১২ কোটি টাকা ফি চাওয়া আইনজীবীর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০২:০০ পিএম, ০৩ জুলাই ২০২২

গ্রামীণ টেলিকমের অবসায়ন চাওয়া রিটকারী আইনজীবী ইউসুফ আলীর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ (ফ্রিজ) করা হয়েছে। তার মোট ৬টি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ছিল। সবকটি বন্ধ করা হয়েছে।

রোববার (৩ জুলাই) জাগো নিউজকে বিষয়টি নিজেই নিশ্চিত করেছেন ইউসুফ আলী।

১২ কোটি টাকা সমঝোতার অভিযোগ অস্বীকার করে সুপ্রিম কোর্টের এ আইনজীবী জানান, গ্রামীণ টেলিকম থেকে ১২ কোটি টাকা নিয়ে শ্রমিক-কর্মচারীদের বঞ্চিত করে মামলা প্রত্যাহার সংক্রান্ত যে তথ্য প্রচার করা হয়েছে তা ভিত্তিহীন, বানোয়াট, অসত্য।

তিনি বলেন, আমরা তথাকথিত সামাজিক ব্যবসার ধ্বজাধারী সুদখোর ইউসূনকে চুবানি দিয়েই সুদে-আসলে গ্রামীণ টেলিকমের শ্রমিক বন্ধুদের প্রাপ্য ন্যায্য পাওনা আদায় করে দিয়েছি।

এর আগে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ টেলিকমের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় রিটকারীদের এই আইনজীবীর বিরুদ্ধে ১২ কোটি টাকা ফি’র বিনিময়ে সমঝোতার অভিযোগ ওঠে।

এরপর ৩০ জুন এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেন হাইকোর্ট। তখন বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের হাইকোর্ট বেঞ্চ বলেছিলেন, বাংলাদেশ কেন, এই উপমহাদেশে এমন কোনো আইনজীবী জন্ম নেননি যার ফি ১২ কোটি টাকা।

আদালত আরও বলেন, আমরা শুনেছি শ্রমিকদের আইনজীবীকে অর্থের বিনিময়ে হাত করে তাদের মামলায় আপস করতে বাধ্য করা হয়েছে।

আদালতে গ্রামীণ টেলিকমের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার মোস্তাফিজুর রহমান খান। শ্রমিকদের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট ইউসুফ আলী।

হাইকোর্ট বলেন, আদালতকে ব্যবহার করে অনিয়ম যেন না হয়। যদি সবকিছু আইন অনুযায়ী না হয়, তবে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে। আমি চাই না আদালত এবং আইনজীবীর সততা নিয়ে কোনো প্রশ্ন ওঠুক।

এসময় আদালত বিস্ময় প্রকাশ করে আরও বলেন, বাংলাদেশ কেন, উপমহাদেশে এমন কোনো আইনজীবী জন্ম নেননি, যার ফি ১২ কোটি টাকা হবে। এরপর আদালত শ্রমিকরা কে কত টাকা ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন তার তালিকা দাখিলের নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে এ সংক্রান্ত নথিও দাখিল করতে বলা হয়েছে।

শুনানির একপর্যায়ে আদালত ড. ইউনূসের আইনজীবীকে বলেন, আপনি কত টাকা ফি নিয়েছেন? তখন আইনজীবী বলেন, আমি ২০ লাখ টাকা নিয়েছি। আদালত বলেন, আপনি তো ২০ লাখ নিয়েছেন, কিন্তু চাকরিচ্যুত শ্রমিকদের আইনজীবী কীভাবে ১২ কোটি টাকা নেন!

এ সময় আইনজীবীরা আদালতকে জানান, চাকরিচ্যুত শ্রমিকরা এখন পর্যন্ত ৩৮০ কোটি টাকা পেয়েছেন। বাকি আট শ্রমিকদের মধ্যে চারজন দেশের বাইরে থাকায় তাদের টাকা পরিশোধ করা হয়নি। চারজন শ্রমিক মারা যাওয়ায় তাদের ওয়ারিশ জটিলতা নিরসন না হওয়ায় অর্থ পরিশোধ সম্ভব হয়নি।

অভিযোগ ওঠা শ্রমিকদের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইউসুফ আলী বলেন, ১২ কোটি টাকা নেওয়ার খবর গুজব। একটি নিউজপোর্টাল কোনো তথ্য ছাড়াই এ ধরনের নিউজ ছেপেছে। সেটির লিংক এখন পাওয়া যায় না।

এর আগে গত ৭ ফেব্রুয়ারি ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মালিকানাধীন গ্রামীণ টেলিকমের অবসায়ন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করা হয়। গ্রামীণ টেলিকমের শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের পক্ষে এ আবেদন দায়ের করা হয়।

এফএইচ/জেডএইচ/এমকেআর/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]