গ্রামীণ টেলিকম: আইনজীবীর ১২ কোটি টাকা ফি নিয়ে প্রশ্ন হাইকোর্টের

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:২৬ পিএম, ৩০ জুন ২০২২
ফাইল ছবি

গ্রামীণ টেলিকমের অবসায়ন চাওয়া রিটকারী আইনজীবীকে তার ফি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন হাইকোর্ট। আদালত বলেন, বাংলাদেশ কেন, উপমহাদেশে এমন কোনো আইনজীবী জন্ম নেননি যার ফি ১২ কোটি টাকা।

এর আগে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ টেলিকমের বিরুদ্ধে শ্রমিকদের দায়ের করা মামলার আইনজীবীর বিরুদ্ধে ১২ কোটি টাকার বিনিময়ে সমঝোতার অভিযোগ ওঠে।

এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার (৩০ জুন) বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের হাইকোর্ট বেঞ্চ বলেন, আমরা শুনেছি শ্রমিকদের আইনজীবীকে অর্থের বিনিময়ে হাত করে তাদের মামলায় আপস করতে বাধ্য করা হয়েছে।

আদালতে আজ গ্রামীণ টেলিকমের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার মোস্তাফিজুর রহমান খান। শ্রমিকদের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট ইউসুফ আলী।

হাইকোর্ট বলেন, আদালতকে ব্যবহার করে অনিয়ম যেন না হয়। যদি সবকিছু আইন অনুযায়ী না হয়, তবে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে। আমি চাই না আদালত এবং আইনজীবীর সততা নিয়ে কোনো প্রশ্ন ওঠে।

এ সময় আদালত বিস্ময় প্রকাশ করে আরও বলেন, বাংলাদেশ কেন, উপমহাদেশে এমন কোনো আইনজীবী জন্ম নেননি, যার ফি ১২ কোটি টাকা হবে। এরপর আদালত শ্রমিকরা কে কত টাকা ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন তার তালিকা দাখিলের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে এ সংক্রান্ত নথিও দাখিল করতে বলা হয়েছে।

শুনানির একপর্যায়ে আদালত ড. ইউনূসের আইনজীবীকে বলেন, আপনি কত টাকা ফি নিয়েছেন? তখন আইনজীবী বলেন, আমি ২০ লাখ টাকা নিয়েছি। আদালত বলেন, আপনি তো ২০ লাখ নিয়েছেন, কিন্তু চাকরিচ্যুত শ্রমিকদের আইনজীবী কীভাবে ১২ কোটি টাকা নেন!

এ সময় আইনজীবীরা আদালতকে জানান, চাকরিচ্যুত শ্রমিকরা এখন পর্যন্ত ৩৮০ কোটি টাকা পেয়েছেন। বাকি আট শ্রমিকদের মধ্যে চারজন দেশের বাইরে থাকায় তাদের টাকা পরিশোধ করা হয়নি। চারজন শ্রমিক মারা যাওয়ায় তাদের ওয়ারিশ জটিলতা নিরসন না হওয়ায় অর্থ পরিশোধ সম্ভব হয়নি।

অভিযোগ ওঠা শ্রমিকদের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইউসুফ আলী বলেন, ১২ কোটি টাকা নেওয়ার খবর গুজব। একটি নিউজপোর্টাল কোনো তথ্য ছাড়াই এ ধরনের নিউজ ছেপেছে। সেটির লিংক এখন পাওয়া যায় না।

এর আগে গত ৭ ফেব্রুয়ারি ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মালিকানাধীন গ্রামীণ টেলিকমের অবসায়ন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করা হয়। গ্রামীণ টেলিকমের শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের পক্ষে এ আবেদন দায়ের করা হয়।

এফএইচ/কেএসআর/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]