১২ কোটির বিনিময়ে সমঝোতা ‘আষাঢ়ে গল্প’, দাবি আইনজীবী ইউসুফের

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:১৫ পিএম, ০৩ জুলাই ২০২২

মামলা সমঝোতার নামে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মালিকানাধীন গ্রামীণ টেলিকমের কাছ থেকে ১২ কোটি টাকার বেশি ফি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইউসুফ আলী বিরুদ্ধে। তবে আইনজীবী নিজে টাকার বিনিময়ে সমঝোতার এ অভিযোগকে ‘আষাঢ়ে গল্প’ বলে দাবি করেছেন।  

তিনি বলেছেন, আমি শ্রমিকদের পক্ষে গ্রামীণ টেলিকমের বিরুদ্ধে ২৩৯টি মামলা করেছি। আমি কতো টাকা নিয়েছি, সেটি বলতে চাই না। আমার মক্কেলরা যা দিয়েছে সেটা ফি হিসেবে নিয়েছি। অথচ সকালে বাংলাদেশ ব্যাংকে খোঁজ নিয়ে দেখলাম আমার ৬টি ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করা হয়েছে।

টাকার বিনিময়ে সমঝোতার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি আরও বলেন, গ্রামীণ টেলিকম থেকে ১২ কোটি টাকা নিয়ে শ্রমিক-কর্মচারীদের বঞ্চিত করে মামলা প্রত্যাহার সংক্রান্ত যে তথ্য প্রচার করা হয়েছে, তা ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও অসত্য।

তিনি বলেন, আমরা তথাকথিত সামাজিক ব্যবসার ধ্বজাধারী সুদখোর ইউসূনকে ‘চুবানি’ খাইয়ে সুদে-আসলে গ্রামীণ টেলিকমের শ্রমিক বন্ধুদের প্রাপ্য ন্যায্য পাওনা আদায় করে দিয়েছি।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি কত পেয়েছি সেটা বলতে চাই না। এটা ক্লায়েন্টের সঙ্গে আমার গোপনীয় চুক্তি। আমার মক্কেল যেটা দিয়েছেন সেটাই আমি পেয়েছি। আমার ক্লায়েন্টরা বড় অংকের টাকা পেয়েছে। আমাকে বড় অংকের ফি দিয়েছে। আমাকে নিয়ে ১২ কোটি টাকার যে গল্প বানানো হয়েছে তা সম্পূর্ণ আষাঢ়ে গল্প ছাড়া আর কিছু না। আমার ব্যক্তিগত তিনটি অ্যাকাউন্ট, আমার পার্টনারের দুটি আর আমার চেম্বারের একটা অ্যাকাউন্ট জব্দ করা হয়েছে।

রোববার (৩ জুলাই) এসব ব্যাংক হিসাব জব্দ করার পরই সুপ্রিম কোর্টে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন আইনজীবী ইউসুফ আলী।

তিনি বলেন, ক্লায়েন্টদের মধ্যে যারা তিন কোটি বা তার উপরে পেয়েছে তারা নিজেরা ঠিক করেছিল ১৫/২০ লাখ টাকা করে আমাকে দেবে। আমার ১০০ জন ক্লায়েন্ট তিন কোটি টাকার উপরে পেয়েছে। এ থেকে আপনারা ধারণা করতে পারেন আমি কত টাকা পেয়েছি। ক্লায়েন্টরা আমাকে হাসিমুখে ফি দিয়েছেন। তারা কারও কাছে অভিযোগ করেননি।

তিনি আরও বলেন, লিখিত চুক্তির শর্ত মোতাবেক গ্রামীণ টেলিকম সেটেলমেন্ট অ্যাকাউন্টে ৪৩৭ কোটি টাকা দেওয়ার পর প্রত্যেক শ্রমিক-কর্মচারী বিজ্ঞ তৃতীয় শ্রম আদালত, ঢাকাতে উপস্থিত হয়ে আদালতে জবানবন্দি প্রদান করে তাদের স্ব স্ব মামলা প্রত্যাহার করে নেন। একইভাবে তাদের অনুরোধে মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগে বিচারাধীন সকল রিট মামলা, আদালত অবমাননার মামলা এবং গ্রামীণ টেলিকম অবসানের প্রার্থনায় আনা আলোচিত কোম্পানি ম্যাটার নং ২৭১/২০২১ প্রত্যাহার করি।

‘এই মামলাসমূহ প্রত্যাহার করার পর, গ্রামীণ টেলিকমের শ্রমিক-কর্মচারীরা সন্তুষ্ট হয়ে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রেখে আমাদের ফি দিয়েছে’- বলেন তিনি।

এদিকে ১২ কোটি টাকায় সমঝোতার বিষয়টি জেনে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের হাইকোর্ট বেঞ্চ।

আদালত বলেছেন, আমরা শুনেছি শ্রমিকদের আইনজীবীকে অর্থের বিনিময়ে হাত করে তাদের মামলায় আপস করতে বাধ্য করা হয়েছে। কোর্টকে ব্যবহার করে অনিয়ম যেন না হয়। যদি সবকিছু আইন অনুযায়ী না হয়, তবে বিষয়টি সিরিয়াসলি দেখা হবে। আমি চাই না কোর্ট এবং আইনজীবীর সততা নিয়ে কোনো প্রশ্ন ওঠুক।

এদিন আদালতে গ্রামীণ টেলিকমের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার মোস্তাফিজুর রহমান খান। শ্রমিকদের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট ইউসুফ আলী।

গত ৭ ফেব্রুয়ারি নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মালিকানাধীন গ্রামীণ টেলিকমের অবসায়ন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করা হয়। গ্রামীণ টেলিকমের শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের পক্ষে এ আবেদন দায়ের করা হয়।

তিনি বলেন, গ্রামীণ টেলিকমের কাছে শ্রমিকদের পাওনা আড়াইশ কোটি টাকার বেশি। এ পাওনা টাকার দাবিতে কোম্পানিটির অবসায়ন চাওয়া হয়েছে।

মামলা সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে গ্রামীণ টেলিকমে শ্রমিক ছাঁটাইকে কেন্দ্র করে শ্রমিক অসন্তোষ চলে আসছে। শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়ন (বি-২১৯৪) সিবিএর সঙ্গে আলোচনা না করেই এক নোটিশে ৯৯ কর্মীকে ছাঁটাই করে গ্রামীণ টেলিকম কর্তৃপক্ষ। গ্রামীণ টেলিকমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আশরাফুল হাসান স্বাক্ষরিত এক নোটিশের মাধ্যমে এ ছাঁটাই করা হয়েছে। এরপর ওই নোটিশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট করেন ২৮ জন কর্মী। এই ছাঁটাইকে কেন্দ্র করে ড. ইউনূসকে তলব করেছিলেন হাইকোর্ট। ২০২১ সালের ৪ এপ্রিল শ্রমিকদের পুনর্বহালের নির্দেশ দেন আদালত।

এছাড়া গত বছরের ১২ সেপ্টেম্বর শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে গ্রামীণ টেলিকমের চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করে ঢাকার কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান অধিদপ্তর। ঢাকার তৃতীয় শ্রম আদালতে এ মামলা করেন কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান অধিদপ্তরের শ্রম পরিদর্শক আরিফুজ্জামান।

বিবাদীদের আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারিও করেছিলেন আদালত। মামলার অন্য আসামিরা হলেন- গ্রামীণ টেলিকমের এমডি আশরাফুল হাসান, পরিচালক নুর জাহান বেগম ও শাহজাহান।

এফএইচ/এমকেআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]