট্রপক্ষ রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করে। তবে আসামি জিতুর পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না।

এসময় কেন হত্যা করা হয়েছে জানতে চাইলে জিতু বিচারককে বলে, রিমা নামে এক মেয়ের সঙ্গে আমার সম্পর্ক ছিল। শিক্ষক আমার প্রেমে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। আমার বাসায় গিয়ে দুর্নাম ছড়িয়েছে। এছাড়া আরেক মেয়ের কথা বলে আমার বাসায় দুর্নাম ছড়িয়েছে। আমি এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে স্টাম্প দিয়ে আঘাত করি।

শুনানি শেষে আদালত তার পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এদিকে রিমান্ড আবেদনে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জিতুর বয়স ১৯ নির্ধারণ করেছেন। এর আগে মামলার এজাহারে তার বয়স ১৬ বছর দেওয়া হয়েছিল।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, ভুক্তভোগী শিক্ষক উৎপল কুমার সরকার চিত্রশাইল হাজী ইউনুস আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক ও শৃঙ্খলা কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। আসামি জিতু এ স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্র। জিতু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন ধরনের অপকর্মসহ ছাত্রীদের ইভটিজিং করতো। ভুক্তভোগী উৎপল কুমার সরকার এ প্রতিষ্ঠানের সচেতন শিক্ষক হিসেবে ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে নীতিনৈতিকতার বিষয়টি দেখাশোনা করতেন।

আবেদনে আরও বলা হয়, ২৫ জুন বেলা দেড়টার দিকে চিত্রশাইল হাজী ইউনুছ আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে মেয়েদের ক্রিকেট খেলা চলাকালে আসামি জিতুসহ তার সহযোগী অজ্ঞাতনামা আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে বেআইনি জনতা বন্ধে কলেজ প্রাঙ্গণে এসে উৎপল কুমার সরকারকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় ও কপালে আঘাত করে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে। এছাড়া ক্রিকেট খেলার স্টাম্প দিয়ে এলোপাতাড়ি মারপিট করে গুরুতর আহত করে। আসামি ক্রিকেট স্টাম্পের সুঁচালো অংশ দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে উৎপলের ডান ও বাম পাশের পেটে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে। এতে পেটের নাড়িভুঁড়িসহ বিভিন্ন গ্রন্থি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর চিকিৎসাধীন অবস্থায় উৎপল মারা যান। প্রাথমিক তদন্তে আসামি জিতুর জুনিয়র দাখিল পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশন কার্ডসহ আসামির অধ্যায়নরত স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ কর্তৃক প্রদত্ত প্রত্যায়নপত্র অনুযায়ী ২০০৩ সালের ১৭ জানুয়ারি তার জন্ম। সেক্ষেত্রে ঘটনার সময় আসামির বয়স ছিল ১৯ বছর ৫ মাস ৮ দিন।

এর আগে জিতুকে গাজীপুর থেকে গ্রেফতার করা হয়। এ মামলায় জিতুর বাবা উজ্জ্বল পাঁচদিনের রিমান্ডে রয়েছেন।

হত্যার এ ঘটনায় ওই শিক্ষকের বড় ভাই অসীম কুমার সরকার আশুলিয়া থানায় ওই ছাত্রের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন।

জেএ/এমএইচআর/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]