মানবতাবিরোধী অপরাধ: কুড়িগ্রামের আকবর মুন্সী কারাগারে

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:১৬ পিএম, ০৩ জুলাই ২০২২

একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে কুড়িগ্রামের আকবর আলী মুন্সীকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এ মামলার বিষয়ে পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ১৬ আগস্ট দিন ঠিক করেছেন আদালত।

রোববার (৩ জুলাই) ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এ নির্দেশ দেন। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন- বিচারপতি আবু আহমেদ জমাদার ও বিচারপতি কেএম হাফিজুল আলম।

আদালতে এদিন রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ সীমন, সাবিনা ইয়াসমিন খান মুন্নি ও প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তাপস কান্তি বল। আসামিপক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না।

বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেন প্রসিকিউটর সাবিনা ইয়াসমিন খান মুন্নি।

তিনি বলেন, এর আগে আসামি আকবর মুন্সীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়না জারি করা হয়েছিল। এরপরে তাকে শনিবার (২ জুলাই) কুড়িগ্রাম থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাকে ঢাকায় এনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তোলা হয়। শুনানি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।

প্রসিকিউটর সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, এ মামলায় মূলত আসামির সংখ্যা ছিল ১৩ জন। এর মধ্যে ১১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল আগেই। আর দুজন পলাতক ছিলেন। তাদের মধ্যে পলাতক থাকা অবস্থায় একজন গত বছর মারা গেছেন। আর অপর আসামি আকবর আলী মুন্সীকে গ্রেফতারের পরে আদালতের মাধ্যমে আজ কারাগারে পাঠানো হলো।

এর আগে, ২০২১ সালের ২১ অক্টোবর একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময়ে সংঘটিত হত্যা, গণহত্যা, নির্যাতন, অগ্নিসংযোগ, লুণ্ঠনসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর ও রাজারহাট উপজেলার ১৩ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন চূড়ান্ত করেছিল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা।

তদন্ত সংস্থার ৮০তম প্রতিবেদনে এক সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ১৩ আসামির মধ্যে ১১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। দুজন পলাতক রয়েছেন। তদন্ত প্রতিবেদনের তিন ভলিউমে ৩৭৫ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন চূড়ান্ত করা হয়।

গত ২৫ অক্টোবর রাজধানী ঢাকার ধানমণ্ডিতে সংস্থাটির কার্যালয়ে ওই তদন্ত প্রতিবেদনের সার সংক্ষেপ সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরেন তদন্ত সংস্থার প্রধান এম সানাউল হক। এসময় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা (আইও) মো. রুহুল আমীনসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এ মামলায় সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশের অভিযানে এরই মধ্যে মো. নুরুল ইসলাম ওরফে নুরুসহ ১১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে তদন্ত সংস্থার পক্ষ থেকে তখন পলাতক দুজনের নাম প্রকাশ করা হয়নি।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ১৩ আসামির বিরুদ্ধে ২০১৮ সালের ৩০ জানুয়ারি থেকে তদন্ত শুরু হয়ে ২০২১ সালের ২৪ অক্টোবর তদন্ত শেষ করা হয়। আটক, নির্যাতন, অপহরণ, গণহত্যা ও অগ্নিসংযোগের মোট ১৬টি অভিযোগ আনা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে ৭৪৫ জনকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, এ ১৩ জনের বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালে কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর ও রাজারহাট থানায় লুটপাট, অগ্নিসংযোগ, অপহরণ, আটক, নির্যাতন, ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে তদন্ত শেষ করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মোট ১৬টি অভিযোগ আনা হয়েছে।

আগে গ্রেফতার হওয়া আসামিরা হলেন— মো. নুরুল ইসলাম ওরফে নুর ইসলাম (৭১), এছাহাক আলী ওরফে এছাহাক কাজী (৭৩), মো. ইসমাইল হোসেন (৭০), মো. ওছমান আলী (৭০), মো. আব্দুর রহমান (৬৫), মো. আব্দুর রহিম ওরফে রহিম মৌলানা (৬৫), মো. শেখ মফিজুল হক (৮১), মকবুল হোসেন ওরফে দেওয়ানী মকবুল (৭২), মো. ছাইয়েদুর রহমান মিয়া ওরফে মো. সাইদুর রহমান (৬৪), মো. শাহজাহান আলী (৬৪), আব্দুল কাদের (৬৭)।

এফএইচ/আরএডি

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]